শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

ফতুল্লায় স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ঝলসে গেল স্বামী

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার : ছাদে ভেঁজা কাপড় শুকাতে গিয়ে প্রথমে স্ত্রী পরে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামী বিদুৎপৃষ্ট হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে একইস্থানে সুমি নামে আরো প্রতিবেশী নারী দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৩ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাসনগাঁয়ের বিসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 


আহতরা হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর  গোপপুর এলাকার আবুল কালামের  ছেলে মাহাবুব ইসলাম (২৭) এবং তার স্ত্রী  মোসামৎ খাদিজা আক্তার রনি (২২)। তারা দুজনই একই এলাকায় ওহাব সর্দারের বাড়িতে বসবাস করেন। 


একই সময় তাদের রক্ষা করতে গিয়ে একই বাড়ির ভাড়াটিয়া নাসির উদ্দিনের স্ত্রী সুমী  বেগমও (২৮) ঝলসে গেছেন। আহতদের ঘটনার পরপরই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।


স্থারীয়রা জানায়, শাসনগাঁয়ের বিসিক এলাকার ওহাব সর্দারের বাড়িতে খাদিজা আক্তার রনি ও তার স্বামী ভাড়া থেকে বসবাস করেন। সোমবার দুপুরের দিকে ভেঁজা কাপড় শুকানোর জন্য খাদিজা বাড়ির ছাদে উঠেছিল। বাড়ির ছাদের পাশ দিয়ে যাওয়া ১ লাখ ৩৩ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ক্যাবলের সাথে প্রথমে পৃষ্ট হয় খাদিজা। 


এসময় স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী মাহবুবও ছুটে যায়। এতে দুজনই বিদুৎপৃষ্টে হয়।  তাদের দুজনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম বেগম এগিয়ে গেলে তার শরীরও আগুনে ঝলসে গেছে। আহতদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।


ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা বিসিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কাজল মিয়া জানান,যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে তা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছে। তাই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। 


ঢাকা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মো.খান জানান, ফতুল্লা  থেকে স্বামী-স্ত্রী মাহবুব, খাদিজা ও সুমি  নামে ৩ জনকে বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাহবুব ইসলামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী  মোসাম্মৎ রনি ওরফে খাদিজার ৭৫ শতাংশ ও সুমীর শরীর ১০ শতাংশ ঝলসে গেছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর