বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

চট্টগ্রাম থেকে না.গঞ্জে এনে ধর্ষণ, পুলিশের সহায়তায় আসামির পলায়ন

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী।  এঘটনার ৩ দিন পর সোমবার (১০ জুন) দুপুরে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই তরুণী। 


তবে মামলায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুলের নাম উল্লেখ না করায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ ধর্ষণের পর এসআই সাইফুল ধর্ষককে গ্রেপ্তার না করে উল্টো তাকে শ্যামলী পরিবহনের একটি গাড়িতে তুলে দিতে চেয়েছিলো। এছাড়া ধর্ষকের মা থানায় আসলেও তাকে সটকে যেতে সহায়তা করেছেন এসআই সাইফুল।   


মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৬ মাস আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রবিউল ইসলাম সানির সাথে পরিচয় ঘটে ওই তরুণীর। তখন থেকেই তাদের সম্পর্ক ছিল। ঈদের ছুটিতে গত ৭ জুন সানির দাওয়াতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নারায়ণগঞ্জে আসে ওই তরুণী। 


পরে শহরের গলাচিপায় শ্যামলী পরিবহণের কাউন্টারের পাশে একটি রুমে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করে সানি। ঘটনার পর তরুণীকে আরেকটি বাসে করে চট্টগ্রামে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। 


কিন্তু তাদের বাকবিতন্ডায় লোকজন জড়ো হলে সানি পালিয়ে যায়। মামলায় ওই ধর্ষণের পেছনে সানির মা ও এক ভাই জড়িত দাবি করা হয়। মামলায় এ তিনজনকে আসামী করা হয়।


এদিকে ওই তরুণী সাংবাদিকদের জানান, এঘটনার পর গত তিনদিন তিনি সদর মডেল থানাতেই অবস্থান করছিলেন। ধর্ষণের পর শ্যামলী কাউন্টারে সানির সাথে বাকবিতন্ডার সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই সাইফুল। 


তিনি সানিকে আটক না করে উল্টো তাকে চট্টগ্রামের গাড়িতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে সে যেতে না চাইলে তাকে থানায় নিয়ে আসে। এরপর সানির মা থানায় আসলেও এসআই সাইফুল তাকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। 


কিন্তু মামলায় এসআই সাইফুলের এমন অবহেলা এবং আসামীদের সাথে যোগসাজশের কথা উল্লেখ নেই। মামলায় ওই এসআইয়ের কথা উল্লেখ না করলে সে থানাতেই আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।  


এব্যাপারে এসআই সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি মেয়েটি ধর্ষণের শিকার আর ধর্ষক ওখানেই ছিলো। রাতে শ্যামলী কাউন্টারে বাকবিতন্ডা করে ওই মেয়ে ও একটি ছেলে। 


মেয়েটিকে ছেলেটি গাড়িতে উঠিয়ে দিতে চাইলে সে উঠতে রাজি হচ্ছিল না। তাই আমি তাকে গাড়িতে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা বলি। কিন্তু ততক্ষণে ধর্ষক সানি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আর থানায় ধর্ষক সানির মা এসেছেন ঠিকই। 


দুপুরে আমাকে তিনি খাবার খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন। আসামীদের সাথে আমার কোন  যোগসাজশ নেই।    


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল  ইসলাম জানান, ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা হয়েছে। তবে মেয়েটির কথা অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা সেদিন ঘটেনি বলেই আমাদের ধারণা। 


হয়তো এরআগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। একমাস পর আমরা ডাক্তারী রিপোর্ট হাতে পাবো। 


ওসি কামরুল বলেন, মেয়েটির সাথে ওই ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সে কারণেই মেয়েটি নারায়ণগঞ্জে আসে। মেয়েটি আর ছেলেটি শ্যামলী কাউন্টারে ঝগড়া করছে আর সেখান থেকেই তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআই সাইফুল। 


পরে মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ তুললে আমরা ওই ছেলের মাকে সাথে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত গিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে ছেলের মা চালাকি করে থানা থেকে সটকে পড়ে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। 


তবে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার আগে কোনভাবেই বলা সম্ভব নয় সেই তরুণী মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা। আমরা রিপোর্ট পেলেই এবিষয়ে বলতে পারবো। 


এদিকে ওই তরুণীর বাবা মুঠোফোনে জানান, মা মরা মেয়ে আমার। বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঈদের আগে বাসা থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে বের হয়। এরপর আর মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলামনা। 

এই বিভাগের আরো খবর