বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

ফুলবাড়ী দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৯  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (যুগের চিন্তা ২৪) : ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের স্মরণে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। 


সেমাবার (২৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে চারটায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ পুষ্পস্তবক অর্পণ, সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২৫ আগস্ট) সকালে সংগঠনের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী দিবস। ২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক গণ-বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল। এতে ছয় জনের মৃত্যুসহ তিন শতাধিক আহত হয়েছিলেন।


১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ব্রিটিশ কোম্পানি এশিয়া এনার্জির সাথে দেশে ভূগর্ভস্থ সম্পদ অনুসন্ধান চালানোর জন্য চুক্তি করেছিল। পরে ২০০৫ সালে কোম্পানী অনুসন্ধান শেষ করলে বিএনপি সরকার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য এশিয়া এনার্জির সাথে নতুন করে চুক্তি করে। সে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উত্তোলিত কয়লার পুরোটার অর্থাৎ পুরো কয়লাখনির মালিক হবে এশিয়া এনার্জি। উত্তোলিত কয়লা রপ্তানি অথবা বিক্রয় করার পুরো অধিকার থাকবে এশিয়া এনার্জির। উত্তোলিত কয়লার মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি হিসেবে পাবে বাংলাদেশ আর ৯৪ শতাংশ পাবে এশিয়া এনার্জি। 

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সরকারের আত্মঘাতি ও দেশ বিরোধী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেদিন ফুলবাড়ী ও দিনাজপুরের সকল জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। দেশের মানুষ সরকারের সে সিদ্ধন্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী ও এর পার্শবর্তী অঞ্চলের লক্ষজনতা এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের গড়ে তুলে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকার সে গণআন্দোলনকে প্রতিহত করতে পুলিশ ও বিডিআর দিয়ে নিরীহ জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তরিকুল, সালেকিন, আল আমিনসহ ছয় জনকে হত্যা করেছিল। 

 

২৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলা আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীতে কোনও  প্রশাসন ও এশিয়া এনার্জির কোনও কর্মকর্তা ছিল না। সবাই পালিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ প্রহরায় এশিয়া এনার্জির কর্মকর্তারা পালিয়ে এসেছিল। জনগণের সে প্রতিরোধের মুখে সরকার তখন উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আন্দোলনরত জনগণ ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ জাতীয় কমিটির সাথে ৬দফা  চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিল। এশিয়া এনার্জির সাথে সকল চুক্তি বাতিল করে তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধন্ত গৃহীত হয়েছিল। 


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেই সময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তারা কখনো ক্ষমতায় গেলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইন করবেন এবং ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন। অথচ এগারো বছর ক্ষমতায় থাকলেও আজো পর্যন্ত তারা ফুলবাড়ী চুক্তির বাস্তবায়ন করেনি এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিপক্ষে কোনও আইন পাশ করেনি। 


অপরদিকে এশিয়া এনার্জি তাদের নাম বদলে গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্ট (জিসিএম) নামে দেশে ও যুক্তরাজ্যে ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপ-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ফুলবাড়ীকে দেখিয়ে শেয়ার বিক্রি করে চলেছে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতিগ্রস্থ একটি অংশের মদদেই তারা দেশ বিরোধী এ তৎপরতা চালাতে পারছে। 

এই বিভাগের আরো খবর