রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

বঙ্গবন্ধু চত্বরের উদ্বোধন করলেন মেয়র আইভী

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : চাষাঢ়া শহীদ মিনার একসময় ছিল নগরবাসীর জন্য একটু হাফ ছেড়ে নিঃশ্বাস ছাড়ার জায়গা। দেওভোগে শেখ রাসেল নগর পার্ক উদ্বোধনের আগেই আংশিক খোলা পেয়ে বিশুদ্ধ বাতাস নেয়ার একটা উপায় খুঁজে পায়। শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে, নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি হয়ে কাশীপুর হাজী উজির আলী স্কুল হয়ে খাল খনন ও ওয়াকওয়ে তৈরির কাজ চলছে। তবে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরের একেবারে মাঝে ২নং রেলগেট এলাকায় আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কের শুরুতে বঙ্গবন্ধু চত্বর শহরবাসীর নজর কেড়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দিন ও জাতীয় শিশু দিবসে  বঙ্গবন্ধু চত্বরের উদ্বোধন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই বঙ্গবন্ধু চত্বরের উদ্বোধন করেন মেয়র। 

 

নাসিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বঙ্গবন্ধু চত্বরের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। এর নকশা প্রণয়ন করেছেন, স্থপতি নুরুজ্জামান এবং বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তির ভাস্কর ছিলেন, শিল্পী রিংকু অনিমিখ।

 

বঙ্গবন্ধু চত্বরে ঢুকতেই রয়েছে হাটার রাস্তা, রাস্তার দুপার্শ্বে রয়েছে বৃক্ষশোভিত কংক্রিটে নির্মিত বসার স্থান। উত্তর পাশে লাল ইটের দেয়ালের সামনে রয়েছে দুটি ছোট আকারের উন্মুক্ত মঞ্চ। পূর্ব  থেকে পশ্চিম দিকে কৌণিক হয়ে যাওয়া এ চত্বরের ঠিক পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় সম্বলিত ফলক এবং তারঁ আবক্ষ মূর্তিটি । যা উদ্বোধনের পর থেকেই সবার নজরকাড়ে।

মেয়র আইভী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই বঙ্গবন্ধু চত্বরে স্থাপতি বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান, নারায়ণগঞ্জ  জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেকলীগ, মহানগর যুবলীগের এবং জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,  সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, মহানগর যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল,  জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, নাসিক প্যানেল মেয়র-১ আফরোজা হাসান বিভা, নাসিক সিইও মো. আবুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসগর হোসাইন প্রমুখ। 

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা সবাই বঙ্গবন্ধু চত্বর ও তাঁর আবক্ষ মূর্তি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শহরের বুকে বঙ্গবন্ধু বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

 

নন্দীপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক তরুণী তার সাথে থাকা কয়েকজনের সাথে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘দেখ দেখ বঙ্গবন্ধু’। তার মতো আরো সেখানে উপস্থিত অনেকেই উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন।

 

শহরের আমলাপাড়া থেকে আসা জাহিদ মামুন নামের এক তরুণ বলেন, এখানে আগে একটি বিল্ডিং ছিল। যতদূর দেখেছি সেটি ভেঙে শহরে মধ্যে এ ব্যস্ততাম ও গিঞ্জি এলাকায় দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবনধু চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আসলে কিছুটা হলেও বঙ্গবন্ধু সর্ম্পকে জানা যাবে। তাঁর ভাস্কর্য দেখে অন্তত আমরা প্রেরণা পাবো।

 

দেওভোগ এলাকার মোকলেস মিয়া নামে একজন বলেন, এ শহরে আগে বসার জায়গা তো দূরের কথা ঠিক মতো হাঁটার জায়গাও ছিল না। আইভী আপা তখনকার সময়ে পৌরসভার মেয়র হওয়ার পর থেকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের আধুনিকায়ন করেছেন। সেখানে আড্ডাসহ মানুষের নিঃশ্বাস  ফেলার, বসার একটি জায়গা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার পর  দেওভোগের রাসেল পার্ক নির্মাণ করছেন। সর্বশেষ এ বঙ্গবন্ধু চত্বরের উদ্বোধন করলেন। শহরের একটি ব্যস্ততম জায়গায় হওয়ায় শিশু, নারী প্রবীণসহ পথিকরা বসে বিশ্রাম করতে পারবে। আমি মনে করি শহরে এমন আরো স্থাপনা নির্মাণ করা উচিৎ।

 

এব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, শহরে মানুষের বসার জায়গা নেই বললেও চলে। এ বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণের মাধ্যমে সে জায়গার কিছুটা সংস্থান হলো। আজ যেটা উদ্বোধন হলো সেটা জনগনের স্বার্থে যেন ব্যবহার হয়। এবং পরবর্তীতে এর সংস্কারসহ যেন ঠিকমতো তত্ত্বাবধান করা হয়।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূর উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, এটি উন্মুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকার বয়ে আনেবে। সিটি করপোরেশন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের বসা এবং চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করেছে। আর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল যেটা এখানে স্থাপন করেছে। অবশ্য সেখানে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি রয়েছে। কিন্তু  সেখানে শুধু দলীয়ভাবে কার্যক্রম পালন করেন। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু কোনো দলের না, তিনি  দেশের সবার। তিনি জাতির বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতির চেতনার উন্মেষকারী, আমাদের জাতির পিতা। বিভিন্ন দিবসে বঙ্গবন্ধুর অনুরাগী অনেকে সেখানে যেতে চাইলে দল না করার কারণে সেখানে যেতে পারেন না। এখানে  যে মুর‌্যাল স্থাপন করা হয়েছে এর পাদদেশে সবাই সম্মান জানানোর একটা স্থান হলো। এটা আমাদের সবার জন্য একটা ভলো দিক বয়ে বলে আমি মনে করি। আর শহরের মধ্যে উন্মুক্তভাবে এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর একমাত্র আবক্ষ মূর্তি।

 

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, মেয়রকে অভিনন্দন এখানের একটি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দৃষ্টিনন্দন এই চত্বরটি করারর জন্য। তবে আমরা যারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আছি আমদের দাবি ছিল এখানে আরো একটু খোলামেলা রেখে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ করার জন্য। যাতে এখানে ছোট-খাটো দুই-একটি অনুষ্ঠান করা যায়। এখানে যা হয়েছে মানুষের বসার জায়গা, বিশ্রামের জায়গা হয়েছে। এজন্য মেয়রসহ সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই।

২০১৯ সালের ২০ জুন ২নং রেলগেট এলাকায় দেওভোগ আলী আহম্মদ চুনকানকা সড়কের মুখে (যেখানে বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে) ১৯৪৩ সালে নির্মিত রহমত মুসলিম ইনস্টিটিউট ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। পরে এখান চত্তর নির্মাণের কাজ শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) কর্তৃপক্ষ। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রহমতউল্লাহ ইনস্টিটিউটের পুরনো ভবনটি ভাঙার বেশ আগেই তৎকালীন পৌরসভার মাধ্যমে রাজউক পাশেই ২৪ শতাংশ জায়গার উপর একটি বহুতল ভবন ‘রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউটের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর