বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

দীর্ঘায়ু লাভের ১০টি উপায় জেনে নিন

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : দীর্ঘায়ু পাওয়ার ইচ্ছা সবার মনেই রয়েছে। সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে কেউ কি চলে যেতে চায়! 


এজন্যই যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীরা প্রতিনয়ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা-সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে মানুষ দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে? চলুন এরকমই ১০টি বৈজ্ঞানিক উপায় জেনে নেয়া যাক-


দ্রুত হেঁটে আয়ু বাড়ান : সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, যাদের হাঁটার গতি দ্রুততর, তাদের আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়। এমনকি একজন স্বাস্থ্যবান, রোগহীন মানুষের আয়ু স্বাভাবিকভাবে যেমন হওয়ার কথা, দ্রুততার সঙ্গে নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, এমন মানুষের আয়ু তাদের চেয়ে দীর্ঘ হয়। 


জেরনটোলজিক্যাল কনফারেন্সে উপস্থাপনকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ বছর ধরে মাুুষের হাঁটার গতির ওপর গবেষণা চালিয়েছে তারা। এতে দেখা যায়, যারা কম গতিতে হাঁটেন, তাদের মধ্য থেকে ৭৭ শতাংশ; যারা মাঝারি গতিতে হাঁটেন, তাদের ৫০ শতাংশ এবং যারা দ্রুতগতিতে হাঁটেন, তাদের মধ্য থেকে ২৭ শতাংশ এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন।


আনন্দে থাকলে আয়ু বাড়ে : ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ ও আনন্দে থাকলে দীর্ঘায়ু হওয়া যায়। শুধু মানুষ নয়, অন্যান্য প্রাণির জন্যও এ কথা প্রযোজ্য বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। ১৬০টির বেশি গবেষণার ফল পর্যালোচনা করে ‘অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি: হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিইং’ জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করে। 


বেশিরভাগ গবেষণার ফলই বলে দেয়, আনন্দে থাকার সঙ্গে দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক গভীর। গবেষণাগারেও দেখা গেছে, ইতিবাচক মনোভাব শরীরের হরমোন নিঃসরণে তারতম্য ঘটায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।


নিরামিষভোজীরা বেশি দিন বাচেঁন : নিরামিষভোজীরা আমিষভোজীদের তুলনায় অধিক দিন বাচেঁন। বিজ্ঞানীদের মতে, অধিক ফ্যাট সমৃদ্ধ আমিষ গ্রহণ ধমনীতে জাঙ্ক তৈরি করে, রক্তচাপকে বাড়িয়ে তোলো এবং হৃদরোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। 


অন্যদিকে যারা প্রচুর পরিমাণে সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করেন তাদের শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস থাকে। এটি আপনার শরীরের বার্ধক্য মেরামত করতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে ‘জাঙ্ক ফুড নিরামিষ’ ফ্যাট সমৃদ্ধ আমিষের মতই বিপজ্জনক।


ডিম কম খান : ডিম এই গ্রহের সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে একটি। তবে বেশি বেশি ডিম খাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়।বিজ্ঞানীদের মতে, সপ্তাহে ৬টির বেশি ডিম খাওয়া উচিত নয়। এতে কোলেস্টেরলের স্তর বেড়ে যায়, হৃদরোগ ও ডাইবেটিস টাইপ-২ এর ঝুকিঁও বাড়ে। ডিমে কুসুম বাদ দিয়ে খাবারে গ্রহণ করতে হবে।


সূর্যালোকে থাকুন : প্রায় ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর নিম্ন মাত্রা লক্ষ্য করা যায়। ফলে কম বয়সে হাঁড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া ও ভিটামিন ডি-এর অভাব জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ভিটামিন ডি-এর স্তর বজায় রাখতে প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য বাইরে সূর্যের আলোতে বেরিয়ে আসুন। তবে সারাদিনের তুলনায় শুধুমাত্র প্রথম সকালের সূর্যের আলোই উপকারী।


পর্যাপ্ত ঘুমান :  বেশি দিন বাচঁতে হলে একটানা দীর্ঘদিন নির্ঘুম না কাটিয়ে দৈনিক টানা কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে রিফ্রেশ করে করে বিশ্রাম দেয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


থাকুন চাপমুক্ত : অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ঘন ঘন উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারটেনশনে ভোগতে হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক।


নিয়মিত শরীরচর্চা করুন : নিয়মিত শরীরচর্চা কার্ডিও ভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আপনাকে বাড়তি শক্তিও জোগাবে। তাই আয়ু বৃদ্ধি করতে হলে রুটিন মেনে প্রতিদিন ওয়ার্ক আউট, যোগব্যায়াম অথবা আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা হাঁটতে/দৌড়াতে/খেলতে হবে।


ধূমপান ছাড়ুন : প্রতিবছর শুধুমাত্র ধূমপানের কারণে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ধূমপান হচ্ছে- ফুসফুস ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিসসহ অন্তত ১৩ প্রকার ক্যান্সারের মূল কারণ। ধূমপান ত্যাগ করলে উক্ত রোগগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৯০ শতাংশে কম যাবে।

 

পশু/প্রাণি পুষুন : এটি প্রত্যেকের জন্য নাও হতে পারে তবে গবেষণায় দেখা গেছে, একজন পশু/প্রাণি প্রেমিক যিনি তার পছন্দের প্রাণি পোষেন তাদের রক্তচাপ কম হয়। তারা হৃদরোগ এবং বিষণ্নতায়ও কম ভোগেন।

এই বিভাগের আরো খবর