শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

জেলা আ’লীগ সদস্য মুজিবুর ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ’র বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার : সিদ্ধিরগঞ্জে দুই যুবককে কুপিয়ে জখম ও ৫ লাখ ৬২ হাজার ৫শ’ ৯০ টাকা লুটের অভিযোগ ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা আ’লীগ সদস্য মুজিবুর মন্ডল ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। 


গত শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে সুমিলপাড়া এসও রোড এলাকার মোতালিবের ছেলে মনোয়ার হোসেন মুন্না বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্ডলকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। মামলায় আরো ৪০/৪৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হযেছে। 


মামলার আসামীরা হলো, গোদনাইল এসও রোড এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম মন্ডল (৫২), মজিবুর রহমান মন্ডল (৬০) ও মামুন মন্ডল (৪০), সোনামিয়া বাজার এলাকার ইউসুফের ছেলে হান্নান (৩৫), এসও রোড এলাকার ফজলুল রহমান ভুইয়ার ছেলে আবুল কালাম (৫৫), একই এলাকার মৃত আসাদ কন্ট্রাকটারের ছেলে সামাদ (৪৮), কাশেমের ছেলে আলমগীর (৩৩) ও জাহাঙ্গীর (৩৮), মৃত মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫), সুমিলপাড়া এসও রোড এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে কবির (৪৫), একই এলাকার মৃত জাহের আলীর ছেলে আইনুল হক (বড়) (৫৭), সুমিলপাড়া এলাকার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৭), সুমিলপাড়া রেল গেইট এলাকার তেনা মালেকের ছেলে রুবেল (২৮), সোনামিয়া বাজার এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে রনি (৩২), কদমতলী এলাকার মৃত হেদাউল্লার ছেলে কুট্টি (৪৮), সোনামিয়া বাজার এলাকার মমিন ঘটকের ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে চেও (৩২), এসও রোড এলাকার বসিরের ছেলে রিফাত (২৫), একই এলাকার খলিমুল্লাহর ছেলে হৃদয় (২৪), রাজ্জাকের ছেলে তাজল (৩৫) ও দেলোয়ার হোসেন দেলু (৩৮), গোদনাইল রেল লাইন এলাকার হোসেন সর্দারের ছেলে শিব্বির (৪০), মালেকের ছেলে রুবেল (৩০), এসও রোড এলাকার সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৫) ও সোনামিয়া বাজার এলাকার মৃত পৈলান খাঁর ছেলে পিস্তুল আবু (৪২) সহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৪৫ জন।


মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন, বিবাদীদের সাথে আমাদের পূর্ব হতে শত্রুতা চলে আসছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় আশরাফ ভাইয়ের অফিস থেকে ৯০০০ লিটার ডিজেলের ৫,৬২,৫৯০ টাকা নিয়ে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। 


১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল মেঘনা ডিপুর সামনে পৌছামাত্র পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদীরা প্রধান আসামীর উপস্থিতিতে তার হুকুমে সবাই আমাকে তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে আমার শরীরে জখম করে। 


এসময় আমার সাথে থাকা আমার বন্ধু সোহেল আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাকেও ধারালো চাপাতি, ছুরি ও দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলাপাথারী কোপ মারিলে তার ডান হাতের কব্জির উপর ও বাম হাতের দুইটি আঙ্গুল কেটে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। 

ওই মুহুর্তে তারা আমার সাথে থাকা আশরাফ ভাইয়ের দেওয়া নগদ ৫,৬২,৫৯০ টাকা নিয়ে যায়। তখন আমাদের ডাক চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা আমাকে সুযোগমত হত্যা করে ফেলবে বলিয়া হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আমাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


এদিকে এলাকাবাসী জানায়, প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি’র গাড়ি চালক আক্তার মানষিক প্রতিবন্ধী মাসুম মিয়াকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে প্রতিবাদ করে মাসুম। এতে ওই প্রতিবন্ধী যুবককে মানবধিকার কর্মী ও ব্যবসায়ী আশরাফ নিজ অফিসে নিয়ে মারধর করে। ছেলেকে বাঁচাতে বাবা দেলোয়ার হোসেন গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। 


এসময় মাসুম পুলিশের কাছে বিচার দিবে বলে জানায়। পরে আশরাফ থানায় ফোন করলে এস আই গৌতম ঘটনাস্থলে আসে। এসময় পুলিশের কয়েকজন কর্তকর্তার সামনেই আশরাফ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা প্রতিবন্ধী যুবক ও তার বাবকে মারধর করে। 


বিষয়টি এলাকাবাসী জানার পর এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে আশরাফ উদ্দিনের অফিস কার্যালয় থেকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। এবং আশরাফের কাছে মাসুমের মারধরের কারন জানতে চায়। 


এসময় আশরাফ’র ক্যাডার বাহিনীর সদস্য শিমুলপাড়া এলাকার মোতালিব মিয়ার ছেলে মুন্না, ইউনুস আলীর ছেলে নাজির হোসেন, নাছির মিয়ার ছেলে ইফতিসহ অজ্ঞাত ব্যাডার বাহিনী এলাকাবাসীর উপর হামলা করে। 


এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর মতির নাম ভাঙ্গিয়ে আশরাফ উদ্দিন, পানি আক্তার, মুন্না, সানি, নাজির এলাকায় আতংক বিরাজ করে। এদের অনেকে গার্মেন্ট এর মেয়েদের রাস্তায় পেলেও ইভটিজিং করে। কিছু বললে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। 


এই বাহিনী প্রতিদিনই হুন্ডা দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখায়। অলিতে গলিতে চলে হুন্ডা মহড়া। এলাকায় পান থেকে চুন খষলেই মারামারিতে ওদের দেখা যায়। কিছু বললেই “আমরা মতি ভাইয়ের লোক” এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে না হয় থানায় পুরে দিবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ বলেন, তার বিরদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। তিনি এসব ঘটনার সাথে জড়িত নন। 

এব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, আমাকে মিথ্যে মামলা দিয়েছে। আশরাফই একটি ছেলেকে আমার অফিসের সামনে মেরেছে এবং সেই আবার পুলিশ এনেছে। 

তখন জনগন পুলিশের সাথে উত্তেজিত হয়ে উঠলে আমি সবাইকে শান্ত করি। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে দেওয়া আছে আপনারা দেখেন।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল ফারুক বলেন, এ ঘটনায় মনোয়ার হোসেন মুন্না নামে এক যুবক বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে একটি মামলা দায়ের করেছে। 


আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে কিন্তু সবাই বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর