শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

বাংলাদেশে ষড় ঋতুর অস্তিত্ব অনুভব ভাগ্যের ব্যাপার

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৪ মে ২০১৮

মোরছালীন বাবলা : প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব এখন বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে শুরু করেছে। এক সময় ছিলো ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে কখন বর্ষা আসবে, কখন শীত পড়বে কখন বসন্ত নামবে কিংবা কখন গরম পরতে শুরু করবে তা সব মানুষেই বুঝতে পারতেন। প্রকৃতি ঘড়ির কাটা ধরেই যেন পথ চলতো। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই।

আজ ষড় ঋতুর অস্তিত্ব অনুভব যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতকালে শীত পড়ছেনা, বর্ষাকালের আগেই অতি বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, আগাম বন্যায় সবকিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বেড়ে গেছে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা। প্রকৃতি এরূপ বিরুপ আচরণে দিনে দিনে আতংকিত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের মানুষ। খাদ্য নিরাপত্তাও এখন হুমকিরমুখে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, জীব বৈচিত্রের এই দেশে ২শ’৬৬ প্রজাতির অভ্যন্তরণীন মৎস, ৪শ৪২ প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস, ২২ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১শ’২৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩শ’৮৮ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, ২শ’৪০ প্রজাতির অতিথি পাখি, ১শ’১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৫ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদ রয়েছে। নানা ধরণের বনভূমি, পত্রঝরা বনাঞ্চল, চিরহরিৎ বনাঞ্চল, প্যারা বন বা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে এ দেশে। পৃথিবীর বৃৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন রয়েছে আমাদের।

এদেশের মানুষ, পশু-পাখি সবকিছু জীববৈচিত্র প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদীতে লবনাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মিঠা পানিতে মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিথি পাখির আগমনও আগের মতো দেখা যাচ্ছেনা। উত্তরাঞ্চলে অধিক কুয়াশার কারণে আমসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন কমে গেছে। বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নার্গিস, বিজলীসহ ৮৮ এবং ৯৮’র বন্যায় দেশ জুড়েই ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

ইকো সিস্টেম পরিবর্তন করে দিয়েছে এসব দুর্যোগ। এক সময় গর্তের মধ্যে যে সকল জীব বসবাস করতো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই সংখ্যাও কমে গেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপসমূহ এবং সুন্দরবনের ২০ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে করে প্রাণহাণীর পাশাপাশি অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর