শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গরুর গলায় দাম লিখে ঝুলিয়ে রাখতাম : রনি

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্র্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মশিউর রহমান রনি। তিন ভাই একবোনের মধ্যে তৃতীয় মশিউর রহমান আদর্শ স্কুলে পড়া অবস্থায়ই যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে খেলার ছলে ব্যবসা শুরু করলেও রনি ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। হয়ে উঠেছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন রাজনৈতিক কর্মী।

রাজনীতিতে নিজেকে শতভাগ সফল হিসেবে দাবি করা রনির শৈশবের ঈদ মানেই নানান দূর্ঘটনার স্মৃতি। নির্বাচন দড়জায় কড়া নাড়ছে, দলীয় প্রধান কারাগারে, দল যখন প্রায় এক যুগ যাবৎ ক্ষমতার বাইরে তখন জেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে। যুগের চিন্তা ২৪ এর ঈদ আড্ডায় এই ছাত্র নেতা শুনিয়েছেন তার পরিবার, রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবনের নানান গল্প। পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো সেই আড্ডার অংশ বিশেষ।

যুগের চিন্তা: কেমন আছেন?

রনি: প্রতিটা মুহূর্তে গ্রেপ্তার আতঙ্ক কাজ করে। একবার গ্রেপ্তার হলে জেলখানায় না কবরে যেতে হবে সেটাও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে ভাল নেই।

যুগের চিন্তা: এই যে পরিস্থিতি এর থেকে উত্তরনের উপায় কী?

রনি: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের একমাত্র উপায় হলো আন্দোলন সংগ্রাম।  ঈদের পরের আন্দোলনে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে বেগম জিয়াকে কারামুক্ত ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে হবে।

যুগের চিন্তা: সামনেই কোরবানির ঈদ, এবার ঈদের পরিকল্পনা কী?

রনি: তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। বাবা মা আর বড় বোন হজ্বে আছেন। এবার তিনভাই, দুই ভাগ্নে আর চাচাদের সঙ্গে বরাবরের মতো রুপগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ঈদ কাটবে।

 যুগের চিন্তা: শৈশবের ঈদের কথা মনে পড়ে? কেমন ছিলো শৈশবের ঈদ?

রনি: ছোটবেলা ঈদ আসলেই কোন না কোন দূর্ঘটনা ঘটতো। ঈদের আগে অপেক্ষায় থাকতাম ঈদ করবো ঈদ করবো কিন্তু ঈদের দিন কোন না কোন ভাবেই হয়তো হাত কেটে যেতো, পা কেটে যেতো, মাথা ফেটে যেতো কিংবা সেমাই পড়ে পিঠ পুড়ে যেতো। আর এমনিতে ঈদ আসলেই আব্বা আম্মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নতুন জামা কিনতাম। এখনো আব্বার কাছ থেকে টাকা নিয়েই ঈদের কেনাকাটা করি।

শৈশবে গ্রামে গেলেই সারাদিন গুল্লি (মার্বেল) খেলতাম। এগুলো খেলতে গিয়ে অনেক মার খেয়েছি। মার্বেলের প্রতি এতোই ঝোক ছিলো যে একবার বকরির শুকনো বিষ্টা মার্বেল ভেবে মুখে দিয়ে ফেলেছিলাম। এগুলো মনে পরলে এখনো হাসি পায়।

যুগের চিন্তা: কোরবানির কোন মজার স্মৃতি মনে আছে?

রনি : একবার গরু কিনে নিয়ে আসার সময় আমাদের গরু পালিয়ে যায়। সেই গরু খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে দেখি এক পুকুর পাড়ে একটা গরু বসে খড় খাচেছ।  এখন আমিতো কনফিউজড যে এই গরু আমার কি না। রঙ সাইজ আমাদের গরুর মতোই। আশপাশের মানুষরাও জানে না এই গরুর মালিক কে। তারপর সেই গরু নিয়ে চলে আসি। এই গরু যে আসলে কার ছিলো!

আর গরু কিনে নিয়ে আসার সময়তো সকলেই জিজ্ঞেস করতো, ভাই গরুর দাম কতো? ভাই গরুর দাম কতো? বলতে বলতে বিরক্ত হয়ে তারপর গরুর গলায় দাম লিখে ঝুলিয়ে রাখতাম।

যুগের চিন্তা: বিএনপির রাজনীতিতে কেন আসলেন?

রনি: পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নাম শুনতে শুনতেই বিএনপির রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।

আমি তখন আদর্শ স্কুলের ছাত্র। একদিন আমার বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে একটা গ্রুপের ঝগড়া হয়। সেই গ্রুপটা খুব সম্ভবত ছাত্রলীগ করতো। ঝগড়া হওয়ার পর একদিন বিপক্ষের গ্রুপটি ক্যাডার নিয়ে এসে আমার বন্ধুদের মারলো।

একদিন রোজেল মামা, আমার মামাতো ভাই সাইফুলসহ অনেকের সঙ্গে মিছিল করে জাকির খানের বাসা পর্যন্ত যাই। বাসায় যাওয়ার পর দেখি শতশত গাড়ি হাজার হাজার মানুষ জাকির খানের জন্য অপেক্ষা করছে। জাকির খান আসলো, মিছিল করলো তারপর সমাবেশ করলো। সমাবেশ পরবর্তী মিছিলে দেখলাম অগা মিঠু, শাহ নিজাম বাধা দিলো।

তারপর একবার জাকির খানের এক কর্মসূচীতে আমি আমার বিশাল বন্ধু সার্কেল নিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখানে রেজাউল করিম স্যার ছিলেন। আব্বা রেজাউল করিম স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিলে আমার মিছিল দেখে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন, বিস্কুট খেতে দেন। তারপর থেকে বিএনপির প্রতি ভাললাগাটা আরো বেড়ে যায়।

তাছাড়াও তখন মাসদাইরে যারা দলটা করতো তারা বেশ ভালো মানুষ ছিলো। ক্যাডার ছিলো না। অপরদিকে টাওয়ার সেলিম, সারোয়ারহ অনেকেই বিএনপির ছেলেদের মারধর করতো। এসব দেখেই আওয়ামীলীগের প্রতি একটা অনিহা তৈরী হয়।

যুগের চিন্তা: আপনার পরিবার নিয়ে বলুন।

রনি: আসলে আমি বিএনপি পরিবারের সদস্য। আমার বাবা বিএনপি করেন। তার ফুফাতো ভাই ফজলুল হক মিলন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। আমার মেজো চাচাও একজন বিএনপি নেতা। পরিবারে আমার বাবা, মা আমরা তিন ভাই ও এক বোন। ভাই বোনদের মধ্যে আমি তৃতীয়।  

যুগের চিন্তা: রাজনীতিবিদ না হলে কী হতেন?

রনি: যদি রাজনীতিবিদ না হতাম তবে ব্যবসায়ে আরো মনযোগী হতাম। আমি ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা করি। শুনলে হয়তো হাসবেন। ক্লাস সিক্সে পড়া অবস্থায় আমার প্রথম ব্যবসা ছিলো ভিউ কার্ডের। তাছাড়াও ঈদের তিনদিন আগে থেকেই ঈদ কার্ড, ডিম, কোক,স্প্রাইট এসব বিক্রী করতাম। শুরু থেকেই ব্যবসার দিকে ঝোক ছিলো । আর এখনতো নিজের ফ্যাক্টরি আছে।

যুগের চিন্তা: আজকের জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রহমান রনি হয়ে উঠার গল্পটা বলুন।

রনি: যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি তখনই এনায়েত নগর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সদস্য ও সভাপতি হই। তারপর একে একে ইউনিয়নের আহ্বায়ক, ফতুল্লা থানার জয়েন সেক্রেটারী, নারায়ণগঞ্জ কলেজের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, তোলারাম কলেজের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক তারপর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক বর্তমানে জেলার সভাপতি।

যুগের চিন্তা: আপনার  কোন মন্দ দিক আছে?

রনি: মানুষের সমালোচনা করি। ফলে অনেকেই কষ্ট পায়।

যুগের চিন্তা: ভাল দিক সম্পর্কে বলুন।

রনি: ভাল দিকতো অনেক আছে (হাসি)। তারমধ্যে অন্যতম হলো আমি মানুষকে কোন ক্ষতি করি না। কারো কোন ক্ষতিও চাই না।

যুগের চিন্তা: রাজনীতিতে আপনি কতটুকু সফল?

রনি: রাজনীতিতে আমি শতভাগ সফল। যা টার্গেটা করেছি তাই হয়েছি এবং টার্গেট অনুযায়ী ২০১৮ সালে জেলার সভাপতি হয়েছি। আমার রাজনীতিতে ব্যর্থতা বলতে কোন শব্দ নেই।

যুগের চিন্তা: আপনার শখের কাজ কী? অবসর কাটান কেমন করে?

রনি: আমার কোন শখ নাই। যখন যা ভাল লাগে তাই করি। অবসরে বেশি খারাপ লাগলে স্কুল ফ্রেন্ড সুমনের সঙ্গে আড্ডা দিই। এই বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কটা হয়েছিলো শুধুমাত্র বিস্কুট, রুটি আর ডেনিস খাওয়ার জন্য। ওর বাবার একটা বেকারি ছিলো।  আমি তখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। আমি তখন সুমনকে গিয়ে বললাম ‘এই তুই আমার লগে বন্ধুত্ব কর না হইলে তরে মারমু।’ আমি ওর সঙ্গে জোড় করে বন্ধুত্ব করি। আর এখন সুমনই আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু।

যুগের চিন্তা: ঈদ শুভেচ্ছায় নেতাকর্মীদের যদি কিছু বলতে চান।

রনি: সকল সমস্যা দূরে রেখে ঈদটা যেন সুন্দর ভাবে হাসিখুশি ভাবে কাটাতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা।   

যুগের চিন্তা: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রনি: আপনাকেও ধন্যবাদ। যুগের চিন্তাকে ধন্যবাদ আমাকে সময় দিয়ে এমন সুন্দরভাবে একটি সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য।

এই বিভাগের আরো খবর