সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৪ ১৪২৬   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বান্ধবীকে ধর্ষকদের হাতে দিলো বান্ধবী, আটকে রেখে টাকা দাবী

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : কথা ছিল বান্ধবী মৌসুমীর বাড়িতে বেড়াতে আসবে লতা (ছদ্মনাম)। সেই অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ আরাফাত নগর এলাকায় প্রেমিক শামীমকে সাথে নিয়ে বেড়াতে আসে সে। শুক্রবার দুপুরে বান্ধবী মৌসুমী,প্রেমিক শামীম ও লতা ঐ বাসা থেকে বেড়াতে যায় বক্তাবলী এলাকায়। 


সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাড়িতে ফেরার পথে বক্তাবলী প্রতাপনগরে ছলিম মিয়ার ইটভাটায় গনধর্ষনের শিকার হয় লতা (১৭)।  বিষয়টি লতা তার পরিবারকে মোবাইলে জানালে পরিবারের লোকজন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। 


শনিবার  রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতের অভিযোগে বান্ধবীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করে। লতার বান্ধবী মৌসুমীকে ধর্ষণের ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষিত পরিবার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছে থানা সূত্র।    


ঈদ উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জের গার্মেন্টস কর্মী লতা ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে বান্ধবী মৌসুমীর বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা। সেই অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে লতা তার প্রেমিক শামীমকে সাথে নিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। 


প্রেমিককে লতা তার নিজের স্বামী বলে পরিচয় দেয় বান্ধবীর পরিবারে কাছে। শুক্রবার দুপুরে বান্ধবী মৌসুমী,প্রেমিক শামীম ও লতাসহ অপর একজন ব্যাক্তি মোক্তারপুর ব্রিজে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়।  শুক্রবার রাতে সবাই বাসায় ফেরে। এমনটিই জানিয়েছে মৌসুমীর বাবা আমির হোসেন। 


ধর্ষণের শিকার তরুনী জানায়,সন্ধ্যায় বক্তাবলী থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ইট ভাটার ভিতর সাথের লোকজনদের সামনে থেকে তাকে  টেনে হিচড়ে নিয়ে যায় বেশ কয়েকজন যুবক।  এরপর একটি খুপরি ঘরে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় বান্ধবী লতা,প্রেমিক শামীম  অপর একজন ব্যাক্তি দূরে দাড়িয়ে ছিল বলে জানায় সে। 


ধর্ষিতার পরিবার জানায়,লতার  পরিবার ও মৌসুমী তার স্বামীকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো। সেই সুবাদে তাদের মাথে পরিচয় হয় উভয়ের। ঈদের আগে মৌসুমী তাদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে লতাকে। 


লতা বৃহস্পতিবার বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেড়াতে গেলে গন ধর্ষণের শিকার হয় লতা। এরপর লতা ও তার প্রেমিক শামীমকে বান্ধবী মৌসুমী তাদের বাড়িতে আটকে রেখে ৪০ হাজার টাকা দাবী করেন বলে।  
 
মৌসুমীর বাবা আমির হোসেন বলেন,বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯ টার দিকে তার মেয়ের বান্ধবী লতা ও শামীম  নামে একজন ব্যাক্তি বাড়িতে বেড়াতে আসে। মেয়েটি শামীমকে তার স্বামী বলে পরিচয় দেয়। পর দিন দুপুরে লতা  মুক্তারপুর ব্রিজে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। 


এসময় তার মেয়ে ও একজন আত্মীয় তাদের সাথে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়েটি বাসায় আসে। এ সময় সে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কথা শুনে প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা ও করা হয়।  কিন্তু ধর্ষণের কোন ঘটনার কথা তিনি জানেন না বলেও জানান। 


শনিবার দুপুরে পুলিশ তার বাড়িতে ছেলে ও ছেলে অপর একজন বন্ধু ও মেয়েকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এময় শামীমকেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তবে শনিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে শামীমকে ছেড়ে দিয়েছে দেয় পুলিশ। 

 

এব্যাপারে ফতুল¬া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন,গণধর্ষণের শিকার তরুণী ও তার বন্ধুকে উদ্ধার করা হয়েছে। 


ঘটনার পরিকল্পনাকারী ধর্ষণের শিকার তরুণীর বান্ধবীসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৌসুমী এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর