সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

দুনিয়া কাঁপানো ১৫ রান!

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মাত্র ২৪২ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিল নিউজিল্যান্ড। মামুলিই ভেবেছিল সবাই। কিন্তু যারা ফাইনাল পর্যন্ত উঠে এসেছিল তাদের বোলিং শক্তি দিয়ে, তারা ২৪২-কেও করে তুলতে পারে পাহাড়সম। লর্ডস ফাইনালে সেটাই দেখা গেল। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে ইংল্যান্ড ২৪২ রান করতে গিয়ে হেরেই গিয়েছিল প্রায়। ভাগ্যটা খুব বেশি ভালো বলেই হয়তো বেঁচে গেছে।


মূলত লর্ডসে স্নায়ুর টানটা বেশি লেগে গিয়েছিল একেবারে শেষ দুই ওভারে। ১২ বলে প্রয়োজন ২৪ রান। টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি বলেই যেন রচিত হচ্ছিল এক একটি ড্রামা। প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে ফিরলেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। পরের বলেই জিমি নিশামকে ছক্কা মেরে ম্যাচ পুরোপুরি জমিয়ে তুললেন স্টোকস।


পঞ্চম বলে সিঙ্গেল রান এবং শেষ বলে জোফরা আরচারকে বোল্ড করে দিলেন নিশাম। ম্যাচ আবারও হেলে পড়ে নিউজিল্যান্ডের দিকে। কিন্তু ইংল্যান্ডের আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বেন স্টোকস। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৫ রান। তুমুল উত্তেজনা। প্রচ- আবেগ ভর করেছে তখন লর্ডসের পুরো গ্যালারিতে।


দুই দলই সময়ক্ষেপণ করলো। বোলার এবং ফিল্ডাররা নানা শলা-পরামর্শ করলো। পরিকল্পনা সাজালো। বল তুলে দেয়া হলো ট্রেন্ট বোল্টের হাতে। ডেথ ওভারে সব সময়ই ঘাতক তিনি। অন্যদিকে শলা-পরামর্শ করলেন বেন স্টোকস আর আদিল রশিদ। স্টোকস স্ট্রাইকে। প্রথম দুই বলে কোনো রানই দিলেন না বোল্ট।


৪ বলে ১৫- আরও কঠিন হয়ে গেলো ম্যাচ। এমন সময়ই ছক্কা মেরে দিলেন স্টোকস। ম্যাচ যেখানে পুরোপুরি ঝুলে ছিল নিউজিল্যান্ডের দিকে, এক ছক্কায় সেটা চলে এলো সমান্তরালে। 


এমন পরিস্থিতিতে যে কারও ওপরই প্রচণ্ড স্নায়ুর চাপ পড়ার কথা। সেটা পড়লো নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলের ওপর। দুই রান বাঁচাতে এবং সরাসরি থ্রোতে রান আউট করতে গিয়ে উল্টো বাউন্ডারি দিয়ে দিলেন তিনি। ছক্কা না পেলেও এই বল থেকে এলো ৬ রান।


নিউজিল্যান্ড ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ওই এক থ্রো’য়ের পরই। তবুও ট্রেন্ট বোল্ট শেষ দুই বলে জয় থেকে বঞ্চিত করেন ইংলিশদের। ম্যাচ হয়ে গেল টাই। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে ম্যাচ গড়ালো সুপার ওভারে।


সেখানেও তুমুল নাটকীয়তা। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে নিলো ১৫ রান। নিউজিল্যান্ডও জবাবে করলো ১৫ রান। ম্যাচ টাই, সুপার ওভারও টাই। কিন্তু বাউন্ডারি মারার ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হলো ইংল্যান্ড।

 

লর্ডসে যখন প্রতিটি বলে রচিত হচ্ছিল এক একটি ইতিহাস, তখন সেন্টার কোর্টেও চলছিল ইতিহাসের সেরা লড়াই। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লড়াইয়ে শেষ সেট চলছিল তখন।

এই বিভাগের আরো খবর