শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

ফতুল্লায় বাংলা ক্যাট কোম্পানির দুই প্রকৌশলী নিখোঁজ

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গত চারদিন ধরে জিসান ও লিখন নামে বাংলা ক্যাট কোম্পানির দুই প্রকৌশলী নিখোঁজ হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের পরিবারের স্বজনরা থানা পুলিশের কাছে গিয়েও তাৎক্ষণিক কোন ধরণের সহযোগিতা পান নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

নিখোঁজ জিসানের বড় ভাই মো: শোয়েব আহমেদ জানান, গত ৫ জানুয়ারী বিকেলে রাজধানীর আশুলিয়া থেকে বাংলা ক্যাট কোম্পানির দুই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশলী) মাহফুজুর রহমান জিসান ও তার সহকর্মী লিখন সরকার ব্যক্তিগতভাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রাজাপুর এলাকায় বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভেকু মেরামতের কাজে যান।

কাজ সেরে রাত সাড়ে বারোটায় ফতুল্লা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জিসান তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান। তবে ভোরে জিসান বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী খোঁজ করতে গিয়ে জিসান ও তার সহকর্মী লিখনের মোবাইল ফোন বন্ধ পান।

পরে বাংলা ক্যাট কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করলে তারা বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক সজীবের সোথে যোগাযোগ করলে সজীব জানান, রাত সাতে তিনটায় তার কর্মচারী পায়েল ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে দুজনকে বুড়িগঙ্গা নদী পার করে দেয়ার সময় একটি জাহাজ কাছাকাছি এসে পড়লে ট্রলারের চালকসহ জিসান ও লিখন নদীতে ঝাঁপ দেন। ভোরে ট্রলার চালক পায়েল সাঁতরে ফিরে আসলেও জিসান ও লিখন নিখোঁজ থাকেন।

তবে নিখোঁজ জিসান ও লিখনের স্বজনদের অভিযোগ, বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক সজীব পুরো বিষয়টি একদিন গোপন রাখেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেন। যার কারণে নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এদিকে ৬ জানুয়ারী রাতে জিসানের পরিবার ফতুল্লা থানায় গিয়ে বিষয়টি অবগত করে জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তাদের কোন ধরণের সহযোগিতা না করে জিডি গহণ করেনি বলে অভিযোগে রয়েছে। যার কারনে বাধ্য হয়ে ৭ জানয়ারী আশুলিয়া থানায় জিডি করেন তারা।

এদিকে দুইদিন পর বিষয়টি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পুলিশ নদীতে তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজদের কোন হদিস পায়নি। এ অবস্থায় গত তিনদির ধরে দুই পরিবারের স্বজনরা সহযোগিতার আশায় ফতুল্লা থানাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

থানা পুলিশ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দেয়ায় জিসানের পরিবার ৮ জানুয়ারী জেলা পুলিশ সুপারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে লিখিত আবেদনও করেন। সন্দেহের সুরাহা করতে সজীব ও তার কর্মচারী পায়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি করছেন তারা।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান বাংলা ক্যাট কোম্পানির প্রশাসনিক কর্মকর্তা (হেড অব সিকিউরিটি এন্ড সেফটি) আশিক মাহমুদ। তিনি বলেন, নিখোঁজ দুই প্রকৌশলী আমাদের কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

তাদের সন্ধানে আমরা থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অবগত করেছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরেও কোম্পানির পক্ষ থেকেও আমরা সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জেলা উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ঘটনার দুইদিন পর আমরা সংবাদ পেয়েছি। সাথে সাথে অবগত কলে আমরা তাৎক্ষণিক ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি করতে পারতাম। আমার দুইদিন পর জানতে পেরে ঘটনাস্থলের সম্ভাব্য চার কিলোমিটার এলাকা খুঁজে দেখেছি।


তবে ডবন্ত কোন মানুষের আলামত পাইনি। তিনি বলেন, নদীতে ডুবে গিয়ে থাকলে দুই দিনের মধ্যেই ভেসে উঠার কথা। চারদিনেও ভেসে না ওঠায় আসলেই কি তারা নদীতে ডুবে গিয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তার পরেও আমরা ডুবুরি নামিয়ে আবারো তল্লাশি চালাবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক সজীব ও তার কর্মচারী ট্রলার চালক পায়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

 

এই বিভাগের আরো খবর