বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নাক চেপে চলতে হয় শামসুজ্জোহা সড়কে (ভিডিওসহ)

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

শামীমা রীতা ও জহিরুল হক : ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে একে এম শামসুজ্জোহা সড়কের বাসিন্দারা। এমনই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উত্তর চাষাড়া  একেএম শামসুজ্জোহা সড়কে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জিয়া হলের পেছনে সড়কের বাঁ পাশে একটি লাল রঙের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ- আদেশক্রমে জিয়া হল কর্তৃপক্ষ’! আশ্চর্যের বিষয় হল এ সাইনবোর্ডের  পেছনেই স্তুপাকারে সাজানো রয়েছে একরাশ ময়লা-আবর্জনা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। বিভিন্ন সময়ে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষদের অবগত করা হলেও কেউই এ বিষয়ে কান দিচ্ছে না। রাস্তায় চলতে গেলে বৃষ্টিতে এ ময়লা আবর্জনার পানিও গায়ে মাখতে হয় তাদের। তবে ময়লার স্তুপের আকার দিনে দিনে বড় হতে থাকলেও কারুরই এ ময়লা আবর্জনা অপসারণের ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই। 

অথচ এ সড়কেই রয়েছে ল্যাব এইড হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ও হোয়াইট হাউজ রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া এ সড়ককে ঘিরে রয়েছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িও। প্রতিদিনই এ সড়কে হাজারো মানষের যাতায়াত।

কিন্তু দিনের পর দিন ময়লা আবর্জনা আর এ সকল আবর্জনার অসহনীয় দূর্গন্ধে সড়কটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। দুঃসাধ্যে হয়ে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাসও। পায়ে চলা পথচারীদের চলতে হচ্ছে নাকচেঁপে। 

এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, এ ময়লা আবর্জনা আর এর দুর্গন্ধের কারণে এখানে অবস্থান করা অনেকসময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া কাস্টমারও আসতে চায় না।

এ সকল ময়লা বিভিন্ন দিক থেকে আসতেছে। আমরা কর্তৃপক্ষদের কাছে বার বার  অভিযোগ করা সত্ত্বেও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

সড়কের পাশে ময়লা- আবর্জনার সমস্যার কথা উল্লেখ করে পথচারী রহিমা বেগম বলেন, ময়লার গন্ধে হাঁটা যায় না। এখন কর্তৃপক্ষ বা যাগো জায়গা হেরা যদি কিছু না কয় ততো আমরা কি বলমু।

একই কথা জানালেন একে এম শামসুজ্জোহা সড়কের বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ, মূলত হোয়াইট হাউজ ও ফলের দোকনের ময়লাগুলোই এখানে ফেলা হয়। এ ময়লার দূর্গন্ধে আমাদের এখানে বসবাস করা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। আমরা কয়েকবার বলেছি কিন্তু কেউই এ সমস্যা কানে তুলছে না। আমাদের কর্তৃপক্ষদের কাছে অনুরোধ যাতে এ সমস্যার সমাধান করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ জানান, এখানে কারা ময়লা ফেলছে সেটি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আগামীকাল সরেজমিন দেখে ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা করবো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ ইচ্ছাকৃত এমন অবস্থার তৈরী করলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর