সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯   চৈত্র ১১ ১৪২৫   ১৮ রজব ১৪৪০

নগরীর দুই অবৈধ স্ট্যান্ডে কোটি টাকার চাঁদাবাজি 

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ যোগদানের পর থেকেই নগরীর অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো ও দখলদারদের উচ্ছেদে বেশ তৎপর। চাষাঢ়া এলাকার পাঁচটি অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে বেশ প্রশংসাও কুঁিড়য়েছেন তিনি। 


পুরোনো সেই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোতে আবারো সিএনজি স্ট্যান্ড বসাতে তৎপর দখলবাজরা। রাইফেলস ক্লাব ও মহিলা কলেজের সামনে পুরোনো সেই দখলবাজরা অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে তাদের চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। দুটো অবৈধ স্ট্যান্ডের প্রায় ৩০০ সিএনজির প্রতিটি থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি করে আসছে তাঁরা। 


সর্বমোট বারোজন লাইনম্যান দিয়ে গাড়ি প্রতি ১০০টাকা করে দৈনিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয়। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ টাকা। বছরে যা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। মূলত এই কোটি টাকার চাঁদাবাজির কারণেই এ দুটো অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা বলে জানা গেছে।


সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চাষাঢ়া রাইফেলস ক্লাবের উত্তর পাশে মেসার্স আজগর ফিলিং সেন্টার এর সামনে রাস্তার উপর ও মহিলা কলেজের গেইটের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড দুটো রয়েছে । মেসার্স আজগর ফিলিং সেন্টার এর সামনের সিএনজি স্ট্যান্ড এ প্রায় দু’শো গাড়ি চাষাঢ়া থেকে সাইনবোড আসা-যাওয়া করে । আর মহিলা কলেজের গেইটের সামনে থাকা অবৈধ স্ট্যান্ডেও দেড়শোর বেশি সিএনজি রয়েছে। 


এগুলো চাসাঢ়া রেলক্রসিং থেকে পঞ্চবটি আসা-যাওয়া করে । এসব সিএনজি থেকে ‘নারায়ণগঞ্জ অটোরিক্সা চালক ইউনিয়ন’ নামে এই চাঁদা উত্তোলন করা হয়। জানা গেছে, কয়েক রাজনৈতিক নেতার নামে এই সংগঠন তার কার্যক্রম চালায়। বারো লাইনম্যানকে বেতন দেয়া হয় মূলত এই সংগঠন থেকেই। আর এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেন রিপন সরদার। তিনি প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট করে এ দুটো অবৈধ স্ট্যান্ড চালান। 


সংগঠনটির একাধিক সূত্র জানান, চাঁদার বিষয়টি সম্পূর্ণ রিপন সরদার নিয়ন্ত্রণ করে। চাঁদা সংগঠনের নামে তুললেও মাস শেষে কিছুই থাকেনা। কমিউনিটি পুলিশের একটি অংশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা দিতে দিতেই সংগঠনের কিছু থাকেনা। গাড়িগুলোর দেখাশোনায় নিযুক্ত ব্যক্তি, লাইনম্যানরা সংগঠনের কাছ থেকেই বেতন নেয়। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, এ রুটে গাড়ি চালাতে হলে সংগঠনকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তাদের কল্যাণেই আমরা এখান থেকে গাড়ি চালাতে পারি। টাকা না দিলে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসে। অনেককে মারধরও করে।  


আরেক চালক বলেন, ‘চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে কিছু লোক আছে তারা ঝামেলা করে তাই টাকা দিয়ে দেই। যাতে ঝামেলা না হয়।’ 
নারায়ণগঞ্জ অটো রিক্সাচালক ইউনিয়নের সভাপতি রিপন সরদার বলেন, ভাই আমি তিনদিন যাবত অসুস্থ। আমি গ্রামের বাড়িতে আসছি, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। 


জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘নগরীতে কোন অবৈধ স্ট্যান্ড থাকতে পারবেনা এমন নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কোন সংগঠনের নামে যদি অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজি করা হয় সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে কোন ধরণের চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবেনা।’
 

এই বিভাগের আরো খবর