বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৭ শা'বান ১৪৪১

প্রেমে পকেট ফাঁকা, জেনে নিন উপায়

প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : প্রেম করতে গেলে খরচ তো কিছু আছেই। অন্য সবকিছু বাদ দিন, বাদাম কিনতেও তো টাকা লাগে! এই যুগে আর বাদাম চিবিয়ে প্রেম চলে কি না, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা থাকতে পারে।

 

নিন্দুকেরা হয়তো বলবেন, প্রেম করলেই পকেট হয় গড়ের মাঠ। আবার এ কথার প্রবল বিরোধীরাও কিন্তু অকপটে বলতে পারবেন না যে প্রেম চালাতে খরচ হয়নি মোটেও!

 

প্রেমিক-প্রেমিকা, খরচ হয় দুই পক্ষেই। তা বিয়ের আগে হোক বা পরে। তবে খরচের এই পাগলা ঘোড়াকে বশে রাখতে না পারলেই সমস্যা। মাস শেষে দেখা গেল, ধারের হিসাব বড় হচ্ছে। তাই নতুন সম্পর্কে অঙ্কের হিসাব-নিকাশ রাখা ভালো। তাহলে আর পরে পস্তাতে হবে না।

 

খরচ কমান ধীরে ধীরে : প্রেমের প্রথম দিকে খরচ একটু বেশিই হয়। হয়তো একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বা কোথাও খাওয়াদাওয়া করা হয়। কখনো উপহার কেনা হয় ঘন ঘন। অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গীকে চমকে দিতেই একটু ব্যয়বহুল আয়োজন হয়ে যায়। তা হতেই পারে। তবে খরচ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। 

 

২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর শুধু প্রেমের পেছনে একেকজন ব্যাচেলর নারী-পুরুষের খরচ হয় গড়ে ১ হাজার ৫৯৬ ডলার। আমাদের দেশে এমন গবেষণা এখনো হয়নি। হলেও অঙ্কটি খারাপ হবে না।

 

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বাইরে খাওয়াদাওয়া, সিনেমা দেখা আর শপিংয়েই হয়েছে বেশির ভাগ খরচ। তাই এসব ব্যাপারে ধীরে ধীরে খরচ কমিয়ে আনুন। খরচ কমিয়ে কথা বলুন বেশি করে। কারণ, কথাই সম্পর্কের সুতো।


রোজগার নিয়ে ধোঁয়াশা নয় : প্রেম বা বিয়ে-সম্পর্ক যাই-হোক না কেন, নিজের পকেটের খবর সঙ্গীকে জানাতে ভুলবেন না। সঙ্গীরও জানা প্রয়োজন আপনি কত বেতন পান। তাহলে তাঁর আকাঙ্খার পরিমাপও সেই অনুযায়ী হবে। হয়তো আপনার রোজগার সম্পর্কে জানার পর আপনার সঙ্গীই খরচ কমাতে উদ্যোগ নেবেন। এতে করে একদিকে খরচ কমে আসবে, অন্যদিকে পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও সহানুভূতি বাড়বে। বাড়বে প্রেমও।


খরচের খাত ভাগ করে নিন : ব্যয়ের খাতগুলো পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারেন। এতে কোনো পক্ষের ওপরই বোঝা বেশি হবে না। হয়তো খাওয়ার খরচ প্রেমিক দিলেন। আর সিনেমা দেখালেন প্রেমিকা। আবার স্বামী যদি মাসের বাজার করেন, তবে বিদ্যুৎ বিলের মাথাব্যথাটা স্ত্রী নিতে পারেন। 

 

এভাবে খরচ ভাগ করে নিলেই একজনের ওপর আর বেশি চাপ পড়বে না। আবার দুজনে মিলে খরচ করলে কিছু কেনাকাটার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তও নিতে হবে একসঙ্গে। দুজনে মিলে খুঁজলে কম খরচেই হয়তো পেয়ে যাবেন ভালো পণ্য।

 

সঞ্চয় করুন ব্যাংকে : খরচ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর বেঁচে যাওয়া টাকা ওড়ালে চলবে না। হাতের কাছে টাকা থাকলে তা কিছুটা খরচ হয়েই যাবে। তাই ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। প্রতি মাসে সেখানে যদি টাকা জমানো শুরু করেন, তবে দেখবেন বছরখানেক পর তা একটি বড় অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে একসঙ্গে টাকা জমাতে পারেন। এতে উৎসাহও বেশি পাবেন।

 

দায়িত্বশীল হোন : মিতব্যয়ী হতে দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, খরচ যখন ভাগাভাগি করে হচ্ছে, তখন হুট করে কিছু কেনার আগে দুজনে মিলে একটু পরামর্শ করে নেওয়া ভালো। দেখা যাবে, একজন আরেকজনের ভুল সিদ্ধান্তটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। এতে পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও গাঢ় হবে। সুতরাং, যা-ই করবেন, একসঙ্গে করবেন।