শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

‘প্রকৃতি ফলিয়েছে তারে সকলের সন্তান করে’

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ‘প্রকৃতি ফলিয়েছে তারে সকলের সন্তান করে’ উৎসবের এ মূল বিষয়কে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হলো রনজিত পুরস্কার ২০১৯ প্রদান ও শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির ২৭ বর্ষ পূর্তি উৎসব। 


শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫ টায় শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে পুরস্কার প্রদান  ও বর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে রনজিত পুরস্কার গ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন। লেখকের হাতে এ পুরস্কারের স্মারক, সার্টিফিকেট ও ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন আতিথিরা। 


‘দেখ আকাশ আলোয়ে ভরা’ রবীন্দ্র সংগীতের সাথে নৃত্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। পরে আহামেদ ব্রাদার্সের পরিবেশনায় বাঁশি, বেহালা ও তবলার সুর লহরী ‘সুরে সুরে সাতাশ’ পরিবেশন করেন- কামরুল আহামেদ, সবুজ আহমেদ ও শান্ত আহমেদ। এরপর অরিন্দম পাল ঝিনুকের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায়, শ্রুতি শিশুদলের পরিবেশনায় ‘ঝরা কুঁড়ির গল্প’ পরিিেশত হয়।


পরে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য লোপা মমতাজের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন-পরিচালক ধীমান সাহা জুয়েল, রনজিত কুমারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইনের উপর আলেচনা করেন-কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার হোসাইন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন। 


এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত দু’জন শিশুকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক ধীমান সাহা জুয়েল আগামী এক বছরের জন্য তাদের নতুন কমিটি পরিচয় করিয়ে দেন।


আলোচনা শেষে, অরিন্দম পাল ঝিনুকের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় কবি জীবনান্দ দাশের জীবনী ও কাব্যের সম্মিলনে শ্রুতিকণ্ঠের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় আবৃত্তি-নৃত্যনাট্য-নকশা ‘নদী নক্ষত্র মানুষ’। রনজিত কুমারের কবিতা থেকে সুরারোপিত গান নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘বুক পকেটের কবিতা’-গান পরিশেন করেন অরিন্দম পাল ঝিনুক ও সুজয় রায় চৌধুরি বিকু। উজ্জ্বল উচ্ছ্বাসের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়, রনজিত কুমারের সপ্নাবলম্বনে মূকাভিনয় ‘সপ্নবাজ রনজিত’ পরিবেশন করেন শ্রুতির সদস্যরা। সর্বশেষ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান আনুষ্ঠান ও ২৭ বর্ষ পূর্তি উৎবের সমাপ্ত হয়। 

 

এর আগে, শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে  শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রবর্তিত ‘রনজিত পুরস্কার ২০১৯’ (পূর্বে শ্রুতি পুরস্কার’) ঘোষণা করা হয়। শ্রুতির পরিচালক ধীমান সাহা জুয়েল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির কার্যকরী কমিটি এবারের পুরস্কারের জন্য মামুন হুসাইনের নাম নির্বাচন করে। নিজস্ব সৃজন শৈলীতে বাঙলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াসে সক্রিয় থাকার জন্য তাকে এ পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রুতি। 


কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন ১৯৬২ সালের ৪ মার্চ কুষ্টিয়া জেলা শহরের কমলাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আলতাফ হুসাইন, মা- হোসনে আরা বেগম। মামুন হুসাইনের শৈশব-কৈশোর কেটেছ কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায়। তিনি পড়েছেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে


এইচএসসি পাস করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এমবিবিএস করেন ১৯৮৫ সালে। এরপর সরকারি কর্মকমিশনের অধীনে চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। 


পরে মামুন হুসাইন মেডিকেল সোসিওলজি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন। ২০০২ সালে এমফিল এবং ২০০৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ২০১১ সালে সাইকিয়াট্রিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। মামুন হুসাইন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।


মামুন হুসাইনের সাহিত্যে সক্রিয়তা আশির দশকে হলেও প্রাথমিক অবস্থায় তিনি সাহিত্যের ছোটকাগজগুলোতেই লিখতেন। বেশ পরে তিনি ১৯৯৫ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি’ প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি প্রকাশের আগেই তিনি বাংলাদেশের গল্পধারায় ভিন্নধর্মী গল্পকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ মিলিয় মামুন হুসাইনের গ্রন্থ ১৯টি।


প্রসঙ্গত, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রথমে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের নামে তার অনুমতি নিয়ে একটি পুরস্কার প্রবর্তন করে। শিল্পী তার জীবদ্দশায়ই পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নির্বাচন করেন। তার নির্বাচনে প্রথম পুরস্কার পান কবি শামসুর রাহমান। 


এরপর শিল্পী এসএম সুলতানের মৃত্যুর পর শ্রুতি পুরস্কারের সার্বিক কর্তৃত্ব চলে আসে শ্রুতির হাতে। তখন উদ্দেশ্য ও মান ঠিক রেখে পুরস্কারটি নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রুতি পুরস্কার’ করা হয়। এরপর ১টি ‘সূর্যশিল্পী সুলতান পুরস্কার’ ও ১২টি শ্রুতি পুরস্কার হিসেবে মোট ১৩টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। 


এ বছরের ২ জানুয়ারি শ্রুতির প্রতিষ্ঠাতা রনজিত কুমার পরলোক গমন করলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার দায় ও সামগ্রিক কর্ম বিবেচনায় বর্তমান কমিটি শ্রুতি পুরস্কারটি ‘রনজিত পুরস্কার’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়।

এই বিভাগের আরো খবর