বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ 

প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯  

 

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লায় নুরজাহান মডেল এন্ড হাইস্কুল এর এক শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দির্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শিক্ষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। 

ধর্ষিতা শিক্ষিকার অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দির্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করার পর বিয়ে করার জন্য বললে  এখন বিয়ে করবেনা জানিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। 

এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট “খ”আদালতে মামলা করেছে। যার নং ৯৭/১৯। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ বুরো অব ইনভিষ্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়ন লাখি বাজার এলাকায় নুরহাজান মডেল এন্ড হাইস্কুল এর প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন একই বিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষিকা মনির  (ছদ্ধা নাম) সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রমের সম্পক গড়ে উঠে। 

এ সুযোগে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইবকাল বিয়ে কথা বলে ওই শিক্ষাকার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করে। পরে বিয়ের জন্য শিক্ষিকা চাপ দিলে আংটি বদল করে ইকবাল। পরে তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী মতো চলাফেরা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায়। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আবাসিক হোটেলেও উঠে। 

এদিকে ১ মে ওই শিক্ষিকা মনি (ছদ্ধ নাম) বিয়ের জন্য ইকবালকে বললে সে বলে তার সঙ্গে শিক্ষিকার কোন সম্পর্ক ছিলোনা। সে বিয়ে করতে পারেবনা। পরে বিষয়টি সামাজিক ভাবে মিমাংসার কথা বলে এলাকার কিছু লোক শিক্ষিকার বাসার এসে শিক্ষিকাকে হুমকি দেয় এ নিয়ে ভাড়াভাড়ি করলে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হবে। পরে শিক্ষিকা বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত তদন্তের জন্য (পিবিআই) বলেন। 

এ বিষয়ে শিক্ষিকা মনি (ছদ্ধ নাম) আক্তার বলেন, ২০১৫ সালের আমি বিদ্যালয়টিতে চাকুরি পাই। এ পর থেকেই প্রধান শিক্ষক ইকবাল রাতে আমাকে ফোন করে কথা বলতো। এ মধ্যে আক্তার বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দিলে ইকবাল সরাসরি যোগাযোগ কের বলে তুমি না থাকলে আমি মরে যাবো, নিঃস্ব হয়ে যাবো এবং তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। 

পরে আমি বিদ্যালয়ে আসা শুরু করি। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখিয়ে আমার হাতে আংটি পড়িয়ে দেয়। পরে বিদ্যালয়েই আমার সঙ্গে দৈহিক মেলা মেশা করে। এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্ত্রী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতো। এভাবে একাধিকবার দৈহিক মিলন হয়। 

এদিকে এ বিষয়ে নুরজাহান মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে ওই শিক্ষিকা মনি (ছদ্ধ নাম) এর সাথে কোন সম্পর্ক ছিলোনা। আমরা বন্ধু হিসাবে চলাচল করতাম। 

এর মধ্যে জখন আমাকে ভালোবাসতে শুরু করে তখন তাকে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ বিদ্যালয় থেকে না করে দেই। পরে পূনরায় চাকুরিতে যোগ দেয়। 

ভালো কাজ করায় সে প্রায় বিদ্যালয়টিতে রাত ১১ টা ১২ টা পর্যন্ত থাকতো। এ ছাড়া আর কোন সম্পর্ক নাই। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন  ৯ মে আবার বলে ৯ এপ্রিল ওই শিক্ষিকারে বিদ্যালয় থেকে চাকুরি ছেড়ে চলে গেছে। সে এখন যা বলছে তা সত্য নয়। 

এদিকে প্রধান শিক্ষক ইকবাল মার্চ মাসে ওই শিক্ষিকাওে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে একটি আবাসিক হোটেলে দুপুর ১২ পর থেকে রাত প্রায় ৭ টা পর্যন্ত অবস্থান করেছে। মামলায় হোটেলের নাম ও উল্লেখ্য করা আছে। 

এলাকবাসী জানায়, ইকবাল নারী পিপাসু। ভালো মানুষের আড়ালে বিয়ে কথা বলে এক শিক্ষিকার সাথে দৈহিক মিলামেশা করা জঘন্য কাজ করছে। এ স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিও তার কুনজর পড়তে পারে। 

তাই পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান করছি, দ্রুত তদন্ত করে ইকবালের শাস্তি কামনা করছি।

এই বিভাগের আরো খবর