বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

ফতুল্লায় গ্যাস বিষ্ফোরনে মায়ের মৃত্যুর একদিন পর বড় ছেলের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লায় গ্যাসের চুলার আগুনে একই পরিবারের দগ্ধ আটজনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর একদিন পর তার বড় ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার  ভোরে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের আইসিসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ কিরণ (৪৩)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাড়িঁর ইনচাজ বাচ্চু মিয়া। এর আগে সোমবার ভোরে আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিরণের বৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগম (৭০)। এই নিয়ে অগ্নিদগ্ধ আটজনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই পরিবারের দুই শিশুসহ আরো ছয়জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা এখনো আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার থানার কাতুবপুর ইউনিয়নের সাহেবপাড়া এলাকায় ডিপিডিসির কর্মকর্তা ফারুক মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নীচতলার একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটের বাসায় সোমবার ১৭ ফেব্রুয়ারি এ অগ্নিকান্ড ঘটে। ভোরে গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হন দুই শিশুসহ পরিবারটির আটজন মানুষ। দগ্ধরা হলেন- নুরজাহান (৬০), তার বড় ছেলে কিরণ (৪৩), কিরণের দুই ছেলে আবুল হোসেন (২৫), আপন (১১)। কিরণের ছোট ছেলে হিরণ (২৫), হিরণের স্ত্রী মুক্তা (২১), তাদের মেয়ে ইলমা (৩) ও কিরণ হিরণের ভাগিনা কাওসার (১৬)। দগ্ধ হওয়ার 

স্থানীয় এলাকাবাসি ও জনপ্রতিনিধির দাবি, সাহেবপাড়া, কান্দাপাড়া, চৌধুরিপাড়া, পাইনাদী নুতন মহল্লা, আব্দুলআলীপুল, মিজিমিজিসহ বেশ কয়েক এলাকায় গত চার পাচঁ বছর ধরে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ খুব কম। রাত বারোটা একটার দিকে গ্যাসের চাপ বাড়ে। যে কারনে স্থানীয় গৃহিনীদের  রাত জেগে অথবা ভোরে রান্না বান্নার কাজ করতে হয়। নুর জাহান বেগমও ঘুম চোখে রান্না ঘরে গিয়ে ম্যাচের কাঠিধরাতে গিয়েই দুর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন একই পরিবারের  শিশুসহ আরো সাতজন। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ সুত্রে জানা গেছে, আগুনে দগ্ধ আটজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা ছিল খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে নূরজাহারের শরীরের ৮০% শতাংশ, তার বড় ছেলে কিরণের শরীরে ৭০% শতাংশ, ছোট ছেলে হিরণের ৪৫% শতাংশ ও কিরণের ছেলে কাওছারের ২৫% শতাংশ ঝলসে গেছে। দ্ইুজনের মসৃত্যু হওয়ায় আরো দুইজন এখনো আশংকা মুক্ত নন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। 

পোশাক শ্রমিক কিরণ তার পরিবারের ১০জন গত এক মাস ধরে ফারুক মিয়ার  ৫তলা বাড়ির নীচ তলার এই ফ্ল্যাটে ভাড়ায় বসসবাস করছেন। নরসিংদি জেলার শিবপুর উপজেলায় তাদের বাড়ি। 

দগ্ধ কিরণের স্ত্রী লিপি আক্তার জানান, শীতের কারণে সারা রাত ঘরের সব দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার চাবি বন্ধ না করে সবাই ঘুমিয়ে পড়ায় সারারাত গ্যাস বের হয়ে সবগুলো রুমে জমে থাকে। ভোরে চুলা জ¦ালাতে দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের চারটি রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তাদের পরিবারের দশ সদস্যের মধ্যে আটজনই দগ্ধ হন। এছাড়া সবগুলো রুমের সকল আসবাবপত্র আগুনে পুঁড়ে যায়।

এই বিভাগের আরো খবর