মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ১ ১৪২৬   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

ফের হাফিজুল, মুন্সী, আসাদে হকার ইস্যুতে উত্তেজনা (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে তো বটেই আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যে কলঙ্ক তৈরির একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের সমর্থন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের  (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মেয়র, সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। এঘটনার নেপথ্যে ১৬ জানুয়ারির আগের দিন ১৫ জানুয়ারি চাষাঢ়া একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ করাটাকেই দায়ী করা হয়।

 

কমিউনিস্ট পার্টি  নেতা হাফিজুল ইসলাম, হকার্স লীগ নেতা রহিম মুন্সী এবং আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে সারা শহরের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে নগরীর ফুটপাত দখলের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। তারা তিনজনই মূলত হকারদের উস্কে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলো হকাররাই। আর সেসভায় সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমান ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে হকার বসবে বলে আল্টিমেটাম দেন। আর ১৬ জানুয়ারি ঘটে সেই কলঙ্কময় ঘটনা। জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সেটির তদন্ত রিপোর্ট এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

 

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কদিন আগে পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়ে এসপি হারুন অর রশীদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন যে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যই কাজ করবেন। যেই কথা সেই কাজ। নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দেন। ফুটপাত দখলে কোন পুলিশও যদি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। নগরীর সড়কগুলোতে নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আপ্রাণ চেষ্টায় ১৫ জুন থেকে ফুটপাতগুলো দখলদারমুক্ত করতে সমর্থ্য হন।

 

নগরবাসী ফাঁকা ফুটপাত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। বেশিরভাগ হকাররাও বুঝতে পারেন মূলত ফুটপাত দখল করার কারণেই নগরীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে, ছিনতাইকারী, পকেটমারের উপদ্রব বাড়ে। এছাড়া পুরো নগরে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। যার দরুণ হকাররা পুলিশ সুপারের এসব গৃহিত কার্যক্রম শান্তির্পূণভাবে মেনে নিয়েছিলেন। পুলিশ সুপার এসব হকারদের জন্য পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় কথা বলবেন বলেও বক্তব্যে জানায়। এতে অনেকটা স্বস্তিতে ছিলেন হকাররা। প্রায় ১ মাস পর অদৃশ্য কোথাকার ইঙ্গিত পেয়ে হকারদের সাথে নিয়ে ঘোলা পানিতে আবারো মাছ শিকারে নেমেছেন হাফিজুল ইসলাম, হকার্স লীগ নেতা রহিম মুন্সী এবং আসাদ। গেলো সপ্তাহে শামীম ওসমানের সাথে দেখা করার কথা বলে হকারদের জড়ো হতে বলেছিলেন শহীদ মিনারে। কিন্তু এমপি শামীম ওসমানও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে হকারদের সাথে দেখা করেননি। কিন্তু পানি ঘোলা ছাড়া বাড়ি ফিরতে নারাজ হাফিজ, রহিম ও আসাদ।

 

এরআগেও পানি ঘোলা করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলো তারা তিনজন। কিন্তু আগের জেলা প্রশাসক তাতে কান দেননি। নতুন জেলা প্রশাসকের কাছেও আগের মতোই স্মারকলিপি দেয়ার মূল নাটের গুরু তারা তিনজন। তাদের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।  সমাবেশ চলাকালে ও স্মারক লিপি জমা দিতে লিংক রোড হয়ে যাবার সময় অনেকেই এসব আয়োজনের নাটের গুরু হিসেবে হাফিজুল ইসলামের দিকেই আঙ্গুল তোলেন। জমা দেয়া স্মারকলিপিতে হকাররা বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতে বসার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। 

এরআগে সমাবেশে হাফিজ, রহিম মুন্সী ও আসাদের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশ বিপ্লবী  ওয়ার্কার্স পাটি সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু বলেন, ‘কখনো দেখি পুলিশ সুপার তিনি তার সাঙ্গো পাঙ্গো নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। ভারতীয় ছবি সিংঙ্গামের চরিত্রে অভিনয় করেন । হকারদের পেটে লাথি মারেন একদিকে পুলিশ সুপারের অভিনয় আরেক দিকে মেয়রের অভিনয় দুই অভিনয় মাঝে হকারদের জান শেষ । বিভিন্ন সময় দেখা গেছে নাসিক মেয়র ও এমপিদের  তাদের  আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় ক্যাডার বাহিনীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এমনকি রিসিপ্ট করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছেন। আর পুলিশের চাঁদাবাজি তো আছেই।  

 

সিপিবির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, হকারদের উচ্ছেদ এটা নতুন কিছু নয় যখন কোন অগণতান্ত্রিক সরকার বা যখন কোনো স্বৈরাচারি সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন প্রথম আঘাত আনা হয় গরীব মানুষের উপর।  তাদের  এক নাম্বার টার্গেট থাকে বস্তিবাসী, হকার আর রিক্সাচালক, দিনমজুর , খেত-মজুরদের উপর ।

 

হাফিজ বলেন, স্বৈরাচারী সরকার এরশাদ যখন বাংলাদেশে মসনদে দখল করেছিলো তখন প্রথম সারা বাংলাদেশে হকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করেছিলো। হকারদেরকে উচ্ছেদ করতে পারে নাই। হকার উচ্ছেদ করে  কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। পরবর্তীতে যখন অসংবিধানিক সরকার স্বৈরাশাসন কায়েম করতে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন  এসেও হকারদের, বস্তিবাসীদের উপর আঘাত করেছে । আপনারা হকারদের দেরকে পুনর্বাসন করে হকার উচ্ছেদ করুন। একটি হকার রাজপথে থাকবে না ফুটপাতে থাকবে না। আপনারা ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করবেন এই অবস্থা চলতে দেয়া যেতে পারে না।

 

হকার্স লীগ নেতা রহিম মুন্সি বলেন, ‘আমরা সামান্য পুঁজি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হকারী ব্যবস্যা করি। কিন্তু হঠাত করে আমাদেরকে উচ্ছেদ করে  এইভাবে নির্যাতন করা হয়। আমাদের বার বার আশ্বাস দিয়ে আসছে আমাদের পুর্নবাসন করবে কিন্তু এখন পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হয় নাই। আমরা মেয়র,  জেলা প্রশাসকের কাছে হকারদের তালিকা দিয়েছি তাতেও এখন পর্যন্ত কিছুই হয় নাই। মেয়রকে জানাতে চাই আমাদেরকে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত আমরা ফুটপাতে ব্যবসা করতে চাই।’

 

হকার নেতা আসাদুল ইসলাম আসাদ, ‘আমরা কোন অপরাধী না। আমরা রাষ্ট্রবিরোধী কিছুই করি নাই। আমাদের অপরাধ একটাই আমরা বাঁচতে চাই।   আমাদের পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’

সমাবেশ শেষে হকাররা স্মারকলিপি দিতে গেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন বলেন, ‘সমস্যাটি যেমন আপনাদের (হকার) আবার এই ফুটপাত দিয়ে আপনাদের বোনেদের, মায়েদের  চলাচলের সমস্যা হয়। ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানোর কাজটি এখানে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে কেউ কিছু করে নাই। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর উপকারের জন্য করেছি । আপনাদের বিষয় নিয়ে পুলিশ সুপারের সাথে বসে কথা বলে দেখবো।’
 

এই বিভাগের আরো খবর