বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ২ ১৪২৬   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

জ্বিন তাড়ানোর নামে গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যা, গ্রেফতার ২

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জে জ্বিন তাড়ানোর নামে নির্যাতন করে এক গৃহধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে কবিরাজ ফারুক হোসেন দম্পতির বিরুদ্ধে। নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। 


বুধবার (১৯ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি  চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী সমিনকে আটক করা হয়েছে। ফারুক চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানাধীন মান্দার আলী এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে। তারা সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। 


এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে নিহতের মা সুরাইয়া বেগম বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন।


মামলায় বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের ২/৩ দিন পর হতে শাহনাজ আক্তার শিখা তার মাকে প্রায়ই কোন কিছু মনে থাকেনা বলে জানায়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসার জন্য ১৫ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ১ সপ্তাহের ঔষধ দেয়। ঔষধ খাওয়ানোর একদিন পর মানসিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় প্রতিবেশীদের পরামর্শে ১৬ জুন কবিরাজ ফারুক হোসেনকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। 
 
শাহনাজকে দেখে খারাপ জ্বিনের আছর করেছে বলে জানায় কবিরাজ। তবে এক সপ্তাহের কবিরাজী চিকিৎসায় সে ভালো হবে শাহনাজের পরিবারকে নিশ্চয়তা দিয়ে দশ হাজার টাকার চুক্তি করেন। একদিন চিকিৎসা  দেয়ার পর কোনো উন্নতি না হওয়ায় নিজ বাসায় নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেয় কবিরাজ ফারুক। 

পরে ১৮ জুন সন্ধ্যায় কবিরাজের বাসায় পাঠাতে রাজি হয় শাহনাজের পরিবার। নিজের বাসায় নিয়ে কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন কবিরাজি চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন চালায় শাহনাজের উপর। প্রথমে শাহনাজকে ঝাড়– দ্বারা পেটানো হয়।

পরে হাত ও পায়ের আঙ্গুল মোচড়ানো হয়। এতে শাহনাজ চিৎকার করলে তার গলায় এবং বুকে পাঁ দিয়ে চেপে ধরে জ্বিনকে চলে যেতে বলে ভন্ড কবিরাজ দম্পতি। 
 
এক পর্যায় শাহনাজ দুর্বল হয়ে পড়লে শাহনাজ ঘুমাচ্ছে বলে তার পরিবারকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কবিরাজ দম্পতি। পরদিন শাহনাজের অবস্থা খারাপ জানিয়ে কবিরাজ ফারুক শাহনাজের মা সুরাইয়াকে  ফোন করা হলে তারা কবিরাজের বাসায় গিয়ে শাহনাজের মৃতদেহ ফ্লোরে চাদর মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।
 
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর