বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ১১ ১৪২৬   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করলো নারায়ণগঞ্জবাসী

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯  

আশিক (যুগের চিন্তা ২৪) : সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ। সকাল ভোর থেকেই শুরু হয় ১৪২৬ সনের বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠান। 


রোববার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে পাঁচটায় শেখ রাসেল নগর পার্কে  সূর্যোদয়ের মধ্যে দিয়ে  নতুন বছরকে বরণ করে নেন ক্রান্তি খেলাঘর আসর।  পরে সকাল সাড়ে ৭ টায় বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন। সকাল  সাড়ে ৮ টায় বিজয়স্তম্ভে সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক একটি র‌্যালী বের করে ।  সাড়ে ৮টায়  নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও চারুকলা ইন্সস্টিটিউটের  পক্ষ হতে  চাষারা চত্বর থেকে প্রথমে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা  হয়। এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন  নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,ছাত্র-ছাত্রী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পেশার সর্বস্তরের মানুষ এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।


এছাড়া ছোট ছোট শিশু কিশোররা বিভিন্ন সাজে মঙ্গলশোভাযাত্রার র‌্যালীতে যোগদান করেন । এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করেছে চারদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের।


মোঘল স¤্রাট আকবরের আমলে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু হয়। হিজরি চন্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলিসন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।


পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।


 বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মিলেছে আন্তজার্তিক স্বীকৃতিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরু থেকেই চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। তখন এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। ১৯৯৬ সালে এর নাম হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।


বর্ষবরণ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরও কয়েক বছরের পুরনো। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে চারপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরনো বাদ্যসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন  তৈরি করে।


যশোরের সেই শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পরে ঢাকার চারুকলায় চলে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।

এই বিভাগের আরো খবর