বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৪ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন নুসরাত

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : যৌন হয়রানির প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নুসরাতের মৃত্যুর খবরে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতশত মানুষ সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মেঝ মৌলভী বাড়িতে ভিড় করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরের পর নুসরাতের মরদেহ ঢাকা থেকে বাড়িতে পৌঁছাবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।


চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবা (১০ এপ্রিল) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা মারা যান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। নুসরাত সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামেরর মাওলানা এ কে এম মুসার মেয়ে।


নিহত নুসরাতের চাচাতো ভাই মুহাম্মদ উল্লাহ ফরহাদ বলেন, নুসরাতের মরদেহ বাড়িতে আনার পর বাদ আসর সোনাগাজী মো. সাবের সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।


গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এই বিভাগের আরো খবর