বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

বেইলী টাওয়ার লক ডাউন, আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি ভাল নয়। চাষাড়ায় বেইলী টাওয়ারে বসবাসরত এক ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিম দেওভোগ বাংলাবাজার আমবাগান বড়বাড়ি এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে একজন প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এলাকা লকডাউন হিসেবে ঘোষনা করেছে পুলিশ। 

বেইলি টাওয়ারে একজন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংবাদটি গোপন করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা গোপন থাকেনি। তার কাছে আসা রোগীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

জানাগেছে, গত ২৩ মার্চ রাতে তার জ্বর আসে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি বাসায় ছিলেন। গত ২৫ মার্চ তিনি ডাক্তার দেখাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহ হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে করোনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ডাক্তারদের পরামর্শে তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা করান। পরীক্ষা শেষে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। 

তিনি বেইলী টাওয়ারের ৮ম তলায় তিনমেয়ের মধ্যে দুইমেয়ে ও স্ত্রীসহ বসবাস করে আসছিলেন। আরেক মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ওই ডাক্তারের এসিটেন্ট জানান, স্যারের কয়েকদিন যাবৎ জ্বর ছিল। স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তারা স্যারকে (বসাক) করোনা টেস্ট করাতে বলেন। 

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এবং তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আমরা সবাই নিশ্চিত হয়েছি। এদিকে করোনায় আক্রান্তের খবরটি শনিবার জানাজানি হওয়ার পরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বেইলী টাওয়ারে বসবাসরত অন্যান্য ফ্ল্যাটের ৩৪টি পরিবার।

বেইলী টাওয়ার ফ্ল্যাট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী যুগের চিন্তাকে জানান, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে আমরা সন্দেহ করেছিলাম। শনিবার তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন শুনে সাথে সাথেই আমরা বেইলী টাওয়ারের লিফট ও গ্যারেজ বন্ধ করে দিয়েছি। পুরো ভবনের সবাই নিজেরাই নিজেদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি। 

কিন্তু ডাক্তারের দুই মেয়ে ও স্ত্রী বারবার আসা-যাওয়া করেছেন। পুরো ভবনের সবাই আতঙ্কিত। কিছু বুঝতে পারছিনা। আমরা তার বাসার দরজার নিচ দিয়ে চিঠি দিয়ে তাদের বের না হতে বলছি। বেইলী টাওয়ারে করেনায় আক্রান্ত হয়েছেন যার কারণে পুরো ভবনের সবাই দুঃশ্চিন্তায় ও আতঙ্কিত। আমরা কি করবো, না করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা। 

একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই ডাক্তার কোথা থেকে করোনায় আক্রান্ত হলেন, উৎস হিসেবে কে কাজ করেছে তা কেউই বলতে পারছেনা। তবে অনেকে ধারণা করছেন, তিনি নিয়মিত তার চেম্বারে রোগী দেখতেন। সেখান থেকেই হয়তো কোন রোগীর মাধ্যমে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।    

জেলা করোনা ফোকাল পারসন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ওই ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে আইইডিসিআর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরে পপুলার হাসপাতালসহ ঢাকার একটি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছেন। 

শেষে তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে করোনা টেস্ট করান। এবং তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এটি জানার পর থেকেই ওই ভবনের সভাপতি নিজেরাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বাকিদের বলেছেন। আমাদেরও জানিয়েছেন। 

আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। ডা.বসাক ঢাকাতেই আইইডিসিআর এর পর্যবেক্ষণে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন। তার পরিবারের সবাই এবং তিনি যেখানে রোগী দেখতেন অর্থাৎ তার চেম্বারের এসিট্যান্টসহ সকলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। 

আমরা ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিক সভাপতিকে নিজেদের ফ্ল্যাটসহ পুরো ভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা অবলম্বন করতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’  

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘তারা যেহুতু হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন, সেহুতু লক ডাউন করার প্রয়োজনীয়তা নেই। আমরাও সতর্ক নজর রাখছি।’ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নাহিদা বারিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘পুরো বিষয়টি আমি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
 

এই বিভাগের আরো খবর