বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ২ ১৪২৬   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

পুলিশের উপস্থিতিতেই শহীদ মিনারের বেদিতে বসে তাসখেলা, ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : শহীদ মিনারের বেদিতে বসেই প্রকাশ্যে তিনজন মিলে খেলছেন তাস। তাদের সাথে দু’জন দর্শকও রয়েছেন। এর ১০০ গজ সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। তাসখেলা ব্যক্তিদের পুলিশের দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। পুলিশের সদস্যদেরও বেদিতে বসে তাসখেলা ব্যক্তিদের দিকে কোন আগ্রহ নেই। বুধবার (১৯ জুন) চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

প্রকাশ্যে শহীদ মিনারের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে বেদিতে বসে তাস খেলার ঘটনায় পুলিশ ও দোষী দুই পক্ষের প্রতিই ক্ষোভ ঝেড়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারে যেমন মানুষের রয়েছে বোধের অভাব, তেমনি তদারকির দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের উদাসীনতা আর অবহেলাও কম নয়। যার দরুণ কিছুদিন পর পরই শহীদ মিনারের নানা ঘটনা সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে।   

 

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, এঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। শহীদ মিনারে যত্রতত্র মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ, বেদিতে জুতো নিয়ে উঠা, দোকান বসানো এমনকি মাদক সেবনের স্থান বানানোর অভিযোগ বেশ আগে থেকেই চলে আসছিলো। আমরা শহীদ মিনারে সার্বক্ষণিক একজন প্রহরী দেয়ার দাবি তুলেছিলাম। আজ যেটি হলো তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। অবিলম্বে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে এখানে নিরাপত্তা প্রহরী দেয়ার দাবি জানাই। 

 

নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিকী বলেন, তাস খেলা মানে জুয়া খেলা। পুলিশ গাঁ বাঁচিয়ে চলে।  পুলিশ জানে শহীদ মিনারের পবিত্র রক্ষার জন্য নিয়মনীতি আছে। তা সত্ত্বেও পুলিশের দায়িত্ব পালন না করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। নাগরিক কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে সিটি করপোরেশনকে কয়েকজন রক্ষী নিয়োগ দেয়ার দাবি জানাই। শহীদ মিনারে সবসময় পুলিশ সদস্যরা থাকে। তাদের কি দায়িত্ব একেবারেই নেই। তাদের সবজিনিস আঙুল দিয়ে দেখাতে হবে। 

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। শহীদ মিনারে পুলিশের নজরদারী আরো বাড়ানো উচিৎ। এধরণের ঘটনা মেনে নেয়া যায়না। অবিলম্বে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার দাবি জানাই। ’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, আমি এঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। প্রথমত যেটি বলবো এখানে সামাজিক মূল্যেবোধের অবক্ষয় তৈরি হয়েছে সেটি পরিস্কার। আগে যেমন নাট্যচর্চা, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং খেলাধুলায় নিজেদের সংযুক্ত করা যেতো এখন সেই সুযোগটি অনেক হ্রাস পেয়েছে। শহীদ মিনারে বসে তাস খেলা এটি অনেক বড় অপরাধ। বোধের জায়গাটি থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, শহীদ মিনার এলাকায় যেসব পুলিশ দেয়া হয়েছে সেখানে তারা বসে বসে ঝিমোয়। তাদের যে দায়িত্বটা দেয়া হয়েছে সেটি তারা ঠিকভাবে পালন করেনা। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা আসার পর পুলিশ যেভাবে তৎপর কিছুদিন পর দেখা যাবে তাদের সেই তৎপরতা আর নেই। তাদের সামনেই ফুটপাত দখল হচ্ছে, অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি হচ্ছে। সবকাজতো আর এসপি নির্দেশ দিয়ে করাতে পারবেনা। পুলিশের সামনে বসেই শহীদ মিনারের বেদিতে বসে তাসখেলা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বহেলার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এর দায় তারা এড়াতে পারেনা।  

 

এব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব আমার, আপনার সকলের। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলা ছিলো কিনা সেটি আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রকাশ্যে শহীদ মিনারের বেদিতে বসে তাস খেলা নিঃসন্দেহে একটি নিন্দনীয় কাজ। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারটি আমাদের সকলের হৃদয়ে ধারণ করা উচিৎ।

  
 

এই বিভাগের আরো খবর