শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

দায়িত্ব পালন সকল আনন্দের উর্ধ্বে : এহতেশামুল হক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৮   আপডেট: ১২ জুন ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এফএএম এহতেশামূল হক। কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বাবা-মায়ের সাথে ঈদ কাটানোর সুযোগ হয়ে উঠে না বলে জানান তিনি। যুগের চিন্তা ২৪’র ঈদ আড্ডায় ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে এফএএম এহতেশামূল হক জানান,ঈদে নিয়ে তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই।

 

কেনাকাটার কথা যদি বলি ঈদে তেমন কোনো কেনাকাটা করিনি। নিতে হয় তাই নেয়া আর কী। তবে বিশেষ কিছু না। ঈদ পরিবার পরিজন নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে ঈদ কাটাবো। কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বাবা-মায়ের সাথে ঈদ কাটানোর সুযোগ হয়ে উঠে না। তবে এবার ববা-মা ঢাকায় আছে তাই বাবা-মাকে নিয়েই এবারে আমার ঈদ উদযাপন হবে। ঈদের পোষাক কেনাকাটায় মজার স্মৃতি নিয়ে এহতেশামুল হক জানান,ঈদ পোশাক নিয়ে স্মৃতির তেমন কিছু নেই। তবে ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে মিলে একরকম জামাকাপড় কিনতাম। ঈদের সালামী বা ঈদী’র মজার স্মৃতিচারণ করে এহতেশামুল হক জানান, ঈদ সালামী এখন আর পাওয়া হয় না।

 

ছোটবেলায় পেতাম বাবা-মায়ের কাছ থেকে। কিন্তু এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে সালামী নেয়ার রীতিটাও পাল্টে গিয়ে দেয়ার রীতি হয়ে গেছে। তবে ছোটবেলার সালামী পাওয়ার অনুভুতিটা এখনও অনুভব করি। ঈদের দিন ব্যস্ততায় কাটে জানিয়ে এহতেশামুল হক জানান, সকাল সকাল উঠবো গোসল সারবো তারপর ঈদের নামাজ পড়বো। ঈদের দিনটি আমার পরিবারও বাবা মায়ের সাথে কাটাবো। তারপর বিকেল দিকে একটু বের হব। ঈদের পছন্দনীয় খাবার নিয়ে তিনি বলেন,ঈদের সময়ই বাসায় থেকে মুখরোচক খাবারের আস্বাদন পাওয়া যায়। যা অন্যান্য সময় কর্মব্যস্ততার কারণে হয়ে ঊঠে না। তবে অন্যান্য খাবারের চেয়ে ঈদের সময় বাসায় বিভিন্ন আইটেমের রান্না করা খাবারের মধ্যে সেমাইটাই আমার খুব প্রিয়। যেমন,দুধে ভেজানো সেমাই,ভাজা সেমাই। এছাড়া ইলিশ মাছ দিয়ে গরম গরম খিচুরীটাও আমার পছন্দের খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। আগের চেয়ে এখনকার ঈদ উদযাপনটা অনেক পার্থক্য আছে জানিয়ে এহতেশামুল হক বলেন, ছোটবেলায় ঈদ উদযাপন একরকম ছিল। তারপর যখন স্কুল-কলেজে পড়ি তখন একরকম ছিল। কিন্তু কর্মস্থলে যোগ দেয়ার পর আমার ঈদ উদযাপন অনেকটা ভিন্ন

 

। এমনো ঈদ আছে যেখানে আমাকে ঈদের দিন পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সহকর্মীদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি প্রসঙ্গে এহতেশামূল হক জানান,আমি যেখানে কাজ করি ঐ কর্মস্থলের মানুষগুলো ও আমরা একটি পরিবার। তাই এ পরিবারটি আমার কাছে অনেকটা নিজের পরিবারের মতই। তাই ভাগাভাগিটাও পরিবারের সাথে যেভাবে আন্তরিকভাবে ভাগাভাগি করি তেমনি আমরা সহকর্মীসহ সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করি। ফুটবল বিশ্বকাপে এখনও কোন দল বাঁছাই করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন,কোন দলের সার্পোটে যাব তা প্রথম রাউন্ড দেখার পর বলতে পারবো। তবে ব্রাজিল,জামানী এ দলগুলো ভালো খেলে। ঈদের চমৎকার স্মৃতিচারণ করে এহতেশামূল হক জানান, আমি যখন চুয়াডাঙায় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলাম তখনকার ঘটনা এটা। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসছি।

 

আমি যখন ঈদের নামাজ পড়তে যাব তখন খবর আসে ওখানে দুইজন মানুষ মারা গেছে। তাই আমাকে ঈদের নামাজ সেরেই আমার কর্মস্থলে ফিরতে হয়। এটাই আমার জীবনে একটা অবিস্মরণীয় স্মৃতি। আমি সেদিন থেকেই বুঝতে পেরেছি দায়িত্ব আসলে কী। আর এ দায়িত্ব পালন সকল আনন্দের উর্ধ্বে। পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি জানান,ঈদে আমার পরিবার আমরা সাথেই সবসময় থাকে। কিন্তু বাবা-মাকে ছাড়া বহুবার ঈদ করতে হয়েছে। কারণ কর্মস্থলের ব্যস্ততায় সময় সুযোগ হয়ে উঠেনা অনেক সময়। ঈদুল ফিতরে এহতেশামূল হক তাঁর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর