শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

ত্বকী হত্যা মামলা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য আদলতে আবেদন

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার (৯/৩/১৩) আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফাহমিদা নবীর আদালতে সোমবার দুপুরে ওই আবেদন জানান মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী প্রদীপ কুমার ঘোষ। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আগামী ১৭ মে তারিখ ধার্য করেন। 

 

এবিষয়ে আইনজীবী প্রদীপ কুমার ঘোষ জানান, ত্বকী হত্যা দেশের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের একটি। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর জোড়া খাল হতে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে। সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্টের বিভাগের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে র‌্যাব। এই মামলার আসামি শওকত সুলতান ভ্রমর এবং ইউসুফ হোসেন লিটনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ওই বছরের ২৯ জুলাই ইউসুফ হোসেন লিটন ও ১২ নভেম্বর সুলতান শওকত ভ্রমর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট একেএম মহিদউদ্দিনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ভ্রমর বলেছেন, ‘আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করেছে। 

 

আমরা গতকাল ধার্য তারিখে আদালতের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ছাড়াও মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ এবং দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করার জন্য আবেদন জানিয়েছি। আদালত আমাদের আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৭ মে আদেশের দিন ধার্য রেখেছেন। 

 

প্রদীপ ঘোষ আরও জানান, ত্বকী হত্যা মামলায় সুলতান শওকত ভ্রমরসহ পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অপর ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া সুলতান শওকতসহ পাঁচ আসামি উচ্চ আদলত থেকে জামিনে রয়েছেন। সুলতান শওকত ভ্রমর জামিনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। আসামিদের গ্রেপ্তারে ২০১৮ সালে ৫ জানুয়ারি এ ব্যাপারে আবদন করা হলে আদালত তাগিদের আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু সেটি এখনো পালন হয়নি।   

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনীয় শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরেরর ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। 

 

হত্যার এক বছরেই ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র‌্যাবে তৎকালিন অতিরিক্তি মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন ত্বকীকে হত্যা করেছেন। এরপর থেকে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। 

এই বিভাগের আরো খবর