রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ছাত্রদের আন্দোলন সরকারের প্রতি আস্থাহীনতার বহি: প্রকাশ: এড. তৈমুর

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০১৮  

বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। দীর্ঘ দিন পরে হলেও স্বস্তি পাচিছ যে, কবির ভাষায় “আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে, কথা বড় না হয়ে কাজে বড় হবে? কোমল মতি ছাত্র/ছাত্রীদের এখনো লোভ লালশায় পড়ে নাই, এখনো তাদের বিবেক কারো নিকট বিক্রি হয়ে যায় নাই এবং ব্যক্তিস্বার্থ এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় না। 

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন বয়স’কে বিবেচনা না করেই সর্বস্তরের সর্ব বয়সের মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল ঠিক অনুরূপ স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীর ঘুনে ধরা পঁচা বাসি আবর্জনাপূর্ণ বস্তাবন্দী এ প্রশাসনের পাপ’কে প্রকাশ করা। 

ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায় যে, একটি ল্যাংরা মশা মস্তিকে ঢুকিয়ে দিয়ে প্রকৃতি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, আবাবিল পাখীর মূখ থেকে নিক্ষেপকৃত ক্ষুদ্রাতিত ক্ষুদ্র নূড়ী পাথর কণার বিরাট হস্তিবাহিনী পর্যুদস্ত হয়ে ছিল। এ ছাত্র/ছাত্রীরা যে ভূমিকা রেখেছে এ ভূমিকা রাখতে পারে নাই দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও জনগণের অর্থের লালিত প্রশাসন/পুলিশ অর্থাৎ আমলা নামক জলহস্তিবৃন্দ। 

ছাত্র/ছাত্রীরা রাস্তায় না নামলে জাতি জানতেই পারতো না যে, মন্ত্রী উল্টো পথে চলে, মন্ত্রী, এম.পি, পুলিশ বিচারপতি প্রভৃতি রথী মহারথীদের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই বা গাড়ীর কাগজপত্র ক্রটিপূর্ণ। জনগণের অর্থে (কোটি কোটি টাকা) লালিত পুলিশ প্রশাসন যেখানে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে নাই, স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষে ম্যজিকের মত এটা কি ভাবে সম্ভব হলো?

সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, ছাত্র/ছাত্রীরা ছিল আন্তরিক এবং ঘুষ তাদের স্পর্শ করে নাই, অন্যদিকে দালালীতে তারা পা বাড়ায় নাই। ইতোপূর্বে যে সকল আন্দোলন স্বতসফূর্ত ভাবে হয়েছে সে আন্দোলনকে ধামা চাপা দিয়েছে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে। 

কিন্তু সে আশ্বাসের বাস্তবায়নতো হয় নাই বরং প্রধানমন্ত্রীর সোনার ছেলেদের দ্বারা আহত হয়ে হাসপাতালে, নতুবা বাড়ী ফিরে গেছে। এমন কি বুড়িগঙ্গাতেও আন্দোলনকারীর লাস পাওয়া গেছে। ফলে এ বার আন্দোলনে ছাত্ররা বলেই দিয়েছে যে, “আশ্বাসের বিশ্বাস নাই।” ফলে এটাও সরকারের প্রতি আস্থাহীনতার একটি বহি:প্রকাশ। 

লেখক
সাবেক চেয়ারম্যান, বিআরটিসি
মোবাঃ ০১৭১১-৫৬১৪৫৬

E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com