শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

পাঠানটুলীতে ময়লার ভাগাড়, পথচারীদের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় ভাই ভাই ক্লাব সংলগ্ন জায়গাটি ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে ওই জয়গার ময়লা নিয়মিত অপসারন করেনা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। 

এতেকরে ময়লা জমে উৎকট গন্ধ এই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশে মশা মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পথচারীরা পড়েন চরম দূর্ভোগে। ময়লার উৎকট গন্ধের কারনে নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করছেন এখানকার মানুষ। তাই ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে রোগ বালাই। 

দিনদিন ময়লার স্তুপ বাড়ার কারনে সড়কে এসে পড়েছে। ওই জায়গায় বিভিন্ন এনজিওর পরিছন্নকর্মিরাও বাড়ি বাড়ির ময়লা এনে ফেলছে। কোন জায়গায় ময়লা ফেলতে না পেরে তারা এই স্থান বেছে নিয়েছে। এতে ভাইভাই ক্লাবেও গিয়ে পড়ছে ময়লা। আবার ওই এলাকার লোকজনও ময়লা ফেলছে ওই স্থানে। 

তাই স্থানটি ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে। এদিকে ওই ময়লা এখন মেইন সড়কে এসে পড়েছে। এতেকরে এপাশ দিয়ে অনেকেই চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে আবার নাকে রোমাল গুজেও চলতে দেখাগেছে। 
   
সরেজমিনে দেখাগেছে, হাজীগঞ্জ খাল থেকে চিটাগাংরোড পর্যন্ত খালের পশ্চিম পার্শ্বে বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ দেখাগেছে। পরিছন্নকর্মিরা এসব স্থান থেকে ময়লা অপসারন না করায় খালে পড়ে খালের পানি দুষিত হচ্ছে। 

এছাড়া এক জনের দেখাদেখি একই জায়গায় অনেকেই ময়লা ফেলছে। ফলে এসব স্থান পরিনত হচ্ছে ময়লার স্তুপে। তাঁতখানা, চৌধুরীবাড়ি, আদমজী, এসো, সোনামিয়া মার্কেট সহ বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা পড়ে থাকতে দেখাগেছে।  

স্থানীয় বাসিন্দা আলেক মুন্সী জানান, এক সময় এই খালের পানি ছিল খুবই পরিস্কার। গোসল থেকে শুরু কলে কাপড় ধোঁয়া হতো এখানে। এই খালের পানি নিত্য প্রয়োজনী কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন  খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার কারনে ময়লা খালে পরে পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এই পানি দিয়ে গোসল করলে শরীর চুলকায়। 

তাই এলাকার অনেকেরই দেখাদিয়েছে চুলকানি রোগ। তিনি আরো বলেন, পরিছন্নকর্মিরা সব সময় ময়লা নেয় না। তাই অনেকে খাল পারে ময়লা ফেলছে। এদিকে, পাঠানটুলী এলাকার সমাজ সেবক মো. শাহজাহান জানন, যে স্থানটিতে ময়লা ফেলা হচ্ছে এটা সরকারী জায়গা। এলাকার মানুষ সহ অনেকেই এই স্থানে ময়লা ফালায়। এতে এই জায়গা ময়লার স্তুপ সৃস্টি হয়েছে। তাই পথচলা মানুষের সমস্যা হচ্ছে। 

এছাড়া আশেপাশে ময়লার দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। একারনে এই পাশ দিয়ে চলার সময় অনেকেই নাকে রোমাল দিচ্ছে। প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন ময়লা পরিস্কারের কথা থাকলেও তারা আসে না। তাই এই স্থান এখন ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ময়লা পরিস্কার না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুগের চিন্তাকে সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯, আসনের মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা বলেন, জালকুড়িতে সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং পয়েন্টের কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষ যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই ময়লা ফেলছে। 

পাঠানটুলী ও তাঁতখানা এলাকাতে ডিএনডি’র খালে ময়লার স্তুপ তৈরী করেছে স্থানীয়রা। জালকুড়ির ডাম্পিং পয়েন্টের কাজ শেষ হলেই এ সমস্যার সমাধান হবে। তারপরও আমি এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে জানাবো। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা  মো: আলমগীর হিরন বলেন, আমরা ময়লার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। গতকাল পাঠানটুলী ভাই ভাই ক্লাবের সামনের ময়লা সরানো হয়েছে। প্রয়োজনে কাল (রোববার) সিটি কর্পোরেশনের এস্কাভেটর পাঠানো হবে। 

এস্কাভেটর দিয়ে ময়লা সমান করে পেছনের দিকে ভরাট করে দেয়া হবে। এরপর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলেই দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাবে পথচারীরা। স্থানীয়ভাবে রাস্তার পাশে বাঁশের বেড়া দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। 

যদিও এটা সিটি কর্পোরেশনের কোন ডাম্পিং পয়েন্ট নয়। ইউনিয়নের লোকজন এখানে এসে ময়লা ফেলে যায়। কিছু এনজিও অধিক ময়লা ফেলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে যায়। দু’একদিনের মধ্যেই এ চিত্র আর থাকবেনা।

এই বিভাগের আরো খবর