রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

নমিনেশন একটি স্বীকৃতি : এটা কাদের পাওয়া উচিৎ

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ।  অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০শে ডিসেম্বর/২০১৮ ইং অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ল্যাভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা উঠছে, কিন্তু প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে উঠছে অনেক অনেক কথা যা শুনলে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে টান পোড়ন শুরু হয়। 

বানিজ্য অর্থাৎ রিমান্ড বানিজ্য, কমিটি বানিজ্য, গণগ্রেফতার বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, নমিনেশন বানিজ্য প্রভৃতি বানিজ্যের কথা রসালো ভাবেই গ্রামগঞ্জে হাট বাজারে আলোচিত হয় যা নিয়ে কথা বলা আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য নহে এবং এ নিয়ে কথা বলতে উৎসাহ বোধ করি না, কারণ এ সব বিষয় শুনতে শুনতে গা শওয়া হয়ে গেছে। 
 
৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও দেশের ভাগ্য নির্ধারণ, দেশ বাসীকে নিরাপত্তা সহ লালন পালন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রাষ্ট্রের অবস্থান সঠিক রাখা সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা হেলা ফেলা হিসাবে দেখলে হবে না। 

পূর্বাপর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাজনীতির মাঠে বিচরন করা মানুষগুলিই রাজনীতিক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতো। কারণ তারা জনগণের দাবী দাওয়া নিয়েই মাঠে থাকে, বৃষ্টিতে ভিজেন, রৌদ্রে শুকান তাদেরকেই নির্বাচন নামক ভোটের মাঠে লড়াই করতে দেখা যেতো। কিন্তু সম্প্রতিকালে বাস্তব দৃশ্য হচ্ছে ভিন্নতর। 
সরকারী দলে মধু বেশী, অন্যদিকে পুলিশী নির্যাতন নাই, মামলা হামলার তো প্রশ্নই আসে না। ফলে হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারার জন্য সরকারী দলে নমিনেশন বিক্রির হিরিক পড়েছে। কিন্তু বিরোধী দলেও নমিনেশন কম বিক্রি হয় নাই। 

এর কারণ শেখ হাসিনা সরকারের দু:শাসনে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ঢল নেমেছে নমিনেশন ক্রয়ের জন্য, এ বিষয়টি সাধারণ মানুষ একটি উৎসব বলেই মনে করছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে এম.পি হওয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠকে যে ভাবে কোরবানীর হাঠে পরিনত করেছে তা নিতান্তই রঙ্গমঞ্চে তামাশার মতই মনে হচ্ছে যেমনটি সার্কাসের “সং” নামক নটরাজদেরও হার মানায়। 

১/১১ সরকারের একজন খল নায়ক লে: জে: (অব:) মাসুদউদ্দিন বলেছেন যে, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” অথচ তিনি দাড়িয়েছেন লাঙ্গল মার্কায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, যা করছি শেখ হাসিনার নির্দেশেই করছি (সূত্র: জাতীয় দৈনিক তাং-০৩/১২/২০১৮)।

 জাতীয় নির্বাচন আসলে উপর তালার নটরাজদের রাজনৈতিক চরিত্র কত প্রকার ও কি কি তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাদের এ চরিত্রকে কোরবানীর গরুর হাটের সাথে তুলনা করে নিজেকে ছোট করতে না চাইলেও এর চেয়ে ভালো উপমা দেয়া এপ্রোপিয়েট বলে মনে হচেছ না। 
 
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া দলের কর্মীর ন্যায্য অধিকার, কর্মীকে নেতার পরিনত করা দল ও কর্মীর পিছনে জনভিত্তি দাড়করানোর দায়িত্ব দলের। কিন্তু রাজনৈতিক দল সে কাজটি না করে দলীয় নেতৃত্ব পকেট ভারী করার খচর বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন চাওর হয়। নমিনেশন একটি স্বীকৃতি। এক স্বীকৃতি কাদের পাওয়া উচিৎ? 
 
লেখক
কলামিষ্ট ও আইনজীবি (এ্যাপিলেট ডিভিশন)   
মোবাঃ ০১৭১১-৫৬১৪৫৬
E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com