সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে রশীদ

প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী ১৮ জুন শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

 

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ড বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে এমএ রশীদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

 

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র পাওয়ার পর এমএ রশীদ তাঁর অনুভূতিতে বলেছেন, ‘নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে তিনি প্রস্তুত। জয় সুনিশ্চিত।’
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এমএ রশীদ জয়ের ব্যাপারে যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তা আরো সহজ হওয়ার পথে রয়েছেন। স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী না হলে এমএ রশীদের কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই থাকছেনা তার।

 

এই নির্বাচনে বিএনপি কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবল সম্ভাবনা থাকা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, এনির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করছিনা। যেহুতু দল কোথাও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছেনা। আমিও দলের সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিচ্ছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আতাউর রহমান মুকুল বলেন, আমি কখনোই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছিনা। 

 

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকেও বন্দর উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রার্থী দেয়া হবেনা বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবু জাহের। যুগের চিন্তা ২৪’কে তিনি বলেন, যেহুতু আওয়ামী লীগের সাথে আমরা মহাজোটে রয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ আমাদের ছাড় দিয়েছিলো। আমরাও বন্দরে সেটির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কোন প্রার্থী দিচ্ছিনা। এবিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিতই বলা যেতে পারে।  

 

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো বড় দুটি দল নির্বাচনে প্রার্থী না দেয়ায়  বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমএ রশীদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার পথেই রয়েছেন। যদি স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী কিংবা ছোট দলগুলোর কোন প্রার্থীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেখা যায় তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে  নির্বাচিত হবেন এমএ রশীদ। আর ছোট কোন দলের প্রার্থী দেয়া হলেও তারা এমএ রশীদের সাথে তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই গড়ে তুলতে পারবেনা। আর সেক্ষেত্রেও এমএ রশীদের সহজ বিজয় দেখছেন সবাই। 

 

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এমএ রশীদ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান এবং মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠায়। এমএ রশীদের নাম ঘোষণা করায় কোন রকম বিভেদ না তৈরি করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আওয়ামী লীগের সকল ইউনিট একসাথে করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

 

প্রসঙ্গত, ৯ মে বন্দর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে, প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩১ মে।

 

বন্দর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৫৮ হাজার ৩২৫ এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ২৬৪ জন। বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৪টি এবং ভোটকক্ষ সংখ্যা ৩২৪টি। ইভিএমে অনুষ্ঠিত হওয়া বন্দর উপজেলা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিন্টু ব্যাপারী।  
 

এই বিভাগের আরো খবর