শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

থানার ভেতরেই বাদীকে পেটালেন যুবলীগ নেতা মীর সোহেল !

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লার কুতুবপুরের বউবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলছে উত্তেজনা। এরই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু  বাহিনীর সদস্যরা মুরাদ নামের একজন ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।  

মুরাদের ভাই সেলিম এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।  আর এ অভিযোগের ব্যাপারে তদন্তকারী অফিসার এসআই মিজান সেলিমকে শুক্রবার রাতে থানায় আসতে বলে।

সেলিম শুক্রবার রাতে থানায় প্রবেশের সময় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের সাথে দেখা হয়। এসময় মীর সোহেল ও তার সাথে থাকা শাহীন থানা গেটের সামনে সেলিমকে মারপিট করে।

এক পর্যায়ে তাকে টেনে হিচড়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাসানুজ্জামানের রুমে তাকে নিয়ে যায়। সেখানেও হাসানুজ্জামান তাকে শাসিয়েছে বলে অভিযোগ। সেলিমের উপর থানার ভেতরে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় কুতুবপুরে সন্ত্রাসী মীরুর বিরুদ্ধে রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে  এলাকাবাসী । এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

তবে অপর একটি সূত্র জানায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর বউ বাজার এলাকায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে দুই গ্রুপ। রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় কমপক্ষে ৪ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি।  

স্থানীয়রা জানায়, ফতুল্লার কুতুবপুরের সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুর বাহিনী বৃহস্পতিবার বিকেলে কুতুবপুর বউবাজার এলাকায় মুরাদ নামে এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল তাক করে হুমকি ধামকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

এ ঘটনায় এদিন রাতেই মুরাদের ভাই চাঁদ শিকদার সেলিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এসআই মিজান ঘটনাস্থলে আসেন এবং শুক্রবার রাতে তাকে থানায় আসতে বলেন। সে  অনুযায়ী  সেলিম  শুক্রবার রাতে থানায় আসে।  

থানায় প্রবেশ করার সময় থানা গেটের সামনে যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেলে সাথে তার দেখা হয়।  এসময় তার সাথে শাহীনসহ  বেশ কয়েকজন ছিল। এক পর্যায়ে মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন থানার ভেতরই সেলিমের উপর হামলা চালায়।

পরে তারা তাকে মারতে মারতে থানা থেকে রাস্তার নিয়ে আসে। আবার  সেখান থেকে টেনে তাকে ওসি তদন্ত হাসানুজ্জামানের রুমে নিয়ে যায়। এমনটিই জানিয়েছেন সেলিম।  

তিনি আরও বলেন, ওসি তদন্তের রুমে নেওয়ার পর তিনি আমাকে উল্টো ধমকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন ‘থানায় আপনার কাজ কি, কেন এসেছেন!’ এভাবে থানার ভেতরই যদি আমাদের উপর হামলা করে তাহলে বাইরে আমাদের নিরাপত্তা কতটুকু এবার বুঝে নেন।
অপরদিকে থানার ভিতর সেলিমের উপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে কুতুবপুর।  শুক্রবার রাত প্রায় ১২ টার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কুতবুপুর এলাকায়। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। তবে বিবাদমান দুউপক্ষকে শান্ত করতে পুলিশের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।    

এ ব্যাপারে মীর সোহেল আলীর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধাক্কাধাক্কির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি সেলিমকে থানায় দেখে আমার অফিসে ডেকেছি কি হয়েছে তা বসে কথা বলার জন্য। এর বেশি কিছু হয়নি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই। আমি সেসময় থানায় ছিলাম না।

তবে, কুতুবপুরে দুই পক্ষের মধ্যে একটা গ্রুপিং হয়েছে। এতে করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাদেরকে আগামীকাল থানায় ডেকেছি। যাতে করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর