বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

চাঁদমারীতে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : উচ্চ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে  টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ কোম্পানীর মোবাইল নেটওর্য়াক টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার থেকে নির্গত ‘হাই রেডিয়েশন’ থেকে বাঁচতে  চাঁদমারী আবাসিক এলাকাবাসী সদ্য স্থাপিত একটি টাওয়ার অপসারণের দাবি তুলেছেন। 
 
এ ব্যাপারে ভবন মালিক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেনকে একাধিকবার অবগত করলেও তিনি এ ব্যাপারে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকবাসীর অভিযোগ। তবে ভবন মালিক মনির হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাষাড়া চাঁদমারী এলাকায় অ্যাডভোকেট মনির হোসেন এর আবাসিক ভবনে একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বসানো হচ্ছে। ৪ মাস পূর্বে এর কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি টাওয়ার চালু করার জন্য  কাজ শুরু হয়েছে।  যার ১০ ফুট দূরত্বের মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ‘লার্নিং ট্রি স্পেশাল নিডস সেন্টার’ নামক একটি স্কুল রয়েছে। 

কাছাকাছিতে রয়েছে হেরিটেজ স্কুল ও একটি হাসপাতাল। তাছাড়া চাঁদমারী এলাকাটি এমনিতেই অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ফলে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন বা অন্য কারো ভবনে  মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপিত হলে এর ক্ষতিকর ‘হাই রেডিয়েশন’ এর কারণে এলাকার মানুষ এবং স্কুলে আগত শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। 
 
এ বিষয়ে লার্নিং ট্রি স্পেশাল নিডস সেন্টারের ব্যবস্থপনা পরিচালক রহিমা খাতুন রিতা জানান,  এমন একটি স্থানে মোবাইল নেটওর্য়াক টাওয়ার স্থাপিত হলে ক্ষতিকার রেডিয়েশনের কারণে এলাকার মানুষ, স্কুলে আগত শিক্ষার্থী এবং হাসপাতাল আগত রোগীরা স্বাস্থগত ক্ষতি সাধন হবে। এলাকাবাসী বিষয়টি একাধিকবার  ভবন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।
 
এ বিষয়টি ভবন মালিক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেনকে একাধিকবার  অবগত  করা হলেও তিনি নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে । আরো জানা গেছে, মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারটি এমনভাবে বসানো হয়েছে যে, টাওয়ারের সাথে বিল্ডিং এর পিলারের রডের জোড়া দেয়া হয়েছে। 

এতে করে বজ্রপাত হলে ওই ভবনের পিলারের ক্ষতি হতে পারে। পিলারের ক্ষতি হলে ভবনে বসবাসকারীদেরও ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।  যে কেউ বজ্রাহত হতে পারেন। এলাকাবাসী ও নিজের ভবনের ক্ষতি জেনেও অ্যাডভোকেট মনির হোসেন টাকার লোভে পড়ে টাওয়ার বসাচ্ছেন।
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন জানান, মোবাইল  নেটওয়ার্ক টাওয়ার বসানোর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি আমি অবগত নই। এই মাত্র বিষয়টি জানলাম। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে টেলিটক কর্তৃপক্ষের সাথে আমি কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছে তারা বিষয়টি দেখবে। 
 
জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপনের বিষয়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় ঘোষনা করেন। উক্ত ১১ দফা নির্দেশনার ২নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,  মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার,  খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় বসানো যাবেনা। 

এবং  যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণ করতে হবে। এলাকাবাসী অ্যাডভোকেট  মনির হোসেনকে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলেও মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি।
 
এ ব্যাপারে মোবাইল টাওয়ারটি অপসারণের জন্য লার্নিং ট্রি স্পেশাল নিডস সেন্টার, হেরিটেজ স্কুলসহ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবদেন করা হয়।  পরে গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের দাখিলকৃত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিসিএল’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য  নির্দেশ দেয়া হয়।
 
পরবর্তীতে ৭ আগস্ট বিটিসিএল’র উপমহাব্যবস্থপক সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে জানান,  টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড একটি সম্পূর্ণ আলাদা কোম্পানী। টেলিটক টাওয়ার এবং নেটওয়ার্ক বিটিসিএল এর আওতাভূক্ত নয়। সুতরাং চাহিদা প্রতিবেদনের ব্যাপারে বাংলাদেশ লিমিটেড এর সাথে যোগাযোগ  করা যেতে পারে।

টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ কোম্পানীর মোবাইল নেটওর্য়াক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি এ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানানো হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর