বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

দিপুর আত্মসমর্পণ : আইনজীবীদের বিস্ময়!

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট :  এড.আনিসুর রহমান দিপু। এমপি শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবেই পরিচিতি। দিপু শামীম ওসমান বলয়ের লোক এটা সর্বমহলেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। তবে খটকার শুরু ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর। তখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহসভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে তিন জনের নাম ঘোষণা করা হয়। 


জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হতে চেয়েছিলেন আনিসুর রহমান দিপু। কিন্তু সভাপতি হিসেবে তখন আব্দুল হাই, সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং সেক্রেটারি হিসেবে এড.আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলের নাম ঘোষণা করা হয়।


ভিপি বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হিসেবে শামীম ওসমান তদবীর করেছেন এই অভিমানে শামীম বলয় থেকে বেরিয়ে আসেন দিপু। এরপর আনিসুর রহমান দিপু আইভী বলয়ে প্রবেশ করেন। দিপু আর  শামীম ওসমানের লোক নন এই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালান নানাভাবে। আইভী বলয়ে আস্থাভাজন হয়ে বিশ্বাস অর্জনের দ্বারপ্রান্তে এসেও পল্টি মেরে ওসমান বলয়ে ঢুকে পড়লেন দিপু। হঠাৎ দিপুর পল্টিতে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন আদালতপাড়ার আইনজীবীরা।   


সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, আইভী-গাজী বলয়ের আইনজীবীদের সাথে দিপু সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি শামীম ওসমান বলয়ের এড.খোকন সাহা, ভিপি বাদল, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, এড.মাসুদুর রউফ, এড.হাসান ফেরদৌস জুয়েল, এড.মোহসীন মিয়া, এড.আব্দুর রশিদ ভূঁইয়াসহ অন্যান্যদের কাছ থেকে আনিসুর রহমান দিপু প্রকাশ্য দূরত্ব বজায় রাখতেন। শামীম বলয়ের অন্যদের সাথেও তিনি দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।


জুয়েল-মোহসীন জুটি প্যানেল যখন গতবার নির্বাচনে অংশ নেয় তখন প্রথমে এই প্যানেলের পক্ষে ছিলেন না দিপু। যদিও শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে দিপু-খোকন সাহাকে নিয়ে ওই প্যানেলের সাথে মিলিয়ে দেয়া হয়েছিল। তথাপি শামীম ওসমানের ওই প্যানেলের পক্ষে দিপু প্রকাশ্যে প্রচারণায় না থেকে নিরব ছিলেন। তিনি কি বিরাগভাজন ছিলেন, নাকি শামীম ওসমান প্যানেলের পক্ষে কাজ করেছেন এটি পরিষ্কার ছিলনা।
সিনিয়র আইনজীবীদের মতে, গতবার আইভী ব্লককে দিপু এই বলে সান্তনা দিয়েছেন তিনি ওসমান বলয়ে ঢুকবেন না, তিনি ওসমান বলয়ের লোক নন। দিপুর ওসব কথায় আইভী ব্লকের লোকজন অবিশ্বাস করার সুযোগ পায়নি। 


কিন্তু এবার দিপু নিজেই আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষতক তিনি নির্বাচন থেকে লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন। 

যদিও দিপু আইনজীবীদের বলছেন, তার উপর প্রচন্ড চাপ ছিলো এবং সেটি ঘরে-বাইরে। কিন্তু আদতে প্রকাশ্যে দিপু চাপ অনুভব করেননি। শনিবার দিপু প্যানেলের প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে হোন্ডার মহড়া দিয়েছিল বলে জানা গেছে। আর এতেই ভীত হয়ে পড়েন দিপু। 


সিনিয়র আইনজীবীরা আরো বলেন, শনিবারের পর রোববার সকাল থেকেই দৃশ্যপট একদম পাল্টে যায়। যেখানে দিপুর লোকজন বলছিল, নানা হুমকি ধমকি দেয়ার কথা তেমনটি হলেতো দিপু গ্রুপের অন্যত্র অবস্থান করার কথা ছিল। যদি সত্যিকার অর্থেই লড়াই করার ইচ্ছা থাকতো তবে ওই সময়গুলো ওভারকাম করার চেষ্টা করবার কথা ছিল।


কিন্তু দিপু নিজের চেম্বারে আরাম-আয়েশ করছিলেন। পূর্বনির্ধারিতভাবেই এমপি শামীম ওসমান এড.দিপুর চেম্বারে গেলেন, গল্প-গুজব করলেন, এরপর বন্ধু দিপুকে নিয়ে আসেন। এর মিনিট দশেক পরেই বাধ্য ছেলের মতো দিপু প্যানেল তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

তবে দিপু প্যানেলের সবাই স্রোতে গা ভাসায়নি। এই প্যানেলের দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আপ্যায়ন সম্পাদক পদে মামুন সিরাজুল মজিদ, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে রোমেল মোল্লা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেননি। 

আইনজীবীরা বলেন, এই নির্বাচন থেকে দিপু সরে যাওয়ার পর তার অবস্থানটা অনেক নড়বড়ে হয়ে গেল। দিপু আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের আস্থার প্রতীক ও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু মুহুর্তেই উল্টে গেল চিত্র। 


আইনজীবীরা এখন বিস্ময় প্রকাশ করে শুধু বলছেন, দিপু কীভাবে পল্টি মারলেন। দিপু যেখানে আইনজীবীদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সেখানে বিনাযুদ্ধে আত্মসমর্পন করলেন ! অনেকে প্রশ্ন রাখেন নির্বাচনে যদি যুদ্ধের মানসিকতা নাই থাকে তবে কেনো এসে এভাবে ভোজবাজি করলেন ? তারা বলেন, তাহলে এটি নির্বাচন কিংবা অন্য কিছু নয়, মূলত শামীম ওসমান বলয়ে পুণরায় ঢুকে যাওয়ার জন্য দিপুর উপলক্ষ্য ছিলো। 


হেরে যাওয়া শব্দটি উচ্চারিত হয় যখন  কেউ লড়াইয়ে অবর্তীর্ণ হয়। কিন্তু দিপুর ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার করার চেয়ে ওসমান বলয়ের সাথে মেলার জন্য অসহায় আত্মসমর্থন শব্দটিই বেশি প্রযোজ্য। তবে নেতিবাচক ইতিবাচক যে যার মতো ব্যাখ্যা করে নিক, এবারের বারের নির্বাচনে দিপুই অঘটন পটু। তবে সামনে কোথায় হবে তার অবস্থান তা সময় বলে দিবে। 

এই বিভাগের আরো খবর