মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সিটি বন্ধনের মালিককে মারধর

প্রকাশিত: ৪ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিটি বন্ধন পরিবহন লি. এর সাধারণ মালিকদের টাকা আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজদের সাথে থেকে সাধারণ মালিকদের রক্ষার আবেদন করায় আকরাম হোসেন প্রধান নামে এক বাস মালিককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

 

শনিবার (৫ মে) দুপুরে কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে সিটি বন্ধন পরিবহনের অফিসে এ ঘটনা ঘটে।  সিটি বন্ধন পরিবহন লি. কোম্পানীর এমডি আইয়ুব আলীর নির্দেশে  মিলন, দেলোয়ারসহ আরো ৫০/৬০ জন অতর্কিত তার উপর আক্রমন করে।

 

আহত বাস মালিক আকরাম হোসেন প্রধান জানান, গত কয়েকমাস যাবৎ আমি মালিকদের পক্ষে তাদের টাকা আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিলাম। এব্যাপারে পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১১এর সিও এবং সদর থানা ওসি বরাবর অভিযোগ করেছি বিধায় সেই চক্রটি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার উপর আক্রমন করেছে। আমি এখন আমার ও আমার পরিবারের জীবনের নিরপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। তারা আজ ৫০/৬০ জন মিলে আইয়ুব আলীর নির্দেশে আমাকে এলোপাথারী কিল-ঘুষিসহ প্রচন্ড মারধর করেছে, মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। 

 

আকরাম বলেন, আমি প্রশাসন বরাবর দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছি, আমরা সিটি বন্ধন পরিবহন লি. এর মালিকগণ পরিবহন নেতা নামধারী চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি, জুলুম, নির্যাতন  শোষনের হাত থেকে সাধারণ মালিকদের ছেলে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। 
আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি, বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন লি. দুষ্কৃতকারী তথা স্বার্থান্বেসী মহল এর দুর্নীতির কারণে আমাদের ব্যবসায়িক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ও নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ পরিমান যাত্রী পরিবহণ করলেও তাহার প্রেক্ষিতে যে আয় পাচ্ছি তা অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক ও অসংগতিপূর্ণ।

 

সিটি বন্ধন লি. এর ব্যবস্থাপনায় দুষ্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ গুটি কয়েক মালিকের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মালিকরা চরম অস্থিরতায় ভুগছে। 
আকরাম বলেন, সম্পদ মানুষের প্রয়োজনে কোন মালিক যদি সমস্যায় পরে বা অসুবিধায় পরে কোন গাড়ি বিক্রি করতে চায় তখন ওই দুর্নীতিবাজরা বাহিরে গাড়ি বেচাকেনা নিষেধ বলে জানিয়ে দেয়। সেই গাড়ি সাধারণ একটা মালিককে বাহিরে বিক্রি করতে না দিয়ে জিম্মি কর সেই গাড়ি কিনে নেয় ১৪/১৫ লাখ টাকায়। ওই গাড়ি তারা আবার বাহিরে বিক্রি করে ২০/২২ লাখ টাকা। এতে সাধারণ মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। 

 

আকরাম জানান, কাশীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কাশীপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সিটি বন্ধন পরিবহন লি. কোম্পানীর এমডি এবং প্রভাবশালী এক সাংসদের কাছের ও প্রিয় মানুষ পরিচয়দানকারী আইয়ুব আলী, আকেজন দেলোয়ার হোসেইন, যে কিনা সাবেক এক মরহুম এমপির ছেলের বন্ধু পরিচয়দানকারী ৫২৪৭ গাড়ির মালিক।

দেলোয়ার হোসেন একজন ইয়াবা সেবনকারী এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী। বন্দরের কলাগাছিয়া মহনপুর তার বাড়ি। দেলোয়ার একটি বন্ধন বাস কিনে প্রায় তিন বছর আগে। এখন বন্ধন গাড়ির মালিক পরিচয় দিয়ে অবাধে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে এবং কিছু হলেই বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের এনে সাধারণ মালিকদের মারধর, গালাগালি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয় দেখায়। সে বলে, কেউ তার কোন কিছু করতে পারবেনা। 

 

 

আকরাম জানান, সে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে এবং সাধারণ মালিকদের টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে আকেজন মিন ওরফে টাউট্টা মিলন বলে একজন রয়েছে। সে সিটি বন্ধন পরিবহন লি.এর একজন গাড়ির মালিক। কিন্তু সে আবার নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। মিলনের কিছু পোষ্য ড্রাইভার, হেলপার আছে যখন কোন সাধারণ মালিক আমাদের পরিবহন এর টাকা লুটপাটের কথা বলে এবং প্রতিবাদ করে তখন ওই নিরীহ মালিকদের উপর মিলন ওই ড্রাইভার, হেলপার দিয়ে অপমান-অপদস্ত এবং মারধর করায়। এই জন্য ওর বিষয়ে কান মালিক কথা বলার সাহস পায়না।

 

মিলন বাসস্ট্যান্ডে দুইটা বড় ক্যারামবোর্ড বসিয়ে অবাধে জুয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ড্রাইভার, হেলপাররা গাড়ি চালিয়ে যা আয় করে তা এই জুয়ার পেছনেই খরচ করে ফেলে। এবং মিলনের তত্ত্বাবধানে বাসস্ট্যান্ডের আশে পাশের ফুটপাতে যত দোকান আছে তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০০/৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়। প্রতিদিন ১৫/২০ হাজার টাকা এই নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে এচাঁদা তার নেতৃত্বেই তোলা হয়। 

 

আকরাম প্রধান জানান, এসব বিষয়ে মুখ খোলায় এবং প্রতিবাদ করাতেই তার উপর আজ বাসস্ট্যান্ডে আক্রমন করা হয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে তিনি নিরাপত্তার আবেদন জানান। 

 

এব্যাপারে কথা বলতে সিটি বন্ধন পরিবহন লি. কোম্পানীর এমডি আইয়ুব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে পারবোনা বলে লাইন কেটে দেন। 

 

এব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনায় সিটি বন্ধন পরিবহন লি.এর মালিকরাসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে আজ থানায় আলোচনায় বসা হয়েছিলো। আগামীকালও এ বিষয়ে থানায় আবারো উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর