শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ছাদ থেকে ফেলে সন্তান হত্যা : সেই ‘মা’য়ের দায় স্বীকার 

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০১৯  

ফতুল্লা (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লায় আশফাক জামান জাহিন নামে আড়াই বছরের নিজের শিশু পুত্রকে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন মা রোকসানা আক্তার। 

 

নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালত তার জবানবন্দি গ্রহন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে জেলা কারাগারে প্রেরন করেন। কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন এরসত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, রোকসানা আক্তার তার দুই বছরের শিশু পুত্র আশফাক জামান জাহিনকে নিয়ে সোমবার দুপুর ৩টায় ছাদে উঠে।

 

এসময় শিশুটিকে কি কারনে ছাদ থেকে সে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তা কিছুই বলতে পাওে না। তবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন সেটা তার কথাবার্তায় বোঝা যায়।  এঘটনায় নিহত শিশুর চাচা জাহিদুজ্জামান বাদী হয়ে রোকসানা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

 

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর বড় ভাই নুরুজ্জামান ১২ বছর পূর্বে রোকসানা আক্তারকে (২৮) বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক মেয়ে ফাহমিদা জামান অর্পা (১১) দুই ছেলে জারিফ (৩) ও জাহিন (২) জন্ম গ্রহন করেন। বিয়ের পর থেকে রোকসানা আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। 

 

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়ীতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন নুরুজ্জামান মারুফ। সোমবার দুপুর ৩টায় নুরুজ্জামান কাজে ছিলেন ওই সময় তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ছোট ছেলে জাহিনকে নিয়ে ছাদে উঠে।

 

এক পর্যায়ে ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে বাসায় চলে যায় রোকসানা। পরে মেয়ে অর্পার কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে নুরুজ্জামান বাসায় এসে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন।


 

এই বিভাগের আরো খবর