বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে সেক্রেটারি পদে এগিয়ে রনি

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার ( যুগের চিন্তা ২৪) : চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। শীর্ষ দুই পদে নেতা নির্বাচিত হবেন গণতান্ত্রিক পন্থায়। এবার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ২৮ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

 

এর মধ্যে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতায় আছেন ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯জন।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে যে নামটি সবচেয়ে বেশী আলোচিত ও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি হলেন যোগ্য, মেধাবী, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি।


 বিএনপির বিগত প্রায় এক যুগের আন্দোলন-সংগ্রামে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্রদলের রাজনীতিতে মশিউর রহমান রনি ব্যাপক আলোচিত এক নাম।


সাম্প্রতিক কালে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের এক বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দেয়া ও ৭২ ঘন্টা গুম থাকার মাধ্যমে রনি আবার দেশব্যাপী আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।


 ২০০২ সালে এসএসসি ও ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে এল এল বি কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজ যোগ্যতায় ছাত্রদলের রাজনীতির মাঠ কাঁপান তিনি। বিগত ১/১১, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অগ্রভাগের সৈনিক।

 

জানা গেছে, পারিবারিক সূত্রে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত রনি ছোটবেলা থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি নেতৃত্ব দেয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
 রনির জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়ন। তার বাবা মোঃ মোস্তফা কামাল যিনি পেশায় একজন ঠিকাদার। মোস্তফা কামাল প্রয়াত বিএনপি নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মতিন চৌধুরীর অন্যতম আস্থাভাজন কর্মী ছিলেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রনি স্কুল জীবন শেষ করেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।


ফতুল্লা থানা শাখার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দ্বায়িত্ব পালন শুরু করেন।পরবর্তী সময়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, নারায়নগঞ্জ তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, নায়ায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।


বর্তমানে রনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্বরত আছেন। বিগত ১/১১ তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রনি প্রথম গ্রেফতার হন এরপর বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে বহুবার গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী হয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ৩১ টি মামলা চলমান রয়েছে।


 বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে রনির ভূমিকার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য বিদায়ী কমিটির বিভিন্ন নেতারা, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের এক অকুতোভয়ের নাম মশিউর রহমান রনি। 


১/১১র আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে নিজের জীবন বাজি রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার যোগ্য বিকল্প কেউই নেই।


তারা বলেন, ১/১১ থেকেই আমাদের সাথে রাজপথের যুদ্ধক্ষেত্রে, সংগঠক, পরিশ্রমী, বিনয়ী ও মেধাবী একজন ছাত্রনেতা। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে যিনি রাজপথে সকল আন্দোলন সংগ্রামে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি হলেন মশিউর রনি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রনিকে সাধারণ সম্পাদক করতে দলের হাইকমান্ডও ইতিবাচক। ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন সিনিয়র নেতা রনির পক্ষে মাঠে রয়েছেন। কাউন্সিলের আচরণ বিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।


নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা ভোট দিতে পারবেন। সংগঠনটির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় মোট ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। 


এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, ঢাকা বিভাগের ২৯ শাখায় ১৩৮ ভোট, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮ ভোট, কুমিল্লা বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০ ভোট, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২ ভোট, সিলেট বিভাগের সাত শাখায় ৩৫ ভোট, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩ ভোট ও ফরিদপুর বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট রয়েছে।


রনি ইতিমধ্যে ঢাকা, সিলেট, উত্তরাঞ্চল, বরিশাল, খুলনা সফর সম্পন্ন করেছেন। আজকালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় কাউন্সিলরদের সাথে দেখা সাক্ষাত করবেন।


ছাত্রদল নিয়ে লক্ষ্য এবং অঙ্গীকার প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আধুনিক ও যুগোপযোগী ছাত্রদল উপহার দেবো। আমাদের প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলকে তৃণমুল পর্যন্ত সুসংগঠিত করবো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলবো আন্দোলন। 
আমি হলফ করে কথা দিচ্ছি, কাউন্সিলররা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে, প্রধান লক্ষ্য থাকবে, আমাদের সকলের মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা।’


তিনি বলেন, আমি সবর্দা অবিচল থাকবো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) আদর্শ বাস্তবায়ন ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এবং আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের স্বপ্নের ছাত্রদল গড়ার ব্যাপারে।

এই বিভাগের আরো খবর