শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯   বৈশাখ ৬ ১৪২৬   ১৪ শা'বান ১৪৪০

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আকাশচুম্বী ইলিশের দাম, বেড়েছে  মুরগিও

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : এক সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে বয়লার এবং লেয়ার মুরগীর দাম। কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে। এদিকে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আকাশচুম্বী ইলিশের দাম। তবে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে আগের জায়গাতেই।


বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সরজমিনে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ১৩০ টাকা কেজিতে। আর লাল লেয়ার মুরগি  কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে।


মুরুগী বিক্রেতা আলমগীর মিয়া মুরগীর মাসের দাম বাড়তি প্রসঙ্গে জানান, পাইকারি বিক্রেতারাই দাম বাড়িয়েছে। আর আগের মতো আমদানিও হচ্ছে না। তাই দাম বাড়তি। আমরা কি করবো?


তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরুর ও খাঁসির মাংস। গরুর মাংস  ৫৫০ টাকা কেজি এবং খাঁসির মাংস ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


মাছের বাজারে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। দাম হাঁকাহাঁকিতে সরগরম বাজার। এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে! যা কেজি প্রতি পড়ছে ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা। সামনে আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখেই এর দাম এতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


ইলিশ বিক্রেতা মোহসীন মিয়া জানান, দামটা এখন একটু বাড়ানোই। সামনে বাংলা বছর আসতাছে। সবাই ইলিশ নিয়ে আমোদ করবো। এখন পাইকাররা যদি বাড়ায়  তাহলে আমরা কি করতাম কন?


এদিকে ইলিশের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুই, কাতল, পাঙ্গাস, চিংড়ী, কৈ এবং  বোয়ালের দামও। রুই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিলো ৪’শ এর কোটায়। কাতল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি এবং কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


হঠাৎ মুরগী ও মাছের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।  কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে। আমলাপাড়ার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান, নতুন কিছু তো আর না। একটু অযুহাত পেলেই হয়। তাদেও আর কিছু লাগে না। এখন আর আমাদেও কি বলার আছে। যেখানে সরকার নিশ্চুপ। মাছ,মাংস এমনকি সবজি  পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাবলাম বৈশাখের আগেভাগেই ইলিশটা কিনে সেরে ফেলি। যা অবস্থা হাতইতো দেয়া যায় না।


 দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী নীলুফার জানান, সবকিছুর দামই বেশি। মাছ বলেন,মাংস বলেন আর ডিম বলেন। সবজির দোকানগুলোতেও একই অবস্থা।


হোটেল ব্যবসায়ী মতিন মিয়া যুগের চিন্তা ২৪ কে বলেন, মানুষের এখন তেমন সামর্থ নেই।  হোটেলে খেতে চায় না। তার উপড় হুট করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। আমাদের চলাও তো দায় হয়ে পড়ে। 


তবে সবজিসহ অন্যান্য জিনিসের দাম রয়েছে আগের মতই। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, শসা ৩০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৭০ টাকা কেজি, শিম ৩০ টাকা কেজি, লাল-শাক ২৫ টাকা কেজি, বেগুন ৫০ টাকা কেজি এবং লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালী। এছাড়া আলু, পিয়াজ, আদা-রসূণ, ডাল এবং চালের দাম রয়েছে স্থিতিশীল, আলু ৬০ টাকা পাল্লা,  পেয়াজ ১১০ টাকা পাল্লা, মুসুর ডাল দুই প্রকার ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চালের বাজারে লতা চাউল ৪০ টাকা কেজি, নাজির চাউল ৫০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, মিনিকেট চাউল ৫০ টাকা কেজি এবং পোলউর চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। 
 

এই বিভাগের আরো খবর