শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

নমপার্কের পাশে ময়লার স্তুপে ৪ মরা গরু, ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড নমপার্কের পাশে ময়লার স্তুপে পড়ে রয়েছে ৪টি মরা গরু। এর মধ্যে একটি আবার প্রায় ময়লার সাথে সড়কের উপরেই চলে এসেছে।

 

এ সড়কের দু‘পাশ জুড়ে সারিবদ্ধ ময়লার স্তূপ আর দুর্গন্ধ পরিচিত চিত্র হলেও এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে কোরবানীর মৃত পশুর বর্জ্যও। এ যেন অনেকটা ‘একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর’র মত অবস্থা।


বুধবার (৭ আগস্ট) সকালে সাইনবোর্ড থেকে লিংক রোডস্থ নম পার্ক (নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজম্যান্ট পার্ক) অতিক্রম করতেই চোখে পড়ে পার্কটির পাশেই ময়লার স্তুপের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে একে একে চার চারটি মৃত গরু।

 

এর কোনোটির পেট থেকে ভূড়ি গলে পড়ছে কোনোটির শরীরের চামড়া পঁচতে শুরু করেছে। আর এর দুর্গন্ধে সড়কে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।   


স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশ্ববর্তী কোরবানী পশুর হাটগুলো থেকে প্রায় সময়ই এখানে পশুদের বর্জ্য ও মৃত গরু ছাগল ফেলে যাচ্ছে। একদিকে ময়লার দূর্গন্ধ অন্যদিকে মাংসের পঁচা গন্ধে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। এ সময় তারা এ সকল বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান।


প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যাতায়াত করে লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া এ সড়কটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে বিনোদন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়। অথচ ময়লা-আবর্জনার দূর্গন্ধ আর নানা অব্যবস্থাপনা সড়কটি দিন দিন প্রাণ হারাচ্ছে ।


জালুকড়ি এলাকার বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এ সড়কটি। কিন্তু রাস্তার দুই পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর দুর্গন্ধে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করাটা দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।


নম পার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আসফাক চৌধুরী জানান, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। আর অন্যান্য জেলার সাথে এ জেলার যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হল এ সড়কটি।  

 

অথচ এ সড়কটির অবস্থা আর পরিবেশ দেখলে কেউ বলবে না যে এ জেলাটি ঐতিহ্যে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে ও অর্থনীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। ছেলেমেয়ে নিয়ে যে পার্কটির ভেতরে বসবো তার কোনো অবস্থা নেই। দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।


স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাঝে মধ্যে সড়কের পাশ থেকে ময়লা বুলডোজার দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সড়কের পাশে ময়লা না ফেলার জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিন্তু ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না।

 

সিটি করপোরেশন, ফতুল্লা ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য সংগ্রাহকরা ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। তবে এখন সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা ফেলছে না বলে তারা জানায় তবে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এখানে ময়লা ফেলছে। তবে এ সকল  আবর্জনার নির্দিষ্ট গন্তব্যে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কেউই।


এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) নাহিদা বারিকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এ কর্মকর্তা ফোনটি রিসিভ করেননি।
    

এই বিভাগের আরো খবর