শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

ফতুল্লায় আ’লীগের কাউন্সিলে হাইব্রিডদের প্রতিহত করা হবে : বিএম শফি

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম শফিকুল ইসলাম শফি বলেছেন,‘নীতির কাছে কখনো মুজিব সৈনিকরা আপোষ করে না। করবেও না। কাশিপুরে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তা বৈধ। যদি আগামী ৭ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে কাশিপুরের বৈধ কমিটি থেকে কাউন্সিলর করা না হয়,তাহলে ঐ দিন কিভাবে কাউন্সিল হয় তা  মুজিব সৈনিকরা দেখে নেবে। 

কারো পকেট কমিটি কেউ মেনে নেবে না। ফতুল্লা থানা কমিটিতে সুদিনের আওয়ামীলীগারদের ঠাঁই হবে না। আমরা দূর্দিনের আওয়ামীলীগ কর্মীদের সাথে নিয়ে পথ চলতে চাই। আগামী কাউন্সিলে হাইব্রিডদের প্রতিহত করা হবে। 

শুক্রবার বিকেলে কাশিপুর বাংলাবাজার এলাকায় কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নব গঠিত(পাল্টা কমিটি) কমিটির নেতৃবৃন্দের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব দুলাল  হোসেনের সভাপতিত্বে শুক্রবার বিকেলে নব গঠিত ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল হক। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম শফিকুল ইসলাম শফি,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম,সাবেক সহ সভাপতি এম এম মতিন,আওয়ামীলীগ নেতা পিয়ার আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,আওয়ামীলীগ নেতা মহি উদ্দিন মাহী,আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার,৭,৮,৯ নং এর সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ, আওয়ামীলীগ নেতা জুয়েল প্রধান, আওয়ামীলীগ নেতা রাজু প্রধান, আওয়ামীলীগ নেতা সলিম খান, হাবীব, আবুল কাশেম,বাবুল হোসেন, মোবারক হোসেন, বাদল রহমান, শাহজাহান সাজু, জাবেদ শিকদার, মামুন মিয়া, মোহাম্মদ আলী, মশিউর রহমান মিতুল, গাজী লিটন,হাজী সিরাজুল ইসলাম, রোকন, মনোয়ার হোসেন মুন্না, যুবলীগ নেতা হিমেল প্রমুখ।

বিএম শফি বক্তব্যে আরো বলেন, বহু বছর আগে কাশিপুর বাংলা বাজার এলাকায় একটি জনসভায় এসেছিলাম। তখন এই এলাকায় মাত্র ২০জন আওয়ামীলীগ কর্মীকে পেয়েছিলাম। বিএনপি জামাতের ঘাঁটি ছিল এই এলাকা। আর এখন ঘরে ঘরে আওয়ামীলীগার। মাশা আল্লাহ। 

কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থেকে যায়,কোত্থেকে এলো এতো আওয়ামীলীগার। এরা কারা ? যখন দেখি,যারা নিজেদের আওয়ামীলীগার বলে দাবী করছে,তারা বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবিকে অপমান করেছে। আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা শামীম ওসমানের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। আজকে তারাই আওয়ামীলীগার ! 

 তিনি আরো বলেন,কাশিপুরে যখন প্রথম জনসভায় এসেছিলাম তখন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে,আমার বন্ধু ভাসানীকে ঘেরাও করা হয়েছিল। তখন আওয়ামীলীগের নাম মুখে নিতেও এই অঞ্চলের মানুষ ভয় পেতো। 

আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে মানুষ এখন আওয়ামীলীগের সদস্য হচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু কাশিপুরসহ ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে যাকে তাকে সদস্য করা হচ্ছে তা দুঃখ জনক। কাশিপুরে দুলাল যে কমিটি করেছে তা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ। এই কমিটিকে বাদ দিয়ে অন্য কমিটির অনুমোদন মুজিব সৈনিকরা মেনে নেবে না।

সাংসদ একেএম শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে শফি আরো বলেন,‘আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি,আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আপনার গোলামী করি আমরা। আপনার জন্য ভবিষৎতেও নিজেদের জীবন বাজী রাখবো। আপনি ফতুল্লার বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখুন তৃণমূলের মধ্যে কি ক্ষোভ চলছে। কতোটা নিষ্পেষিত আজকে ফতুল্লার আওয়ামীলীগের তৃণমুল আপনি একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন।

সভাপতির বক্তব্যে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব দুলাল হোসেন বলেন,‘আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু বিনিময়ে অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া কিছু পাইনি আমরা। থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল ভাইয়ের আশপাশে কিছু চাটুকার আছে। 

তাদেরকে নিয়ে তিনি যে কমিটি করলেন সেই কমিটির বিরুদ্ধে আমরা যখন সোচ্চার  হয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম তিনি(সাইফ উল্লাহ বাদল) আমাদেরকে ডেকে এই বিষয়ে একটি সুরাহা করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কাশিপুরে আওয়ামীলীগের যে পাল্টা কমিটি করলাম তা কাশিপুরের জন্য দুঃখ জনক। আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শামীম ওসমানের যে রাজনীতি করি,আমার বড় ভাই বাদল ভাইও তাঁরই রাজনীতি করেন। আমি বাদল ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে ডেকে  তিনি জেনো বর্তমান সমস্যার সমাধান করেন। 

সভা চলাকালীন সময়ে কাশিপুরে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে জনসভায় উপস্থিত হয়। 
 

এই বিভাগের আরো খবর