সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

প্রাকৃতিক উপাদানে হজম সমস্যা সমাধান

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২০  

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চলছে মাসে রমজান মাস। এই মাসে হঠাৎ করে সারাদিন রোজা রাখার পর নানা প্রকারের ভাজা-পোড়া খাবার খাওয়ার পর পেটে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- পেট ফাঁপাভাব, গ্যাসের সমস্যাসহ বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। যাদের রোজা রাখলে এমন সমস্যা দেখা দেয় তাদের ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন নেই, প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণেই কমে যাবে হজমের সমস্যা। 


আমলকি: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বহুল ব্যবহৃত আমলকিতে বলা হয় অন্যতম জনপ্রিয় ঔষধি উদ্ভিজ ফল। এতে থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, গ্যাস্ট্রোপ্রোটেকটিভ ও অ্যানালজেসিক উপাদান পেটের সমস্যা কমাতে ভালো কাজ করে। আমলকি চিবিয়ে খেলে অথবা ফলটি ছেঁচে এর রস পান করলেও উপকার পাওয়া যাবে।


আদা: অ্যাসিড রিফ্লাক্সজনিত হজমের সমস্যা কমাতে আদা খুবই উপকারী। প্রাকৃতিক এই উপাদানটিতে উপস্থিত জিনজেরলস ও শোগ্যাওলস পেটের সমস্যাকে দ্রুত কমিয়ে আনতে কাজ করে। হজমের সমস্যা থেকে অনেক সময় বমিভাব দেখা দেয়, যা দূর করতেও কাজ করে আদা। আদা গ্রহণের জন্য আদা চা পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।


লবঙ্গ: রান্নাঘরে থাকা পরিচিত এই মসলাটি বদহজমের সমস্যা কমাতেও কাজ করে। লবঙ্গ থেকে পাওয়া যাবে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিআলসার, গ্যাস্ট্রোপ্রোটেকটিভ উপাদান। যা বদহজম ও ডায়রিয়ার সমস্যা কমাতে উপকারী। লবঙ্গ সাধারণভাবে চিবিয়ে অথবা লবঙ্গ চা তৈরি করেও পান করা যাবে।


মৌরি: খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশপাশি পেটের সমস্যা কমাতেও মৌরি দারুণ কার্যকর। এতে থাকা অ্যাকটিভ উপাদান ফেনকন ও অ্যানেথল বদহজমের দরুন পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করে দিতে  কাজ করে। এর ফলে হজমজনিত সমস্যার দরুন পেট ভুলে থাকা ও ব্যথাভাব দেখা দেওয়া কমে যায়। মৌরি গ্রহণের জন্য এক কাপ পানি আধা চা চামচ মৌরি ফুটিয়ে ছেঁকে সে পানি পান করতে হবে।


পুদিনা পাতা: পেটের সমস্যা ও বদহজমের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে হাতের কাছে থাকা পুদিনা পাতা কয়েকটি চিবিয়ে তার রস পান করলে সাথে সাথেই উপকার পাওয়া যাবে। প্রাকৃতিক এই পাতায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল উপাদান। যা বদহজমসহ বমিভাবকেও কমিয়ে আনতে কাজ করে। পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে না চাইলে পুদিনা পাতার চা অথবা লেবু-পুদিনার শরবত তৈরি করেও পান করা যাবে।
 

নিচের পরামর্শ মেনে চলতে পারেন-

# খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না। সময় নিয়ে, ধীরে-সুস্থে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া শেষ করবেন। তাড়াহুড়া করে খেতে গিয়ে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। তা ছাড়া পেটে খানিকটা বাতাসও ঢুকে যায়।


# খাওয়ার সময় ও মাঝখানে বেশি পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভালো করে খাবার ভাঙতে পারে না। তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। খাওয়ার সময় বেশি পানি নয়। খাওয়া শেষে আবার একটু সময় পর পানি পান করবেন।


# একেকজনের একেক ধরনের খাবার হজম করতে সমস্যা হয়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (খধপঃড়ংব ওহষঃড়ষবৎধহপব) আছে, তারা দুধ ও দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেন না। অনেকের মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যে (যেমন : ফলের রস বা জুস, চকলেট ইত্যাদি) সমস্যা হয়। কারও সমস্যা হয় রুটি, যব বা ডালজাতীয় খাবারে। কার কোনটাতে সমস্যা, সেটা তিনিই ভালো ধরতে পারবেন। তাই বদহজমের রোগীর দুধ নিষেধ বা মিষ্টি নিষেধ-এ জাতীয় কথা ঢালাওভাবে বলা যায় না।


# ধূমপান, চুইংগাম চিবোনো ও স্ট্র দিয়ে জুসজাতীয় কিছু খেলে পেটে গ্যাস হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এ ধরনের অভ্যাস বর্জন করুন।


# পেটে গ্যাস সমস্যা তৈরি করতে পারে কৃত্রিম চিনি, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারও। তাই এগুলো খেতে হবে হিসাব করে।


# কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেট ফাঁপে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আঁশযুক্ত খাবার খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
 

এই বিভাগের আরো খবর