বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

না’গঞ্জে ২৩১ রপ্তানীমুখি কারখানা খুলেছে

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : গতকাল মঙ্গলবার থেকে নারায়ণগঞ্জে ২৩১ টি রপ্তানীমুখি কারখানায় কাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে ১২৬টি পোশাক কারখানা এবং বাকীগুলো রপ্তানীমুখি অন্যান্য কারখানা রয়েছে।

 

প্রায় পঁচিশ ভাগ শ্রমিক দিয়ে কারখানাগুলো আজ চালু করা হয়েছে। কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকেরা কাজ করছে বলে জানাগেছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিয়েই আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে কারখানাগুলো চলবে বলে জানাগেছে।


নারায়ণগঞ্জে চালু হওয়া ২৩১ টি কারখানার মধ্যে ১৯ টি আদমজী  ইপিজেডে অবস্থিত। আদমজী ইপিজেডের হংকং ভিত্তিক একটি পোশাক কারখানার কয়েক জন শ্রমিক জানান, কারখানায় প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়েছে।

 

এরপর হাতে পায়ে জীবানুণাশক স্প্রে করা হয়েছে। কারখানার ভিতরেও পর্যাপ্ত শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ চলছে। কারখানায় মোট ৮ হাজারের বেশী  শ্রমিক কাজ করত। আজকে হাজারেরও বেশী শ্রমিক আছে।


অপর একটি কারখানার এক কর্মকর্তা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কারখানা চালু করেছি। যারা আশে-পাশে বসবাস করেন তাদেরইে কারখানায় আসতে বলা হয়েছে। আমাদের শিপমেন্ট এর জন্য মাল মজুদ করা আছে।

 

এগুলো ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আমাদের কারখানার শ্রমিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে। তখনকার পরিস্থিতি কি হয় এখনই বলা মুশকিল। তবে শ্রমিকেরা যেখানে বসবাস করেন সেখানার পরিবেশতো স্বাস্থ্য সম্মত নয়। ওরা গরীব মানুষ।


নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর সূত্র জানিয়েছেন, খুবই সীমিত সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে জেলার ২৩১ টি কারখানা চালু হয়েছে। এরমধ্যে আদমজী ইপিজেডে রয়েছে ১৯টি কারখানা।    

 
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় লকডডাউন চলছে। নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হারও ঢাকার পরের অবস্থানে আছে। সারাদেশে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অধিকাংশেরই কোন না কোন ভাবে নারায়ণগঞ্জ সংস্পর্শ ছিল বলে সরকারীভাবে বলা হচ্ছে। আর এই জীবানু বহন করে যারা নারায়ণগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন তারা সকলেই শ্রমজীবী। তাদের অধিকাংশই আবার নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত রপ্তানীমুখি পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করেন। এতে করে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে গিয়েছিল তারা পর্যায়ক্রমে আবার জীবীকার তাগিদে কাজে ফিরবে ।


বর্তমানে আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী করোনা ভাইরাস সামাজিক সংক্রমণ পর্যায়ে চলে গছে। এ অবস্থায় কয়েক লাখ শ্রমিক নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোতে কাজে ফিরলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন তা মেনে চলার সুযোগ আর থাকবে না। আজ প্রথমদিন সীমিত আকারে শ্রমিক কাজে আসলেও পর্যায়ক্রমে তাদের উপস্থিতি বাড়াবে। কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মনে শংকা তৈরি হয়েছে যে, যদি কোন কারখানায় কেউ আক্রান্ত হয় তাহলে কারখানটি লকডডাউন করা হবে। তাদেরও কোয়ারেনটাইনে রাখবে।


আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী আজ সকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪৯ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫০ জন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে আজ সকাল পর্যন্ত জেলায় মারাগেছেন ৪২ জন। আক্রান্ত ও নিহতের অধিাংশই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও সদর থানা এলাকায়। এই দুই এলাকায় আক্রান্ত ৬৯০ জন এবং মারাগেছেন ৩৮ জন। আর পোশাক কারখানার প্রায় সবগুলোই এই এলাকায় অবস্থিত।
 

এই বিভাগের আরো খবর