শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ১৯ রমজান ১৪৪০

তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষে ডিবি পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ আহত ১০

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফাস্টফুডে খাবার খেয়ে বিল না দিতে চাওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ব্যপক সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ ডিবি সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে খানপুর বরফকল খেয়াঘাট সংলগ্ন চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসী পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইলাইফ কেয়ার ফাস্টফুড নামের একটি দোকানে পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে যান ডিবির দুই সদস্য এএসআই আমিনুল ও এএসআই বকুল। মিল্কসেইক খাওয়ার পরে ওই মিল্কসেইকটি ভাল হয়নি দাবি করে বিল দিতে রাজী হয়নি এএসআই আমিনুল ও এএসআই বকুল।

এসময় তাদের সঙ্গে ফাস্টফুডটির মালিক ১১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি জালালের পুত্র আলামিন ও রবিন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। বাকবিতন্ডার এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় যুবলীগ নেতা জালাল ও তার স্ত্রী রিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে আসলে ডিবির দুই এএসআই মিলে তাদেরকে মারধর করে। 

এতে করে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওই দুই এএসআইকেও বেধড়ক পিটুনী দেয়। এসময় খবর পেয়ে ডিবি’র পরিদর্শক মাসুদ, এসআই মিজান ও এসআই সায়েম ঘটনাস্থলে আসলে লাঠিসোটা দিয়ে তাদেরকেও  বেধড়ক পিটুনী দেয়া হয়। পরে অতিরিক্ত ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। 

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ডিবি’র এসআই মিজান ও এসআই সায়েম এবং যুবলীগ নেতা জালাল, ছেলে আলামিন ও রবিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ডিবি’র পরিদর্শক মাসুদ, এএসআই আমিনুল ও এএসআই বকুলসহ বাকীদের নগরীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

 খবর পেয়ে  জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, ওই ঘটনাটি তদন্তের জন্য তাকে প্রধান করে একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনায় যদি ডিবি পুলিশের কোন কর্মকর্তা দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ সংঘর্ষের প্রায় ২০ মিনিট নারায়ণগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো।
 

এই বিভাগের আরো খবর