বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

তাদের সম্মানে আমি আমার নাম দিবো না : আইভী

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা মেয়র থাকাকালে ২০০৩ সালে চাষাঢ়ায় শহীদ মিনার তৈরীর সিদ্ধান্ত নেই। শহীদ মিনারে কোথাও আমাদের নাম নেই। অর্থ্যাৎ আমি যে এই শহীদ মিনারটি করে দিয়েছি কোথাও নাম নেই।

 

কারণ আমি এটা পুনসংস্কার করেছি এটার ভিত্তি রেখেছিলেন আমাদের পূর্ব পুরুষেরা। তাদের সম্মানে আমি এখানে আমার নাম দিবো না। শহীদ মিনারের দেয়ালে পলাশীর যুদ্ধ থেকে আমদের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পুরো ইতিহাসটাই তুলে ধরা হয়েছে। 


২০০১ সালে আওয়ামীলীগ অফিসের বোমা হামলার নিহতদের স্মৃতি রক্ষার্থেও স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করেছি। কিন্তু মিনার অপরিচ্ছন্ন থাকে দিনে দিনে দেয়াল গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বড়দের দিয়ে হচ্ছে না বলেই কোমলমতি শিশুরা এখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য  বেড়িয়ে এসেছে। বড়রা যা পারছে না তারাই সেটা করে দেখোবে। 


আমাদের সন্তানরাই মনে হয় এখন আমাদের শিক্ষা দিবে। বাচ্চারা যখন শহীদ মিনার পরিষ্কার করার মতো এতা ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। বড়দের দিয়ে কতটুকু হবে জানি না। আমি এখন বাচ্চাদের নিয়েই আগাতে চাই।

 

আমি চাই শহরের সবগুলো স্কুল আমাকে সুযোগ দেয়, আমি  বাচ্চারা কি চায় তাদের সাথেও কথা বলতে চাই। আমাদের সন্তানদের নিয়েই নারায়ণগঞ্জ গড়তে হবে। নারায়ণগঞ্জে কোন অসত্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ চাই না। আমাদের গৌরব চাই র্ফিরিয়ে আনতে । 


বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নগরীর চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেইলী স্কুলের উদ্যোগে শহীদ মিনার পরিষ্কার ও রক্ষনাবেক্ষন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


বেইলী স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কাশেম জামালের সভাপতিত্বে ও ছড়াকার আহমেদ বাবলুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বেইলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ৷


এ সময় মেয়র আইভী আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন হলো ঢাল নাই তরোয়াল নাই , নিধিরাম বাদশা। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা ছাড়া মনে হয় আর কোন কাজ নেই। সেটাও করতে ম্যাজিস্ট্রেট লাগবে। উচ্ছেদ করতে গেলেই ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহয়তা প্রয়োজন। 


আমাদের আইনগুলো এরকম যা স্থানীয় সরকারকে খুবই দূর্বল করে রাখা হয়েছে। তাই যাদের কাছে আইন, তাদের কাছেই অনুরোধ করছি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। 


তিনি আরো বলেন, আমরা মানুষেরাই শহীদ মিনার নোংরা করছি। আর কত সচেতনা বাড়াবো। ১৬ বছর যাবৎ সচেতনা বাড়ানোর সাথে সাথে হৈচৈ বহুত কিছু করেছি। 


সিঙ্গাপুর, মালোশিয়া এমনে এমনে পরিচ্ছন্ন হয়নি। সেখানে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা আছে। রাস্তা অপরিচ্ছন্ন করলেই সেখানে শাস্তির দেওয়া হয়। 


আমাদের দেশেও এই আইনটা বিদ্যমান। তাহলে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার কারণ সমস্ত মোবাইল কোর্ট যা হয় তা সব ডিসি অফিসে, ম্যাজিস্ট্রেটরা করবে। আমাদের সেই ধরনের কোন অধিকার নাই। সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা জরিমানা করতে পারি। 


বাকিসব ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে হতে হবে। শহরে অনেক ম্যাজিস্ট্রেট আছে। ডিসি সাহেবের কাছে অনুরোধ করব এই ধরনরে কর্মকান্ড গুলো তিনি যেন বাড়িয়ে দেন। 
 
 

এই বিভাগের আরো খবর