মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

বল্টু আমজাদ বাহিনী আবারো বেপরোয়া, ভীতসন্তস্ত্র মামলার বাদী

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : গৃহবধূ ববিকে উত্যক্ত করায় স্বামী শাহীন প্রতিবাদ করলে ২৮ জুন বন্দরের বাকতারকান্দি এলাকার সন্ত্রাসী আমজাদ ওরফে বল্টু আমজাদ প্রকাশ্য দিবালোকে তার বাহিনী নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনকে কোপানোর ১৩ দিন পরও পুলিশ সন্ত্রাসী আমজাদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

 

ঘটনার পর দুটি মামলা দায়েরের পর বল্টু আমজাদের ছেলে আপন (১৯), ভাতিজা (২১) গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে দুই মামলার বাদি ও তাদের স্বজনদের হত্যার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এক মামলার বাদি তাহেরুল ইসলাম রুবেল।

 

তিনি জানান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুন আসামীদের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করার পর থেকেই বল্টু আমজাদ ও অন্যান্য আসামীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘ঘ’ অঞ্চল নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালত থেকে আসামীরা জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে বেপরোয়া আচরণ করছে। মামলা প্রত্যাহার করে নিতে তারা হুমকি দিচ্ছে।


রুবেল জানান, বল্টু আমজাদের নামে এখানো ২২টি মামলা রয়েছে। আমার বড় ভাই আকবর হোসেনকেও ওইদিন কুপিয়েছে সে।  ঘটনার পর বন্দর থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে আমজাদ ও তার পুত্ররা পলাতক ছিলো। এঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। মানববন্ধনসহ আমজাদ ও তার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সভা সমাবেশ হয়। তার ছেলে ও ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করলেও তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। 


রুবেল বলেন, সন্ত্রাসী বল্টু আমজাদ একদিনে বেড়ে উঠেনি। বরং ধীরে ধীরে সরকারী দলের নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে হয়ে উঠে দুর্ধর্ষ হিসেবে। ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকেন তিনি। প্রভাব বিস্তারের জন্য তিনি ব্যবহার করেন এমপি ও প্রভাবশালীদের ছবি।

 

অথচ বন্দর থানা পুলিশের তালিকায় তিনি ৬ নাম্বার আসামী। ইতোপূর্বে তার বিরদ্ধে উঠেছিল ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি সহ নানা অভিযোগে প্রায় ২২টি মামলা চলমান আছে। আমজাদের এ বাজে চরিত্রের কারণে নিজ স্ত্রীও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে মারধর করে একবার পালিয়ে গেলেও ছিলেন অধরা। যদিও ২০১৭ সালের মে মাসে বল্টু আমজাদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

 

এখনো বল্টু আমজাদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। যাদের ধরেছেন তারা জামিনের বের হয়ে আমাদের পুরো পরিবারকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। 


প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন বন্দরে তার নেতৃত্বে শাহীন নামের একজন রং মিস্ত্রীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।  সেটাও হয়েছে প্রকাশ্যে।
আহত শাহীন সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা এর আগেও একাধিকবার তার স্ত্রী ববিকে ইভটিজিং ও শারীরিক ভাবে হেনস্তা করেছে।

 

এ ব্যাপারে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। এর জের ধরেই শুক্রবার সকালে শাহীনের সামনে স্ত্রীকে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালমন্দ করে স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন। এতে প্রতিবাদ করে শাহীন।

 

পরে আমজাদ তার সহযোগিদের নিয়ে ২৮ জুন শুক্রবার দুপুরে হামলা চালিয়ে প্রথমে মারধর পরে দেশী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা এসে বাধা দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে বল্টু আমজাদের  লোকজন শাহীনের উপর হামলা চালায়।

 

এতে শাহীনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সে সুস্থ আছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী ববি আক্তার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

 

আসামিরা হলো, বল্টু আমজাদ (৪৭), মনির (৫২), আপন (১৮), আকাশ (২৫) ও কিশোর ওরফে শফিক (৩৫)।  কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পুলিশকে তথ্য দেওয়ায় ওইদিনই একই এলাকার তাহেরুল ইসলাম রুবেলকে মারধর করে বল্টু আমজাদ বাহিনী। এসময় রুবেলের ভাই আকবর এগিয়ে আসলে তাকেও কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। বল্টু আমাজ বাহিনীর হামলায় টেঁটাবিদ্ধ হন আকবর। এঘটনায় রুবেলও বাদী হয়ে ১২জন আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। দুই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সকল আসামীই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। অনেককে গ্রেপ্তারই করতে পারেনি পুলিশ। 

 


স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কোপানোর ঘটনায় মুখ খোলেন এলাকাবাসী। তারা বল্টু আমজাদ সহ সহযোগীদেও দ্রুত  গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে মামলার বাদী ববি আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, বাকতারকান্দি এলাকার মূর্তমান আতংকের নাম বল্টু আমজাদ। এমন কোন অপকর্ম নেই বল্টু আমজাদ করেনি।

 

বল্টু আমজাদের  ছেলে পেশাদার মাদক বিক্রেতা হৃদয় ও আপন তার ভাই টুন্ডা মনিরসহ পরিবারের সকলেই অবৈধ বালু ড্রেজার ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাকতারকান্দি এলাকার দাগী সন্ত্রাসী বল্টু আমজাদ, টুন্ডা মনির, হৃদয়, আপনসহ সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 
 

এই বিভাগের আরো খবর