বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

তৃণমূল কর্মীর আগে সভাপতির বিচার হওয়া উচিৎ : জাহাঙ্গীর আলম

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : একটি ক্লাবে এক বিশেষ ব্যক্তির প্রেসক্রিপশনে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এবং বিশেষ লাভের আশায় সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি করেছেন আর তাঁর কারণেই সভাপতি ও সেক্রেটারির গাড়িবহরে নেতাকর্মীরা আক্রমন করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীল লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, তৃণমূল কর্মীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ। শনিবার পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। 

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, রাইফেল ক্লাবে বসে কোন এক বিশেষ ব্যক্তির প্ররোচণায় বিশেষ সুবিধা পেয়ে এই আহবায়ক কমিটি দিয়েছিলো সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদল। তারা জেলার সমস্ত নেতাদের তোয়াক্কা না করে, কোন জিজ্ঞাসাবাদ না করে, কোন মিটিং না করে তারা দুইজন একটা কমিটি দিয়ে দিলো। 

আমরা জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে জমা দিয়েছি। তিনি তো বলেই দিয়েছেন, ওই আহবায়ক কমিটি অসাংবিধানিক, অগঠনতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। এটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির এখতিয়ারের বিষয়না। 

পুরানো কমিটিই বহাল থাকবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি যে নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েছেন এরজন্য উনারাই দায়ী। রোষানলে পড়েছে তো এই অবৈধ কমিটি দেয়ার কারণেই। ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করেছে এরজন্য দায়ী আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল। 

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের সম্মেলনে তাদের দুইজনের একজন করে উপস্থিত ছিলো। রূপগঞ্জ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করেছেন। গোলাম দস্তগীর গাজী সভাপতি ও শাজাহান ভূঁইয়া সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সভাপতির উপস্থিতিতে। 

আড়াইহাজারের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি ভিপি বাদলসহ অন্যান্যরা। দুটো কমিটি তারাই তো বৈধ বলেছেন। তারা আবার কিভাবে কোন মুখে কেন্দ্রে গিয়ে বলেন এই দুই কমিটি ভেঙে দেয়ার জন্য। আমি তো মনে করি তারা দুইজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্যই মনে করিনা এখন।   

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সভাপতি আব্দুল হাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে আমি মনে করি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ।
বিদেশ থেকে এসে কারো সাথে আলোচনা করলেননা এই বিতর্কিত কমিটি নিয়ে। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। এখন তৃণমূল কর্মীদের রোষানলে পড়ে আবার এসেছেন এখন তাদের বিচারের দাবিতে। তাদের বিচারের আগে সভাপতিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ। 

নৌকার বিরুদ্ধে যারা গেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলছেন তো সভাপতি তার কাছে আমার প্রশ্ন আপনার সেক্রেটারি যাকে ভিপি বাদল বলে আমরা বলি বাদল যখন নৌকা নামিয়ে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে লাঙল উঠাইছিলো তখন আপনি কোথায় ছিলেন? চোখে কি আঙ্গুল দিয়ে রেখেছিলেন? তখন ব্যবস্থার কথা বললেননা? এই সেই বাদল যে নিজে নৌকা নামিয়ে লাঙ্গল উঠাইছিলো। 

সারা নারায়ণগঞ্জবাসী এগুলো জানে, আপনি জানেননা। আগে আপনার সেক্রেটারির বিচার করেন, পরে আসেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার করতে? আপনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বিধায়ই তৃণমূল কর্মীরা আজ এতো ক্ষুদ্ধ। আপনারা কেন গেলেন চুপিসারে এই অবৈধ কমিটি দিতে!

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, আপনাদের দুইজনের কারণে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কোথাও কথা বলতে পারছেনা, থুথু দিচ্ছে সবাই। সবাই বলছে কি করে আপনারা এই অবৈধ কমিটি দিলেন। তৃণমূল কর্মীদের ক্ষেপিয়ে দিয়ে এতো বড় দায়িত্বে থেকে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে রইলেন। বিচার হওয়া উচিৎ সর্বপ্রথম আপনাদের দুইজনের।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর  সোনারগাঁ জামপুর ইউনিয়নে একটি সমাবেশ করতে যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদল। স্থানীয় যুবলীগ নেতারা একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দেন। উত্তেজনার মুখে গাড়ি বহরে হামলা চালায় যুবলীগ নেতারা। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা.আবু জাফর চৌধুরী বীরুর বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে ছোট আকারের সভা করেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। 

স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা রাত পর্যন্ত জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় পাহারা বসিয়ে রাখে। এরআগে গত ১৬ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল। বিতর্কিত এই কমিটির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে কমিটির বেশিরভাগ নেতা। 

পরে অধিকাংশ নেতার স্বাক্ষরিত এক অভিযোগপত্র জমা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে। তিনি এই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রেখে পূর্বের কমিটির কার্যক্রম বলবৎ থাকবে বলে নির্দেশনা দেন। 

বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি নিয়ে জেলা ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরমধ্যেই আহবায়ক কমিটি নিয়ে সোনারগাঁয়ে সভা করতে গেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারিকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে।    
 

এই বিভাগের আরো খবর