বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

গোয়েন্দাদের নজর না’গঞ্জে

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : ক্যাসিনো কালচারের জনক সেলিমের সূত্র ধরে  গোয়েন্দাদের নজর এখন নারায়ণগঞ্জের দিকে। এর আগে ধরা পড়া জিকে শামীমের বাড়িও নারায়ণগঞ্জে।  কোটি কোটি টাকার জুয়া ও ঘুষ বাণিজ্যের সূত্র ধরে  সেলিম প্রধান  ও জিকে শামীমের অজস্্র বন্ধু বান্ধব এমনকি ব্যবসায়িক পার্টনারও নাকি রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। ফলে নারায়ণগঞ্জের অনেক প্রভাবশালী রয়েছেন এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে।  

 

গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে প্রভাবশালীরা গাঁ ঢাকা না দিলেও আপাতত আড্ডাস্থল ত্যাগী হয়েছেন। অনেক জুয়াড়ি  ছেড়েছে তাদের  সেকেন্ড হোম খ্যাত ক্লাবটি। এলিট শ্রেণীর ক্লাবে আজকাল জুয়াড়িদের পদধূলি পড়ছেনা গোয়েন্দাদের ভয়ে। তাবৎ গোয়েন্দারা নাকি ক্লাব গেইটে , আশপাশে এমনকী গেস্ট সেজে জাল বিছিয়ে রেখেছে। দু’ একটা পান্ডাতো ধরা পড়বেই। 

 

জুয়াড়িদের দল অনেকটা দল বেধেই আপাতত ক্লাব বর্জন করছে। তবে থেমে নেই জুয়ার আসর। বিদেশী কায়দায় জুয়া বন্ধ থাকলেও দেশি কায়দায় চলছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পর পর দু’টি বড় অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকেই উদ্ধার হয়েছে ক্যাসিনো সরঞ্জাম। 

 

ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধারের পর থেকে  গোয়েন্দারা নারায়ণগঞ্জ শহরে বড় ধরনের অভিযান চালাতে পারে। তাদের কাছে তথ্য আছে নারায়ণগঞ্জ শহরের অনেক রথি-মহারথি ক্যাসিনো কালচারের নিয়মিত সভ্য। ঢাকার ক্লাবপাড়াতে ক্যাসিনোতে গিয়ে কারা জুয়া খেলতেন ও সুন্দরীদের হাতে মদ্যপান করতেন-সবই  জেনে গেছে। 

 

সুন্দরী ললনাদের পাশে বসিয়ে জুয়া খেলতেন, এ রকম শতাধিক জুয়ারির নামের তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। সুন্দরী ললনারা মদের গ্লাসটি মুখের সামনে তুলে ধরলে জুয়াড়িরা তাতে চুমুক দিতেন বেশ আয়েশ করে। কত কালো টাকার মালিক হলে এতটা আয়েশি জীবন যাপন করা যায়। 

 

তাদের টাকার উৎস্য কি ? সবই  খোঁজ করছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে গতকাল রূপগঞ্জে পুলিশ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের জুয়াড়ি ও ক্যাসিনো পার্টনারদেরকে দিকে  গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এবার কয়েকজন গডফাদারের মুখোশও খুলে যেতে পারে।   

 

এক কোটি ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার : 
রূপগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে এসপি হারুন অর রশিদের অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ১কোটি ২৫লাখ টাকা ও ২ হাজার পিছ ইয়াবা। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত আড়াইটায় উপজেলার রসুলপুর এলাকায় কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেনের বাড়িতে। এ সময় আটক করা হয় ব্যবসায়ীসহ তিন জনকে। আটককৃত ব্যবসায়ী জামাল হোসেন রূপগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর এলাকার ইউনুছ মৃধার ছেলে। 

 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে জামাল হোসেনের ভাই মোস্তফা ও পড়শী পিতা অজ্ঞাত মানিককে। জামাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানা ডার্মুদা এলাকায়। সে গত ৫ বছর আগে রসুলপুর এলাকায় একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করে ভবনের তিন তলায় বসবাস করে আসছে।

 

সে যাত্রামুড়া ও গোলাকান্দাইল এলাকায় মাস্টার কয়েল নামে দুইটি কয়েল কারখানায় নি¤œমানের মশার কয়েল তৈরী করে বাজারজাত করে আসছিল। যা শিশুদের জন্য ছিল ক্ষতিকর। এ কয়েল ব্যবসার সাথে তিনি মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে পুলিশের কাছে খবর ছিল। এই সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার অত্যাধুনিক বিলাস বহুল ভবনের তৃতীয় তলা থেকে এই  ১কোটি ২৫লাখ নগদ টাকা ও ২হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

 

এলাকাবাসী জানান, জামাল হোসেনকে সবাই একজন সৎধার্মিক লোক হিসেবেই জানতো, তার তিনটি কয়েল ফ্যাক্টরী আছে শুনেছি। মাহিম ডেইরী র্ফাম নামে একটি প্রতিষ্ঠানও আছে তার। তবে তার অন্যকোন ব্যবসা আছে কি না আমাদের জানা নেই। জামাল হোসেন সাহেব রসুলপুর জামে মসজিদের সভাপতিও। 

 

তিনি একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পুলিশের অভিযানে তার ভাল মানুষের মুখোশের আড়ালে ঘৃণ্য অপরাধীর চেহারা প্রকাশ পেল। এ অভিযানে অংশ নেয় রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদ হাসান, ওসি (অপারেশন) রফিকুল হক, ডিবি, ডিজিএফআই, ডিএসবি । আটকৃকত জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি চলছে। 

 

গোয়েন্দা তথ্যে না’গঞ্জের গডফাদার :
অন্যদিকে, রিমান্ডে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম-খালেদ মাহমুদ টেন্ডার-ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন-সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। দু’জনের তথ্যে প্রশাসনের বর্তমান-সাবেক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম প্রকাশ পেয়েছে। 

জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদের দেয়া তথ্যে নারায়ণগঞ্জের অনেক রথি-মহারথির নাম উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটসহ অনেককেই এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। ক্যাসিনোসহ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরুর পর অনেকে এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন। 

 

এমনকি স¤্রাটের অবস্থান নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যুবলীগ নেতা ইসমাইল  চৌধুরী স¤্রাটকে আটক করা হয়েছে কিনা তা খুব শীঘ্রই জানা যাবে। স¤্রাটের বিষয়ে ধু¤্রজাল এখনও কাটেনি।

এই বিভাগের আরো খবর