রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

নাব্যতা সংকটে ‘চারারগোপ খাল’ : দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

শাহজাহান দোলন (যুগের চিন্তা ২৪) : শহরের অভিমুখেই অবস্থিত চারারগোপ খাল। শীতলক্ষ্যার সাথে সরাসরি সংযোগ থাকাতে এই খালকে ঘিরে এক সময় তৈরী হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় ফলের আড়ৎ। 


আজও নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ফল, সবজি, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল বোঝাই নৌযানগুলো ৫নং খেয়াঘাট হয়ে থামে, এই চারারগোপ খালের পাশে। এরপর লোড- আনলোডের মাধ্যমে চলে যায় ব্যবসায়ীদের কাছে। 

 

এক কথায় এই চারারগোপ খালের সাথে জড়িত শ’খানেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা এবং দিনমজুরের জীবন। তবে বহু বছর যাবৎ খনন না করায় খালটিতে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট।

 

তাই স্বাভাবিকভাবেই নৌযানগুলো খালে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে খালটিকে ঘিরে চলতে থাকা এতদিনের ব্যবসা বাণিজ্যে ও দিন মজুরদের আয় রোজগারে এখন ভাটা পড়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৫ নং খেয়াঘাট হয়ে পশ্চিমে কালীরবাজার পর্যন্ত বয়ে গেছে এ খালের সীমানা। সেখানেই খালের সাথে সরাসরি সংযোগ দেয়া আছে নাসিকের কয়েকটি সুয়ারেজ ড্রেন। মূলত ড্রেনের ময়লা আর চতুর্দিক থেকে ফেলা বর্জ্যরে কারণেই ভরাট হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে খালটি।


এ সময় পণ্য খালাস করতে এসে খালের মাঝে আটকে পড়া এক নৌকার মাঝির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধইরা নৌকা চালাই।

 

আগে ভালো ভাবেই এই খালে নৌকা লইয়া ঢুকসি আর বাইর হইসি কিন্তু অহন তো নৌকা আটকা পরে! কারণ খাল ময়লা দিয়া ভরাট হইয়া গেসে। এতে আমাগো রেজগার কইমা গেসে।’


চারারগোপ ফলের আড়তের ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘এই খালে যখন সবসময় নৌকা ঢুকতো তখন আমাদের মাল সরাসরি আড়তে আসতো এতে পরিবহন খরচ কম হতো। কিন্তু এখনতো নৌকা ঢুকতেই পারেনা তাই মাল নামাতে হয় ৫নং ঘাটে।

 

 সেখান থেকে মাল আড়তে আনতে বাড়তি টাকা লেবারদের দিতে হচ্ছে আমাদের। এতে আমাদের অনেক লস হয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারি কতৃপক্ষ যদি খালটি খনন করে তাহলে আমদের জন্য ভালো হয়।’


এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ‘র উদাসীনতার কারণেই আজ চারারগোপ খালের এই অবস্থা। নাব্যতা সংকটের বিষয়ে তাঁদের বেশ কয়েকবার জানানো হলেও এতে তারা কোন কর্ণপাত করেনি। বলেছেন এই খাল খনন করতে হলে হেড অফিস থেকে অনুমোতি লাগবে।


অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে চারারগোপ খালের চারপাশে নিজের ছেলের নামে প্রায় ১০ থেকে ১১টি ছোট ছোট পয়েন্টের ইজারা নিয়ে তা পরিচালনা করেন মোবারক মিয়া। 

 

তিনি বলেন, আমি অনেক টাকা দিয়া এই খালের ডাক লইসি (ইজারা) তখন ভাবসিলাম ট্রলার আর কিছু নৌকা এখান দিয়া আসতে পারলে কিছু টাকা পামু। কিন্তু খাল ময়লা দিয়া ভরাট হওয়াতে এখন কোন নৌকা মালামাল নিয়া ঢুকতেই পারেনা! 

 

বিআইডব্লিউটিএ’কে এ বিষয়ে জানানো হইসে কিন্তু তারা কোন উদ্যোগ এখনও গ্রহণ করেনি।  তবে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক শেখ মাকসুদ কামাল বলেন, আসলে এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা এটা খনন করতে পারবো না। এটা দেখবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড।
 

এই বিভাগের আরো খবর