শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

তোলারামের টর্চারসেলে ছাত্রলীগের নির্যাতন তিনি চোখে দেখেনা: রাব্বি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, আমাদের  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে  নির্লজ্জ্ব, বেহায়া, অমানবিকের মত আবরারেরর মতো একটা মেধাবী ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তাকে দেখতে যায় না। অথচ সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক এবং এদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে রেখে আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভাববো। একই অবস্থা আমাদের নারায়ণগঞ্জের। তোলারাম কলেজে টর্চারসেল রয়েছে। এখানে যে ভাইস প্রিন্সিপল রয়েছে সেও একইভাবে এখানকার ছাত্রলীগের কথায় এবং ছাত্রলীগ যাদের পেটোয়া বাহিনী শামীম ওসমানদের কথায় উঠবস করে। এ টর্চার সেলের ভেতরে নির্যাতন করা হলে সেও (ভাইস প্রিন্সিপল) চোখে দেখে না। কারণ নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগ তারা শামীম ওসমানের লোক। সুতরাং এর বিরুদ্ধে তো বলা যাবে না। কিছু দেখাও যাবে না। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। আমরা এ খুনী জল্লাদদের চেহারার যে রাষ্ট্র সে রাষ্ট্রের পরিবর্তন চাই। আমরা একটা মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু এভাবে পিটিয়ে হত্যার জন্য লাশের পর লাশ ফেলার জন্য আমাদের এ দেশ স্বাধীন হয় নি। 

 

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

 

রফিউর রাব্বি বলেন, ভিন্নমতকে নিষ্ঠুরভাবে দমনে একটি উদাহরণ হচ্ছে আবরার হত্যা। সরকারকে ভিন্নমতকে  একেবারেই গ্রহণ করতে চায় না। আর ভিন্নমতকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করে যারা তারাই হচ্ছে স্বৈরাচার। তারা কখনওই ভিন্নমতকে সৎভাবে গ্রহণ করতে পারে না। যেই চুক্তি করা হয়েছে ভারতের সাথে সেই চুক্তি প্রথমত জনগণকে না জানিয়ে একক ভাবে করেছেন আমার এখানে প্রথম প্রশ্ন তিনি এ চুক্তি কিভাবে করেন এবং তিনি এদেশে নিজেকে সবচেয়ে বেশি দেশ প্রেমিক দাবি করেন। তার চেয়ে  বড় দেশপ্রেমিক বাংলাদেশে কেউ নাই। তারা দ্বারা বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে না। তাহলে কি কারণে জনগণকে না জানিয়ে জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের সাথে এ চুক্তি সম্পাদন করতে পারেন।  এতগুলো চুক্তি কেন করা হল? সেখানে  বাংলাদেশের কোন স্বার্থটা রয়েছে। আমরা এটা স্পষ্টভাবে দেখতে চাই।

 

সরকার প্রধানের সমালোচনা করে রফিউর রাব্বি বলেন, এ দেশের আঠারো কোটি মানুষ কি কালো চশমা আর টিনের চশমা পড়ে থাকে আপনি মনে করেন। আপনি জানেন না জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিতে চান না এবং জনগণ ভোট দিতে চায় না বলে আপনি ভারতে গিয়েছেন। তাদের সমর্থণের জন্য। আপনি তা বিশ্লেষণ না করে ভিন্নমত দমনের জন্য পেটোয়া বাহিনী, গুন্ডা বাহিনী আপনি পুষছেন। যখন আপনার এ পোটোয়া বাহিনী, গুন্ডা বাহিনী  ফ্র্যাঙ্কস্টাইনের মত দানব হয়ে আপনাকে খেতে চায় তখনই আপনি দৃশ্যমান দু’চারটা বিচার ঘটান। সরকারের প্রধানমন্ত্রীর এ চরিত্র তার দল ও দলের লোকের কাছে পরিচিত তারা জানে।

 

তিনি বলেন ‘তারা যদি  কিছু পানি চায় তাহলে কি আমরা দেব না?’ একটা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রপ্রধান কিভাবে এ কথা বলতে পারেন? যার দেশের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ব থাকে  জনগণের প্রতি দায়িত্ব থাকে কি করে তিনি এ কথা বলেন। যেখানে আমরা বছরের পর বছর যুগের পর যুগ  এ ভারতে কাছ থেকে পানি চেয়ে আমরা পানি পাই না।  এ ফারাক্কার জন্য কি করতে না হয়েছে আমাদের সমস্ত ইতিহাস আমাদের রয়েছে। আমরা পানির জন্য কি করি নাই ভারতে সাথে। ভারত এ পানি না দেয়ার জন্য কি কি ফন্দি আমাদের সামনে হাজির করে নি। তারা পশ্চিম বঙ্গের সাথে কেন্দ্রের সমন্বয়হীনতার কথা বলেছে। আমাদের দেশের সরকাররা বলছে ‘হ্যাঁ ঠিক ঠিক’। কেন্দ্রের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ভিন্নমত থাকুক না থাকুক এতে আমাদের কিছু আসে যায় না। ওটি একটি আলাদা রাষ্ট্র। আমরা কি কারণে আমাদের নূন্যতম স্বার্থ আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে আমরা তাদেরকে  পানি দেয়ার কথা কেন করে আসলাম।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, তারা বলছে আমরা যে গ্যাস আমদানি করবো সে  গ্যাস তাদের দেব। যে গ্যাস আমরা আমদানী করি সে গ্যাসই তো আমরা দেশের মধ্যেই দেই। এ গ্যাস আমদানীতে সরকারের যেমন ভর্তুকী তেমনি রপ্তানিতেও সরকারের ভর্তুকী। আর সরকারের ভর্তুকী মানে কি সে টাকাটা  জনগণের টাকা। আপনি ভারতকে নিজে আমদানী করে সকল কিছু প্রক্রিয়াজাত করে ভারতের কাছে পাঠাবেন। তাহলে ভর্তুকী কার টাকায় দেবেন। কার টাকা আপনার মন্ত্রীর টাকা না আপনার পূর্বপুরুষের টাকা। এটা জনগণের টাকা।  এর হিসাব অবশ্যই জনগণ আপনার কাছ থেকে চাইবে। জনগণকে হিসেবে দিয়েই আপনাকে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। আপনি সুন্দরবন উজাড় করে দিচ্ছেন আর আপনি বলছেন সুন্দরবন আপনার হাতে। এ দেশে কখনও অরক্ষিত না। এদেশের কখনও কোনো ক্ষতি হবে না।

 

তিনি বলেন, তাই বলতে চাই সরকার যে সমস্ত চুক্তি করেছে সে সমস্ত চুক্তি বাতিল করতে হবে। সে সমস্ত চুক্তি প্রকাশ করতে হবে এবং এ আবরার,সাগর রুনি,তনু ও সকল হত্যার সাথে জড়িদেও বিচার করতে হবে। আমরা জানি কেন এ হত্যাকারীদের বিচার হয় না। আবরার হত্যার বিচারও সহজে হত না যদি না। প্রধানমন্ত্রী তখনই নির্দেশ দেন যখন দেখে তার গদি টালমাটাল।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা সাতখুনের সময় দেখেছি যখন নাকি উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে র‌্যাব এদের গ্রেফতার করা জন্য তখন  প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘সবই যদি আদালত করে তখন আমরা আছি কেন?’। কারণ প্রধানমন্ত্রীর এ আদালতের আদেশও   বিচার করার নির্দেশ তার পছন্দ হয় নি।  সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর চরিত্র আমরা জানি।  তিনি সব একা করতে চান করেন। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে আপনি যদি সব একাই করতে চান তাহলে এমন ডজন মন্ত্রী ডজন আমলা পোষার দরকার কি? মন্ত্রাণালয় রাখার দরকার কি এগুলাতো আমাদের টাকায় রাখেন আমাদের টাকায় পোষেন। আপনি যখন করতে চান এর অর্থটা কি? এক নেতা  এক দেশ অর্থ্যাৎ স্বৈরশাসক হিসেবে তিনি নিজেই নিজেকে ঘোষণা করছেন। আমরা স্বৈরশাসনের অবসান চাই। আজকে আওয়ামী লীগের এ শাসনামল এমন বাস্তবতা তৈরী করেছে এরশাদের স্বৈরশাসনকেও হার মানিয়েছে।

 

তিনি বলেন, দেশের দুঃসময় জনগণ তাদের ষোল আনা ঠিকই আদায় করে নিয়েছে। আমাদের সকল অন্যায়-অবিচার,হত্যার বিচারের দাবি আমরা আদায় করে ছাড়বো। স্বৈরশাসনের পতন ঘটাবো। নতুন যে রাজাকার বাহিনী হয়েছে ,নতুন যে আলবদর বাহিনী করেছে আজকের এ সরকার তার ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দিয়ে আমরা তার অবসান ঘটিয়ে  আমাদের এ ভুখন্ডকে পরবর্তী প্রজন্মকে নিরাপদে বাংলাদেশ উপহার দেব।
 

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি’র সভাপতিত্বে ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব ও কবি ,সাংবাদিক হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা খেলাঘর আসর রথীন চক্রবর্তী, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ  সম্পাদক  অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, গণসংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সমমনার সভাপতি  দুলাল সাহা, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব। প্রতিবাদী সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। 
 

এই বিভাগের আরো খবর