বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

চিন্তিত মহানগর বিএনপি

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হয়ে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র। যদিও প্রায় একই হাল চলছে মহানগর বিএনপিতেও। ২০১৭ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেয়া হয়েছিলো  জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি। কার্যক্রমে গতি না থাকলেও মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের চাপাচাপিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছিলো কেন্দ্র। 

 

তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের কর্মীদের সাথে রেশারেশি, মহানগর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিদ দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দলের নেতাদের সাথে মহানগর বিএনপির দূরত্বে নখদন্তহীন হয়ে পড়ে সংগঠন। কী কেন্দ্রের আর কী ঘরোয়া কর্মসূচি সবজায়গাতেই ব্যর্থ মহানগর বিএনপি। 

 

১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মহনগর বিএনপির কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে একসাথে দেখা গেছে মাত্র একবারই। তাও পরিচিতি সভায়। ব্যস, এরপরই দায়িত্ব পালন শেষ। আন্দোলন সংগ্রাম তো দূরের কথা, আলাপচারিতাতেও কমিটির সকলে একসাথে হতে দেখা যায়না।

 

এ পর্যন্ত থাকলেও হয়তো কোনকালে জ্বলে ওঠার আশা থাকতো। তবে কমিটিতে মহানগর বাদ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন জনকে স্থান দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তোলা হয়। এর রেশ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার পরপরই সাংগঠনিক সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে বিএনপির দুই নেতা আদালতে মহানগর বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। পরবর্তীতে কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার বাদী গোলজার খান। আদালতে এই কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছেন। আদালতের এই আদেশের পর আদতে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতারা বেকার হয়ে পড়েন।

 

হঠাৎ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মহানগর বিএনপির নেতাদের কপালে। বিলুপ্ত জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে যেমন সরকারি দলের সাথে আতাঁতের অভিযোগ তুলছিল তৃণমূল ঠিক তেমনই একই অভিযোগ রয়েছে মহানগর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় বিভিন্ন পদপদবিতে থাকলেও কালেভাদ্রে তারা সক্রিয় হন, তাও সুযোগ বুঝে এমন অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়।

 

সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হলেও শীর্ষস্থানীয় পদগুলোর দখলে থাকা বেশিরভাগ নেতাই নিষ্ক্রিয়। এর উপর মামলার খড়গ। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মী নিয়ে ঝাঁজ নেই কোন ধরনের কার্যক্রমে। কেন্দ্র চায় সংগঠন গতিশীল হোক। আর তা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভেঙে দেয়া হয়েছে জেলা বিএনপির কমিটি। মহানগরের এই নিষ্ক্রিয় কমিটিও ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা।  
 


মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামলা বলেন, ‘যে কোন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কমিটি ভেঙে দেয়া, রাখা দুটোই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা যখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেলাম মামলা করে আমাদের দমিয়ে দেয়া হলো। আমরা ওয়ার্ড কমিটিগুলো করার সময় পেলামনা। আমাদের কমিটিরও মেয়াদ শেষ। দল ভালো মনে করলে কমিটি ভেঙে দেবে, তাতে আমাদের আপত্তির কিছু নেই। দল আমাদের সকল কিছু সম্পর্কে অবহিত, এরপরে তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে তা মেনে নিতে কোন সমস্যা নেই।’


মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা কখনোই দ্বিমত পোষণ করিনি। কেন্দ্র যা ভালো মনে করবে, সেটিকে সমর্থন দিয়ে দলের প্রয়োজনে আমরা কাজ করে যাবো। দলকে সুসংগঠিত করতে যেসব দায়িত্ব দেয়া হবে তাই পালন করবো।’ 

 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দলকে সুসংগঠিত করতে যাতে মহানগর বিএনপির দিকে নজর দেয় কেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র শহরে ক্রমশই কর্মসূচি পালনে নানা অনিহায় ধুকছে মহানগর বিএনপি। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হলে মহানগর বিএনপি ‘কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ এমন সংগঠনেই পরিণত হবে আশঙ্কা তৃণমূলের।

এই বিভাগের আরো খবর