বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

জাল সনদ ও রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরির ৬ জনের ২ দিনের রিমান্ড 

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবÑ২ এর হাতে গ্রেফতারকৃত জাল সনদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা ও জাল সনদ সরবরাহকারী চক্রের ছয় সদস্য’র ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত ।


রোববার ( ১৫ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে আসামিদের উপস্থিত করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে  ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।  


গ্রেফতারকৃত আসামিরা ৬জন হলেন- ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউপির উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মাঈন উদ্দিন (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।


গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার  মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা  করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় । এ সময় পাসপোর্ট তৈরির জন্য অন্তত ২৫ হাজার ভূয়া জন্মসনদ, একাধিক কাউন্সিলরের সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-২ এর কোম্পানী কমান্ডার মহিউউদ্দিন ফারুকী জানান, অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরী ও রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তাকারী চক্রের সন্ধান করতে গিয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জে এমন একটি চক্রের সন্ধান পাই। 


পরে পাসপোর্টে অফিসের পাশের তিনটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে সেখান থেকে অন্তত ২৫ হাজার ভুয়া নাগরিক সনদ জব্দসহ পাসপোর্ট তৈরী ও সত্তায়িত করার জন্য যাবতীয় সরঞ্জামাদী উদ্ধার করা হয়। 


এমনকি রোহিঙ্গাদের নামে ইস্যু হওয়া ১২-১৩টি পাসপোর্ট এবং অসংখ্য ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কোনও রোহিঙ্গাকে পাওয়া যায়নি।


মহিউউদ্দিন ফারুকী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে  ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগী অপরাধী, বয়স কম- বেশি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী লোকজনের নামে জন্ম সনদ তৈরি করে দেওয়া হতো।

 

পরবর্তীতে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্ম সনদের তথ্য ভান্ডারে থাকা তথ্যের মিল পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেত। ইতোমধ্যে তারা ১৩-১৪ জন রোহিঙ্গাকে জন্ম সনদ তৈরি করে পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।


আর তাদের এ সকল কাজে সহযোগীতা করে আসছিলো বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা সদস্য, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের জন্ম মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের কর্মচারীরা।

 

তাদের যোগসাজশেই জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ন্যাশনাল সার্ভার থেকে তৈরি করে সরবরাহ করতো। এদের কাছ থেকে জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের  হার্ডডিস্ক চেক করে ২৫ হাজারের অধিক জন্ম সনদ ও এর হার্ডকপি পাওয়া গেছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর