বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

খেলা খেইলেননা, আমরা ছোটবেলা থাইকা খেলায় ওস্তাদ : শামীম ওসমান

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারয়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আরে কারে খেলা শিখান? আমারে? আমাকে খেলা শিখাবেন? আমরা তো অনেক ছোটবেলার খেলোয়াররে ভাই? বেশি বড় খেলোয়ার হতে পারি নাই? তবে মাথার তার ছিড়া খেলোয়ার ছিলাম আগে। মাথার তার একটু ঢিলা ছিলো তখন। এখন প্রবলেম হয়েছে একটা মানুষকে ফলো করি। 


বাবা-মায়ের পর আমার নেত্রীকে ভালোবাসি। নারায়ণগঞ্জে এই আওয়ামী লীগ তৈরি হয়েছে। আমরা যখন চিৎকার করেছি তখন কেউ চিৎকার করে নাই। আমরা নারায়ণগঞ্জে গোলাম আযমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। মুজাহিদকে নিষিদ্ধ করলাম। আমারই ছোট বোনকে এখনও তার পরিবারের পেছন থেকে পেট্রোনাইজ করা হয়। 


শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের রামকৃষ্ণ মিশনের উল্টোদিকে রাস্তায় ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চে আয়োজিত সমাবেশে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।  

 
শামীম ওসমান বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের অরিজিনাল কর্মী যারা যাদের সিএস, আরএস, এসএ পর্চা আছে। তাদেরকে খাসজমি বানাইয়া দেয়া হয়। আর যাদের খাসজমিদের আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টা করে তখন অনেক কষ্ট লাগে। খারাপ লাগে। সমস্যা কী ? 

 

আমরা ৫ ভাইবোন। আমরা ৩ ভাই জন্ম নিছি আমার বাবা গুলি খাইছে। আমার বড় ভাইয়ের ছেলে জন্ম নিছে ও ছিলো কাদের বাহিনীতে। আমার ছেলে জন্ম নিছে আমি ছিলাম জেলখানাতে। এটা আমাদের বান্ধা হিসাব। এখন আবার ছেলের বাচ্চা হবে আমার বউ টেনশনে আছে। কিছুদিন পর হয়তো দাদা হয়ে যাবো। তাই অনেকের কথা সহ্য করি। তা না কিন্তু। মন কিন্তু আগের চেয়ে বেশি শক্ত আছে।    


অতীত ও বর্তমানের পুলিশ বিভাগের ফারাক প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ১/১১ এর সময় আমাকে এক ডিবির ওসির মাধ্যমে মাসদাইর থেকে আমাকে গাড়ি তোলা হলো। রাইফেল ক্লাবের সামনে এসে নামানো হলো। তখনকার পুলিশ, ওসি তাকে স্যালুট করি। এসপি। এরা হলো অরিজিনাল। এখন তো সবাই আওয়ামী লীগ। এখন তো আওয়ামী লীগ ছাড়া কাউরে দেখি না। 


তখন সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ প্রায় ৫ হাজার ছিলো। রাইফেল ক্লাবে ওই ওসিকে নামিয়ে চাষাঢ়ায় নিজের মহল্লায় ঢুকে গিয়েছিলাম। মাইকিং করে ১ লাখ লোক এলাকায় ঘিরে রেখেছিলো। ১৭ দিন কেউ ঢুকতে পারে নাই। আমরা কিন্তু ওই পদের খেলোয়ার। ওই সময় আমি বাইরে চলে গেলাম।   


তিনি আরও বলেন,  অনেকে বলে আপনি কি পুলিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। কার বিরুদ্ধে। এরা তো আমার ভাই হয়। সরকারের প্রশাসন সরকারের অংশ। প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে সরকারেরর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজ শামীম ওসমানের না। শামীম ওসমান এমন কোন কাজ করবেনা যা করলে দল ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আর কোথায়, কীভাবে কথা বলতে হয় সেটি আমি জানি। সাংবাদিকদের নেতা মন্ত্রী পদমর্যাদার ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে যখন কথা বলেছি তখন কিন্তু ছাড় দেই নাই। কাপড় যেমনে কাঁচে তেমনে কাঁইচা দিছি। 

 

শামীম ওসমান বলেন, নেত্রী শিখিয়েছেন সাদাকে সাদা বলো কালোকে কালো। যারা বুঝার বুঝে নিবেন। আল্লাহ দোষ গোপনকারীকে পছন্দ করেন। অনেকের দোষ জানি। কিন্তু তা বলবোনা। ধৈর্য্যধারণকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন। তাই ধৈর্য্য ধারণ করি। আল্লাহ আবার বলেছেন একগালে থাপ্পড় দিলে আরেকগালে থাপ্পড় দেয়ার অনুমতিও আল্লাহ দিছেন। ক্ষমাকারিকে আল্লাহ পছন্দ করেন তাই সবাইকে ক্ষমা করি।


জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীলের সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, য্গ্মু সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ্ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন বেগম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, নাজমুল আলম সজল, আব্দুল করিম বাবু, শফিউদ্দিন প্রধান, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজিমউদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মোহসিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর